প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] এই গতিতে টিকা দিলে দেশে সম্পূর্ণ টিকাকরণে সময় লাগবে ১০ বছর

বিশ্বজিৎ দত্ত: [২] দেশে কোভিডের গণ টিকাকরণের হার বেড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, গত সোমবার প্রায় ৮০ হাজার ব্যক্তিকে টিকা দেয়া হচ্ছে। এর আগে এই হার ছিল গড়ে ২২ হাজার। এই হিসাবে টিকাকরণের দিকে থেকে পাকিস্তানের চেয়ে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল পাকিস্তানের কোভিড জাতীয় কমান্ড ও অপারেশন সেন্টারের প্রধান আসাদ ওমর সেই দেশের গণ মাধ্যমকে জানিয়েছেন পাকিস্তানে একদিনে ৫ লাখ ২৫ হাজার ব্যক্তিকে টিকা দেয়া হয়েছে। এটি আগামী দিনে আরো বাড়বে । তিনি আশা করেন, এই হারে টিকাকরণ বৃদ্ধি পেলে আগামী ২/ ৩ বছরের মধ্যে পাকিস্তানকে শতভাগ টিকার আওতায় আনতে পারবেন।

[৩] উল্লেখ্য, বাংলাদেশ তার জনসংখ্যার ২.৬ শতাংশকে টিকার আওতায় আনতে পেরেছে। পাকিস্তান এই ক্ষেত্রে পিছয়ে রয়েছে। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ১.৮ শতাংশকে টিকা দিতে পরেছে। তবে সংক্রমণের দিক থেকে পাকিস্তান লকডাউন দিয়ে গত ১৫দিনে তাদের সংক্রমণের হার ৩. ৬ শতাংশ নামিয়ে এনেছে। বাংলাদেশে গত সোমবার পর্যন্ত সংক্রমণের হার ছিল ৩১.১ শতাংশ। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সমপরিমাণ ফাইজার ও মর্ডানার টিকা অনুদান হিসাবে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় টিকার যোগানদাতা দেশ হলো চীন। সেখান থেকে পাকিস্তান কম মূল্যে টিকা পেয়েছে। পাকিস্তানে রাশিয়ান ভ্যাকসিন বেসরকারিভাবে ২ ডোজ বিক্রি হচ্ছে ৫৪ ডলারে। আর রাশিয়ান ভ্যাকসিন বিক্রি হচ্ছে ২৭ ডলারে।

[৪] এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, মানুষ ও অর্থনীতি বাঁচাতে টিকার কোন বিকল্প নেই। দেশে টিকাকরণ নিয়ে সরকার সময়মতো পরিকল্পনা দিতে পারেনি। এখন যে গতিতে টিকা দিচ্ছে তাতে আগামী ১০ বছরেও দেশের সমস্ত মানুষকে টিকার আওতায় আনতে পারবে না সরকার। প্রতিদিন এখন টিকার সংখ্যা যদি ৮০ হাজার শুক্র, শনি, সরকারি ছুটি সব দিনই যদি টিকা দেয়া হয় তবে এক বছরে এই হারে টিকা দেয়া যাবে ৩ কোটি মানুষকে। কিন্তু প্রতি বছরই মানুষ বাড়ছে ৩৬ লাখ। এই হিসাবে দেশের সকল মানুসকে টিকার আওতায় আনতে হলে প্রায় ১০ বছরের কাছাকাছি সময় লাগবে।

[৫] জনস্বাস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী মনে করেন,”এখন প্রতিমাসে ১ কোটি লোককে টিকা দেয়া প্রয়োজন। কারণ টিকার কার্যকারিতা এক বছর। সেটা হলে এক বছরে সবাইকে টিকা দেয়া যাবে। কিন্তু ২৫ লাখ মানুষকে প্রতিমাসে টিকা দেয়া হলে অনন্তকাল ধরে দিতে হবে। কারণ এরইমধ্যে আবার পুরনোদের টিকা দিতে হবে।

[৬] প্রসঙ্গত করোনার প্রথম ধাক্কায় বাংলাদেশ ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে অক্সফোর্ড এস্ট্রেজেনকার টিকা ক্রয়ের একটি চুক্তি করে । এর আওতায় ৫০ লাখ টিকা সরবরাহও করে সেরাম ইনস্টিটিউট। পরে ভারতে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত করোনা টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এই সময়ে দেশে টিকাকরণ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তিতে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে চীনের সঙ্গে টিকা নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে। চীন তাদের টিকা বিক্রি করতে সম্মত হয়। একই সঙ্গে চীন ৫ লাখ সৌজন্য মূলক টিকাও সরবরাহ করে বাংলাদেশকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত