প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মির্জাপুরে গরুর হাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

মাজহারুল শিপলু: [২] কোরবানির ঈদের আর অল্প কয়েকদিন বাকি থাকলেও পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার খামারিরা। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের সকল পশুর হাট বন্ধ থাকায় হতাশা দেখা দিয়েছে গরু খামারিদের মাঝে। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হলেও হাট বন্ধ থাকায় গরু বিক্রি নিয়ে বিপাকে উপজেলার ১৫শ খামারি। তবে খামারিদের কথা চিন্তা করে অনলাইন প্লাটফর্মে কোরবানির পশু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক।

[৩] খামারিরা জানায়, এ বছর করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার সবচেয়ে বড় দেওহাটার হাটও বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। এতে করে বিপাকে পড়েছে উপজেলা ও পাশ্ববর্তী এলাকার হাজারো খামারি ও ব্যাপারিরা। করোনাসহ বিভিন্ন কারণে গো-খাদ্যের মূল্য অতিরিক্তহারে বেড়েছে। যেকারণে পশু লালন-পালনে অনেকেই হিমশিম খাচ্ছেন।

[৪] উপজেলার দড়িবহর গ্রামের এসকেএস এগ্রো ফার্মের তত্বাবধায়ক মো. সাদিকুর রহমান বলেন, ২০১৯ সালে ২০টি ষাড় গরু দিয়ে ফার্মটি কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরবর্তী বছরে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা ও করোনার কারণে লাভের মুখ দেখতে পাননি বরং ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য এবছর যেভাবে আবারও পশু লালন-পালন করা হয়েছে।

[৫] এসকেএস এগ্রো ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী আবুল কালাম জানান, মূলত আমার আগে থেকেই গরুর খামার করার শখ ছিলো এবং মহান আল্লাহতায়ালা আমাকে সেই তৌফিক দান করেছেন। খামারটি শুরু করার পর এখানে স্থানীয় কয়েকজনের কর্মসংস্থান হয়েছে। এবছর গরুগুলো বিক্রি করে লাভ হবে এমনটিই আশা করছি। খামারটি আরো বড় করার এবং অন্যান্য পশু লালন-পালনের চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে এবারও যদি পশু বিক্রি করা যেতে না পারে তাহলে এ অঞ্চলের খামারিরা একেবারেই পথে বসবেন। করোনার কারণে শেষ পর্যন্ত পশুর হাট চালু না হলে এ বছরও অর্ধেকের বেশি পশু অবিক্রিত থেকে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

[৬] উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় ১৫২৯জন খামারি রয়েছেন। ঈদকে কেন্দ্র করে খামারগুলোতে ২,৩৯৩টি ষাঁড়, ২৬০টি বলদ, ২৮টি মহিষ, ৬৮২টি খাসি ও ১৫৬টি ভেড়া লালন-পালন করা হয়েছে। শতভাগ বিক্রি হলে উপজেলার মানুষের চাহিদা পূরণ করে বাইরের এলাকায়ও এই পশুগুলো বিক্রি সম্ভব বলে।

[৭] মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার স্থায়ী হাট হবে। অস্থায়ী হাট হবে কি না এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি, তবে অস্থায়ী হাট হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর গরু কেনাবেচা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত