প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কুমেকে আইসিইউ ও অক্সিজেনের সংকট, বাড়ছে রোগীর চাপ

রুবেল মজুমদার : [২] কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. সাজিদা খাতুন জানান , চলতি সপ্তাহে হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি ক্রমেই বেড়েছে। এ হাসপাতালে করোনা ইউনিটে ৩০টি আইসিইউ বেড ও ১৮৬টি সাধারণ বেড রয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে কেরোনা রোগী ভর্তি রয়েছে ২২০ জন।

[৩] তাই জনগণ সচেতন না হলে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে আরও বাড়তে পারে। সম্প্রতি হাসপাতালের ১০৩ জন ডাক্তার বদলি হওয়ায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও জনবল সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে নার্স, আয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নতুন সবাইকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ করা যাচ্ছে না। নতুনদের সিলিন্ডার অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে।

[৪] সরেজমিন দেখা যায়, শয্যা সঙ্কটের কারণে অধিকাংশ রোগীর ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে। একাধিক নতুন মুমূর্ষু রোগীকে দেখা গেছে করোনা ইউনিটের নিচতলায় বেডের জন্য অপেক্ষা করতে। এছাড়াও রোগী নামানোর সিগন্যাল না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে অক্সিজেন লাগিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জেলার ১৭ উপজেলা ছাড়াও ফেনী, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসছেন রোগীরা।

[৫] কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসেন বলেন, করোনার প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় বর্তমানে সর্বোচ্চ শনাক্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মৃত্যু তো আছেই। সিটি কর্পোরেশনসহ ১৭ উপজেলায় বাড়ছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। সাধারণ মানুষের অচেতনতার কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন।

[৬] উল্লেখ্য, জেলা ছাড়াও বি.বাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী ,লক্ষীপুর, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে কমপক্ষে ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। বেডের তুলনায় অতিরিক্ত রোগীর কারণে করোনার ওয়ার্ডেই অতিরিক্ত বেড বসিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

[৭] ডাবলিং বেড বসানো সম্ভব হলেও সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত রোগীদের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেনের পরিবর্তে তখন তাদের অক্সিজেন সিলিন্ডার ও অক্সিজেন কনসুলেটর (বিকল্প উপায়ে অক্সিজেনের সরবরাহ) দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

[৮] আইসিইউর একটি বেডের জন্য করোনা ওয়ার্ডে চলছে হাহাকার।রোগীর স্বজনদের আর্তনাদ আর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে হাসপাতালের পরিবেশ। প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর চাপ। করোনা আইসোলেশন হাসপাতাল রোগী দ্বারা ইতোমধ্যে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে সুযোগ থাকছে না নতুন রোগী ভর্তি করার। গড়ে প্রতিদিন ৫০-৬০ জনের বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালটিতে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে।

[৯] এমনকি ফাঁকা নেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রও (আইসিইউ)। আইসিইউ সুবিধা পেতে করোনা রোগীদের মধ্যে হাহাকার পড়ে গেছে। আইসিইউয়ের সুবিধা পেতে রোগীদের মধ্যে দীর্ঘ সিরিয়াল পার করতেও হচ্ছে। ইতিমধ্যে কতৃপক্ষ ৫০০ অক্সিজেনের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। যা কয়েক দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে জানা যায়। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগেকেউ কেউ অনেক বিনামূল্য অক্সিজেনের সরবাহ করছেন ।

[১০] জেলার চৌদ্দগ্রাম এলাকার থেকে আসা আব্দুর রহিম নামের একজন বলে (৩৭) বলেন, রোববার দুপুর ১টায় হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে তার বাবা ভর্তি হয়েছে। বেড পাননি। অতিরিক্ত বেডে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের পরিবর্তে সিলিন্ডার অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তবে এখানের ডাক্তার-নার্সরা অনেক আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।বেড না পেয়ে বাবা নিয়ে করোনা ইউনিটি সামনে বসে আসি ।

[১১] জেলা মুরাদনগর উপজেলার থেকে আশি বছরে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে আসা আসমা বেগম জানান, সকাল ৭টায় মাকে নিয়ে আসছি। মায়ের অবস্থা সংকটপন্ন।অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই বলছেন ডাক্তারা ,শহরে ঘুরিও পায়নি ।ডাক্তার বলছে রাতে নাকি দিবে। ভাই আমরা এখন কই যামু।

[১২] হাসপাতালটির পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন নিজেই করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নতুন করে ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়া ডা. রেজাউল করিম ও করোনা আক্রান্ত হয়ে বাসা চিকিৎসা নিচ্ছেন।সর্বশেষ রবিবার (আজ) দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. সাজিদা খাতুন ।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত