প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: যখন ছবি কথা বলে

ডেইলি ষ্টার পত্রিকার ফেইসবুক পেইজে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ’র “রেহানা মরিয়ম নূর” ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেত্রী বাঁধনের কান ফেস্টিভেলে স্কার্ট পড়া একটি ছবি পোস্ট করেছে। ওরে মোর আল্লাহ! সেখানে কমেন্ট থ্রেড পড়ে আমি থ। এর আগে কান ফেস্টিভেলেই আরেকটি শাড়ি পড়া ছবি নিয়েও তুলপাড়। সেখানে শাড়ি পড়ছে ঠিক আছে কিন্তু কেন পিঠ দেখা গেল? আর এখানে পা কেন দেখা গেল? ডেইলি ষ্টার যারা পড়ে ধরে নেওয়া যায় তারা সবাই পুঁথিগত বিদ্যায় বেশ শিক্ষিত। আমি ভাবছি প্রথম আলোয় এইরকম ছবি দিলে সেখানে কি কমেন্ট হতো।
ওসব ছবিতে আব্দুল্লাহ সাদসহ অন্যান্য সকল পুরুষরা কিন্তু সবাই আগাগোড়া ওয়েস্টার্ন ড্রেসই পরেছিল। কেউ কিন্তু বলেনি বাঙালি সংস্কৃতির ড্রেস কেন পরেনি। কেন লুঙ্গি গামছা বদনা নিয়ে অনুষ্ঠানে যায়নি? বাঁধনতো একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সংস্কৃতির শাড়ি পরেই গিয়েছিল। কিন্তু তখন প্রশ্ন পিঠ কেন খোলা ছিল। বাঁধন একজন অভিনেত্রী। সেতো অভিনেত্রী। সে যখন যেখানে যাবে তখন সেই সংস্কৃতির আকার ধারণ করবে এবং সে সেটা খুব ভালোভাবে পেরেছে। বাংলাদেশের চলচিত্রে এখন অভিনেত্রীরা মিনি স্কার্ট পরে সেখানে সমস্যা নেই কিন্তু ওখানে কেন পরল তাতে বাঙালি সংস্কৃতি গেছে গেছে কি আহামরি।

মানুষের চোখ যে এত অশ্লীল হতে পারে। গতকালকেই আমি এক পোস্টে লিখেছিলাম মানুষের বাহিরের চোখ দিয়ে দেখার সীমাবদ্ধতা আছে। আসল চোখ অর্জন করতে হয়। আর সেই চোখ হলো জ্ঞান দ্বারা সৃষ্ট চোখ। বাহিরের চোখ যা দেখা যায় সেটার প্রসেস করে আমাদের জ্ঞান। সেই জ্ঞান না থাকলে অর্থ প্রসেস সঠিক হয় না। নারীর পা, পিঠ দেখলে যারা অশ্লীলতা বোঝে তারা আসলে অশ্লীল মানসিকতার। তারা দেখবে কিন্তু ভাব দেখাবে তারা পছন্দ করে না। একটি অনুষ্ঠানে মানুষ কি পরবে না পরবে সেটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের ব্যাপার। তাছাড়া একটি কথা আছে when you are in Rome do as the Romans do! এই ফেস্টিভ্যাল হচ্ছে ফ্রান্সে। সেখানে যেমন ড্রেস পরলে সে নিজে নিজেকে স্বচ্ছন্দবোধ করবে সে সেটা পরেছে। পুরুষরা কি পরল সেটা নিয়েতো কোন কথা শুনছি না। এমন দ্বিচারিতা কেন?
লেখক : শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত