প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চিররঞ্জন সরকার: আর কতো এমন আগুনে পোড়া লাশ দেখতে হবে

চিররঞ্জন সরকার: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকার হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানার আগুন লেগে মারা গেল ৫২ জন মানুষ। পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া সন্তানের খোঁজে হতভাগ্য স্বজনের আহাজারিতে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা ঢাকা মেডিকেল চত্বরের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। বাতাসে পোড়া-লাশের গন্ধ! কার ভুলে, কার পাপে, কার উদাসীনতায় আজ এমন ট্র্যাজিক মৃত্যু সংঘটিত হলো? আর কতো এমন আগুনে পোড়া লাশ দেখতে হবে আমাদের? আর কতোদিন এই দেশে বেঁচে থাকার জন্য জীবন্ত অঙ্গার হয়ে যেতে হবে? এই প্রশ্নগুলোই মানুষের বিষাদময় মনে ঘুরেফিরে আসছে!

যেকোনো আইন বা কোড মেনে চলার দায় কারখানার মালিক পক্ষের। আর কোড অনুসরণ নিশ্চিত করার দায় সরকারি কর্মকর্তাদের। আগুন লাগতেই পারেÑ সেটা দুর্ঘটনা- কিন্তু দাহ্যপদার্থের প্রভাবে আর ব্যবস্থাপনার অভাবে পুড়ে শত শত মানুষ কয়লা হয়ে যাওয়া মোটেও দুর্ঘটনা নয়, এটা একটা অপরাধ। আইনের ভাষায় যাকে বলা হয়Ñ ‘ক্রিমিন্যাল নেগলেজেন্সি’। সোজা কথা হলোÑ এই ঘটনার জন্যে দায়ী কারখানার মালিক, আর সরকারি পরিদর্শক, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের দায়িত্ব পালন না করে এই গণহত্যা ঘটিয়েছে। কোনো তদন্ত কমিটির নামে এই ক্রিমিনালদের আড়াল করার চেষ্টা করা না হয়। দ্রুত এই লোকগুলোর নামে মামলা করে তাদের গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।

গণমাধ্যমের উচিত ঘটনাকে করুণ রসে জারিত করে মানুষের করুণা সৃষ্টির চেষ্টা না করে ক্রিমিনালদের ছবি দেখানো। গণমাধ্যমকে বলবো, ক্রিমিনালদের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সহায়তা করুন। খুঁজে বের করুন সেই পরিদর্শক আর তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরÑ যাদের দায়িত্বে ছিলো ফায়ার কোড অনুসারে কারখানা পরিচালনার বিষয়ে। কার অবহেলা, কার অসচেতনতায়, কার দুর্নীতির কারণে এমন ট্র্যাজিক ঘটনা ঘটেছে– সেটা খুঁজে বের করাই এখন সময়ের দাবি।

যারা নিয়ম-আইন মানেননি, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতের ব্যাপারে এখনই কঠোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে হবে। ভবিষ্যতে আর এই ধরনের ঘটনা ঘটবে না, তা নিশ্চিত করতে হবে। মুনাফা লোভী ব্যক্তি আর দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি পরিদর্শকের কারণে যাদের নির্মম মৃত্যু হয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত