প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনাকালে বসছে না হাট: যশোরে ১২ হাজার খামারিরা বিক্রির জন্য ৯৬ হাজার পশু প্রস্তুত করেছেন

রহিদুল খান: [২] আসছে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রস্তুত যশোরের খামারিরা। কিন্তু করোনাকালে বসছে না হাট। ফলে কোরবানির পশুতে সুখবর দেখছেন না খামারিরা। তবে অনলাইনেই বিক্রি হবে পশু। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে গরু-ছাগল বিক্রি। মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে কেনাকাটা করা যাবে এখান থেকে। কিন্তু তেমন সাড়া পড়েনি কেনাবেচায়।

[৩] এদিকে করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলেই যশোর জেলায় দশটি হাট বসানোর পরিকল্পনা করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এরমধ্যে আট উপজেলায় আটটি ও সদরে দুটি। এই সকল হাটে মেডিকেল টিম থাকবে আটটি। আর গতবছর জেলায় ২৪টি হাট ছিল, মেডিকেল টিম ছিল ২৭টি। করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধির কথা চিন্তা করে কমানো হয়েছে হাটের সংখ্যা। তবে বিধিনিষেধ শিথিল হলে হাটের সংখ্যা বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা আছে কর্তৃপক্ষের।

[৪] জেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, জেলায় এ বছর ১১ হাজার ৭৭৫ খামারি ৯৬ হাজার ৩৭টি পশু প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে গরু ৪৪ হাজার ৫৫০টি, ছাগল ৫০ হাজার ৯৩৯টি, ভেড়া ২৭২টি ও অন্যান্য পশু ২৭৬টি। তবে এবছর জেলায় ৭১ হাজার ৭১০টি পশুর চাহিদা আছে। জেলার চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত পশু থাকছে ২৪ হাজার ৩২৭টি। এ সকল পশু বাইরের জেলায় রপ্তানির চিন্তা রয়েছে তাদের।

[৫] তিনি আরো জানান, জেলায় ১১ হাজার ৭৭৫ খামারির মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৮৬৬ জন খামারি পশু প্রস্তুত করেছেন ১১ হাজার ২৩৭টি, কেশবপুরে এক হাজার ৯৫৪ জন খামারি পশু প্রস্তুত করেছেন ছয় হাজার ৭৮৫টি, অভয়নগরে ৯৪০ জন খামারি পশু প্রস্তুত করেছেন পাঁচ হাজার ৩৮৩টি, ঝিকরগাছায় ৮৬৬ জন খামারি পশু প্রস্তুত করেছেন ছয় হাজার ৯০৪টি, শার্শায় ৯৭৫ জন খামারি পশু প্রস্তুত করেছেন সাত হাজার ২২৫টি, মনিরামপুরে চার হাজার ১৩৩ জন খামারি পশু প্রস্তুত করেছেন ৩৪ হাজার ৯৫০টি, চৌগাছায় এক হাজার ৪৭ জন খামারি পশু প্রস্তুত করেছেন ১৬ হাজার ১০৪টি ও বাঘারপাড়ায় ৯৯৪ জন খামারি পশু প্রস্তুত করেছেন আট হাজার ৪৪৯টি।

[৬] শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোড ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী অভিজিত রায় জানান, তিনি ১৫ লাখ টাকার বেশি খরচ করে তার ফার্মে ৩৮টি গরু প্রস্তুত করেছেন। প্রতিটি গরু লাখ টাকার উপরে বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করেন। তবে করোনাকালে হাট বন্ধ থাকায় তার চিন্তার শেষ নেই।

[৭] যশোর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, করোনার বিষয় চিন্তা করে এবার সব পশু অনলাইনে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। আমরা এর আগে পশু বিক্রয় করা হতো অনলাইন পশুর হাট নামে একটি ওয়েবসাইটে। এবার জেলা আইসিটি বিভাগ এটি উন্নত করে অ্যাপসের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়ার জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

[৮] অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সায়েমুজ্জামান বলেন, করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধির কথা চিন্ত করে পশু হাট অনলাইনে করা হয়েছে। এখানে ক্রেতা-বিক্রেতার তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী পশু কেনাকাটা করতে পারবেন। অনলাইনে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে জেলার পশু বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই অ্যাপসের কাজ শেষ হবে। তখন আমরা অ্যাপসটি চালু করতে পারবো। গতবছর অনলাইন হাটে অনেক সাড়া পাওয়া গেছে। আশা করা যায় ক্রেতা-বিক্রেতারা হতাশ হবে না।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত