প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিপু তৌহিদুল: স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সরকারি স্থাপনা নির্মাণের মান জঘন্য

দিপু তৌহিদুল: সরকারি কাজ কিভাবে করতে হয় সেটা দেখতে ও বুঝতে হলে একবার পাকিস্তান আমলে গড়ে ওঠা সরকারী কর্মচারীদের আবাসস্থল আজিম কলোনি দেখে আসা উচিত। সেই ১৯৪৭-৪৮ সালে গড়ে ওঠা কলোনির কিছু পুরাতন ভবন এখনো চমৎকার টিকে আছে। এরা শুধু টিকেই আছে না, দারুণ ভালো ভাবেই মজবুত রয়েছে। এর মানে পাকিস্তান আমল নিয়ে আমাদের যে সকল কথা বলা হয় তার মধ্যে বিশাল তথ্যগত গড়মিল রয়েছে। নিজ চোখের দর্শনকে জোর জবরদস্তি করে মিথ্যা বলে প্রমাণ করার মানে আপনি মিথ্যুক। মূলত দেশের রাজনীতিবিদ ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরাই নিজেদের দলীয় রাজনৈতিক ও আর্থিক স্বার্থে ইতিহাসকে ঘষামাজা করে প্রজন্মকে উপস্থাপন করেছে, এমনকি এটা এখনো চলমান। পাকিস্তান আমলে তৈরি করা বহু বহু সরকারি স্থাপনা আজো এই স্বাধীন বাংলাদেশ টিকে আছে, সেসব স্থাপনাও কিন্তু আজকের মতোই টেন্ডার ডেকে কন্ট্রাক্টর নিয়োগ করে তৈরি করা হতো এবং কাজ দেখভালটাও সরকারি কর্মচারীরাই করতো। অথচ স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সরকারি স্থাপনা নির্মাণের মান জঘন্য হয়ে গেছে। একটা স্থাপনা আজকাল ঠ্যালা ধাক্কা দিয়ে বড়জোর বছর দশেক চালানো যায়, কখনো কখনো নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই নোংরা সব কাহিনী গণমাধ্যমে যা আসে তাতে নিজেদের মাথা হেঁট হয়ে যায়।

১৯৮৮’র এরশাদ আমলে নির্মিত যে সরকারি ভবনে পিতার কল্যাণে বসবাস করেছিলাম সেটি ২০০৫ এর দিকেই পরিত্যাক্ত ঘোষিত হতে নিজের চোখেই দেখেছি। শতশত বছরের স্থাপনারা টিকে থাকতে পারে, আর এখনকার স্থাপনা যুগ পার করতে পারে না কি কারণে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলেই এরে তারে চোর কিংবা অমুক তমুক রাজনৈতিক দলকে গালাগাল করে পার হতে চেষ্টা করবেন, কিন্তু মূল সমস্যাটার গভীরে হাতই দেবেন না ভয়ের চোটে। এই ভয়টাই আসল সমস্যা, আর এটা তৈরি করে রেখেছে রাজনতিক দল ও তাদের নেতারা। কখনো কখনো রাজনৈতিক দল অন্ধ দাসরাও নিজ নিজ পছন্দের দলের হয়ে মারমুখি আচরণ করে। নাগরিক প্রশ্ন করতে শিখলে তাদের সমস্যা বেড়ে যাবে বলেই বাক-স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে মাঝে মধ্যে আলাপ আলোচনা উপরে উঠে দু’চারবার আর তলিয়ে যায় লক্ষ বার। আমরা বহু কিছুই দেখি কিন্তু কু অভ্যাস ও রাজনৈতিক চাপে পড়ে সত্যটা এড়িয়ে যাই, এটাকেই মিথ্যা আশ্রয় করে ভণ্ডামি সঙ্গে নিয়ে বেঁচে থাকার প্র্যাকটিস বলা উচিত, যে প্র্যাকটিসটা জাতি হিসেবে আমাদের কখনোই উচ্চ আসনে না বসিয়ে ব্যাক বেঞ্চার করে রাখবে। মিথ্যাচার পাপের কারখানা, এটা আমরা কখনোই বুঝবো না, বোঝাতে চাইলে জোর জবরদস্তি মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরবো। ওই যে বললাম, এটাই আমাদের শেখানো সংস্কৃতি। আমি তো এখনো ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশনটারে দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই, পারলে এমন কিছু একটা করে দেখান মিথ্যুক ও দলদাসরা, তাহলে এই সমালোচনা তুলে নেবো। তিক্ত কথন। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত