প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আহসান হাবিব: খেলা কখন আবার তার মহান উদ্দেশ্য ফিরে পাবে

আহসান হাবিব: শুধু খেলায় অংশগ্রহণ করতে মাঠে নয়, মাঠের বাইরে খেলা উপভোগ করতেও মানুষকে সভ্য হতে হয়। কারণ এটি খেলা, রাজ্য দখল কিংবা নারী জয়ের জন্য এটা কোনো যুদ্ধ নয়। খেলার উৎপত্তিই হয়েছে এসব আদিমতাকে পরিহার করার জন্য। মানুষ যখন হিংস্র ছিলো, তখন খেলা ছিলো না, ছিলো মারামারি। ক্রমে মানুষ হিংস্রতাকে জয় করতে, নিজের রিপুর বন্যতা কমাতে খেলা আবিষ্কার করে। এটা তার সংস্কৃতিবান হয়ে ওঠার একটা অসাধারণ ধাপ। খেলাকে মানুষ আনন্দের উপাদান হিসেবে উপভোগ করতে শিখতে শুরু করলো। জয় এবং পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে শুরু করলো। মানুষের তার আদিমতাকে নিজ ছেনি দিয়ে কেটে কেটে ক্রমে সভ্য হতে শুরু করলো। শিল্প সাহিত্যও এই কাজে তার ভূমিকা নিয়ে উপস্থিত হলো। খেলা, বলা যায়, মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার।

কতোরকম খেলা যে মানুষ আবিষ্কার করেছে, তার শেষ নেই। আমাদের শৈশবে আমরা কতোরকম খেলা খেলেছি। আজ পেছন ফিরে দেখি সেই খেলাগুলোই ছিলো আমাদের সেরা আনন্দ এবং আমাদের প্রাপ্তবয়স্ক মানস গঠনের প্রধান উপাদান। যে শিশুর শৈশবে খেলা নেই, তার মানসিক বিকাশ খণ্ডিত হতে বাধ্য। আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করি আমাদের শিশুদের জীবন থেকে খেলা হারিয়ে গেছে। বড়দের জীবন থেকেও খেলা হারিয়ে গেছে। খেলা এখন পুঁজির দাসে রূপান্তরিত হয়েছে। খেলা এখন রাজনীতি, মাফিয়া এবং অর্থনীতির নিয়ামক হয়ে উঠেছে। ফলে খেলায় এখন আর সেই নির্মল আনন্দ নেই। জয় পরাজয় নিয়ে আছে গোপন জুয়া এবং মারপ্যাঁচ।

সাধারণ মানুষ যার একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত খেলাকে উপভোগ করা, দেখছি তারাও দলে বিভক্ত হয়ে একে অপরের সঙ্গে মারামারিতে লিপ্ত হয়ে পড়ছে। আহত এমনকি নিহত হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার নিজ পছন্দের দলের হারে গলায় রশি ঝুলিয়ে আত্মহননে মেতে উঠছে। এরা সেই আদিম রয়ে গেছে, খেলা কি করে উপভোগ করতে হয়, এরা শেখেনি, তাদের সঙ্গে পশুদের কোনো পার্থক্য নেই। কখন থেকে খেলাটা তার মহান উদ্দেশ্যটা হারিয়ে ফেললো?

যখন থেকে এটি পুঁজির দাস হয়ে উঠলো। একজন খেলোয়াড় কেনাবেচার সামগ্রী হয়ে উঠলো। যখন প্রতিযোগিতার নামে সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তার মুখ্য হয়ে উঠলো। যখন থেকে খেলা জাত্যাভিমানের উপাদান হয়ে উঠলো। শুধু খেলা নয়, শিল্প সাহিত্যের সবকিছুই পুঁজির দখলে গিয়ে বিকিকিনির সামগ্রী হয়ে উঠেছে। এখন পৃথিবীর প্রতিটি বস্তুকণা থেকে শুরু করে সংস্কৃতির যাবতীয় পুঁজি নিয়ন্ত্রিত। যখনই পুঁজি এগিয়ে আসে, তখনই শুরু হয় মুনাফা লুটে নেয়ার কৌশল, শুরু হয় প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতার ফল যে জয় পরাজয়, তার ভিত্তিতেই গড়ে আধিপত্যবাদী নতুন সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি ফিরে মানুষকে আদিম বানিয়ে ফেলে। কথা ছিলো সভ্য হওয়ার, হয় বিকশিত অসভ্য। শুরু হয় মারামারি, ঝগড়া এবং রক্তপাত।

খেলা কখন আবার তার মহান উদ্দেশ্য ফিরে পাবে? যেদিন মানুষ, এই সভ্যতা পুঁজির মুনাফাবাদী শেকল থেকে মুক্তি পাবে। একটি বৈষম্যহীন পৃথিবী গড়ে উঠবে। এসবকিছু পাশে সরিয়ে আসুন, আমরা সাধারণেরা, খেলা উপভোগ করি, সংস্কৃতিবান হই, আনন্দকে উদযাপন করি। জয় হোক খেলার…। লেখক : উপন্যাসিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত