শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৭ জুলাই, ২০২১, ০৮:০৩ রাত
আপডেট : ০৭ জুলাই, ২০২১, ০৮:০৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দিনে টাইলস মিস্ত্রি, রাতের আঁধারে ভয়ঙ্কর দানব তারা

সুজন কৈরী: পাঠাও চালককে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রানা ওরফে হৃদয় (২০) ও উজ্জল আলী (২৪)। তাদের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায়। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যে ঘটনায় ব্যবহৃত মাটিতে পুঁতে রাখা চাপাতি এবং হাতুড়ি উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুজনই পেশায় টাইলস মিস্ত্রি। রাজধানীর বসুন্ধরা ও ভাটারা এলাকার বিভিন্ন স্থাপনায় তারা কাজ করতেন। এর আড়ালে তারা মূলত ওই এলাকায় রেকি করে এবং সুবিধাজনক স্থানে চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতি করতেন। গত ১২ মে আব্দুর রশিদ নামের একজন পাঠাও রাইডারকে ৭০ টাকায় ভাড়া করেন রানা। পরে তাকে নানা স্থান ঘুরিয়ে নিয়ে যায় পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায়। সেখানে আগে থেকেই রানার অন্য দুই সহযোগী ছিলেন। তারা পাঠাও রাইডার আব্দুর রশিদের মাথা, হাঁটু, উরু ও গোড়ালিতে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন ও সুইচ গিয়ার দিয়ে আঘাত করেন। পরে আব্দুর রশিদকে খালে ফেলে তার মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার পর খবর পেয়ে খিলক্ষেত থানা পুলিশ ভুক্তভোগীকে খাল থেকে উদ্ধার করে টঙ্গীর আহসানুল্লাহ মাস্টার হাসপাতালে ভর্তি করে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে এ ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বসুন্ধরা এবং মিরপুর ১৪ নম্বরে অভিযান চালিয়ে রানা ও উজ্জল আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বুধবার গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান বলেন, ভিকটিম আব্দুর রশিদের (৩২) বাড়ি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী এলাকায়। তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে লিফটম্যান ও ইলেক্ট্রিশিয়ান হিসেবে কাজের পাশাপাশি বাড়তি উপার্জনের জন্য নিজের পালসার মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার করেন। বসুন্ধরার আফরোজার রোড যাওয়ার কথা বলে গত ১২ মে সন্ধ্যায় আব্দুর রশিদকে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে থেকে ৭০ টাকা চুক্তিতে ভাড়া করেন রানা। পরে বাইকার আব্দুর রশিদকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মধ্যে এলোপাতাড়ি ঘোরানো হলে তিনি একপর্যায়ে থেমে যান। এরপর পূর্বাচলে যাওয়ার কথা বললে ৭০ টাকার পরিবর্তে ১৫০ টাকা ভাড়া দাবি করেন তিনি। আরোহী যুবক বাইকার আব্দুর রশিদকে নিয়ে যান ৩০০ ফিট পূর্বাচলগামী এক্সপ্রেস ওয়ের অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পশ্চিম পাশে।

সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন রানার আরও দুই সহযোগী। তাদের একজন ১ হাজার টাকার নোট দেখিয়ে ভাড়া দিতে চাইলে বাইকার রশিদ খুচরা নাই বলে জানায়। তিনজন যুবক খুচরা টাকা খোঁজাখুঁজির ছলে হঠাৎ বাইকার রশিদের মাথা, হাঁটু, উরু এবং গোড়ালিতে এলোপাতাড়ি হাতুড়ি দিয়ে পেটাতে থাকেন। এক পর্যায়ে আব্দুর রশিদ মাটিতে পড়ে যান। তখন তিন ছিনতাইকারীর একজন চাপাতি দেখিয়ে আব্দুর রশিদকে চুপ থাকতে বলে অন্যজন সুইচ গিয়ার দিয়ে রশিদের গলা কাটতে যায়। আব্দুর রশিদ ভয়ে চিৎকার করেন। কিন্তু পাশ দিয়েই যেতে থাকা শত শত চলন্ত গাড়ির কেউ তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি। গলা কাটতে না পেরে ছিনতাইকারী যুবকরা আব্দুর রশিদের পিঠের বাম পাশে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ধারালো সুইচ গিয়ার দিয়ে সজোরে আঘাত করে। নিস্তেজ হয়ে পড়লে মৃত্যু হয়েছে ভেবে ছিনতাইকারীরা তাকে ৩০০ ফিট রাস্তার পাশে খালে ফেলে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যান।

মশিউর রহমান আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত গ্রেপ্তার দুজন পেশায় টাইলস মিস্ত্রি। তারা ফেন্সিডিলে আসক্ত। টাইলস মিস্ত্রির কাজের আড়ালে তারা এর আগেও বিভিন্ন এলাকা রেকি করে ও সুবিধা মতো চুরি ছিনতাই চালিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। পাঠাও এর একটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করার জন্য তারা একাধিকবার বসুন্ধরা এবং পূর্বাচলগামী এক্সপ্রেসওয়ে রেকি করেছেন বলেও জানান।

তিনি বলেন, ছিনতাই করা মোটরসাইকেলটি তারা চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা নিয়ে নয়ন নামে দালালের কাছে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সহযোগিতায় মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িত অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

  • সর্বশেষ