শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৬ জুলাই, ২০২১, ০৭:৪৭ বিকাল
আপডেট : ০৭ জুলাই, ২০২১, ০১:৫১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে দুর্নীতির সত্যতায় আমতলীর ইউএনও মো: আসাদুজ্জামান ওএসডি

মো: সাগর আকন: [২] মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘর নির্মাণে অনিয়ম, টাকার বিনিময়ে ধনাঢ্যদের ঘর দেয়া ও দুর্নীতির সত্যতায় আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আসাদুজ্জামানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওএসডি করা হয়েছে ।

[৩] সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল ফাতহ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে ওএসডি করা হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

[৪] জানা গেছে, মো: আসাদুজ্জামান গত বছর ৪ সেপ্টেম্বর আমতলীত ইউএনও হিসাবে যোগদান করেন। যোগদানের পরই  ইউএনও অফিসকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত করেন। ইউএনওর আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন ওই কার্যালয়ের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো: এনামুল হক বাদশা। তার মাধ্যম ত্রাণের ঘরসহ বিভিন প্রকল্প থেকে হাতিয়ে নেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

[৫] অভিযাগ রয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় তিনি একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যান। তার দুর্নীতি থেকে রহাই পায়নি মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর অধীন দ্বিতীয় ধাপে আমতলীর হতদরিদ্রদের ৩’শ ৫০ টি ঘর। ওই প্রকল্পর ঘর প্রতি ৩০-৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ইউএনও মো: আসাদুজ্জামান এমন অভিযাগ ভুক্তভাগীদের। ঘর প্রতি বরাদ্দ এক লক্ষ ৯০ হাজার টাকা থাকলেও তিনি তার প্রতিনিধির মাধ্যমে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঘর নির্মাণ করেন।

[৬] এছাড়া তার কার্যালয়ের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর এনামুল হক বাদশার নিজ গ্রাম হরিদ্রবাড়িয়ায়ার টাকার বিনিময়ে ধনাঢ্য ব্যাক্তিদের ৩০টি ঘর বরাদ্দ দেন তিনি (ইউএনও)। ইউএনও মো: আসাদুজ্জামান ঘর নির্মাণে সুজন মুসুল্লী ও হাবিব গাজী নামর দুইজনকে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেন। তারা ঘর প্রতি ৩০-৪০ হাজার টাকা আদায় করে এনামুলের মাধ্যমে ইউএনওর হাত পৌঁছে দেয়। যারা টাকা দেন তাদের বাড়ীতেই পৌছে যায় ঘর নির্মাণের নিম্নমানের সামগ্রী।

[৭] ইউএনও ঘর বরাদ্দের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে গত ২৫ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন নজরে আসে বরগুনা জেলা প্রশাসক মো: হাবিবুর রহমানের। তাৎক্ষনিক তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই তদন্ত কমিটি ঘরের তালিকা তৈরিতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও টাকার বিনিময়ে ধনাঢ্য ব্যাক্তিদের ঘর দেয়ার সত্যতা পায়।

[৮] জেলা প্রশাসক মো: হাবিবুর রহমান ওই প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়। ওই প্রতিবদনের আলাকে রাষ্টপতির আদেশক্রমে সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল ফাতহ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে আমতলীর ইউএনও মো: আসাদুজ্জামানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওএসডি করা হয়।

[৯] এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। একই অভিযোগে গত ৫ মে তার কার্যালয়ের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো: এনামুল হক বাদশাকে সাময়ীক বরখাস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক মো: হাবিবুর রহমান।

[১০] খোজ নিয়ে জানা গেছে, কাউনিয়া গ্রামের জাহাঙ্গির ব‍্যাপারী ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের হরিদ্রাবাড়িয়া গ্রামের হামিদা বেগমের ঘরের সামনের পিলার ধসে গেছে। উপজলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ১১০ টি ঘরের অধিকাংশের নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি।

[১২] এছাড়া তালতলী উপজলা নির্বাহী অফিসার থাকাকালীন ত্রাণের ঘর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ঘর হস্তান্তরের আগেই বেহালা গ্রামের বিধবা উর্মিলা রানীর ঘর ভেঙ্গে পড়ে।

[১৩] জেলা প্রশাসক মো: হাবিবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, আমতলীর ইউএনও মো: আসাদুজ্জামানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা-ওএসডি করার আদেশের কপি পেয়েছি। আদেশ মোতাবেক তাকে ইতিমধ্যে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়