প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বৈদেশিক মুদ্রায় বন্ড ছাড়তে চায় এডিবি, অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে চিঠি

যুগান্তর: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে তহবিল সংগ্রহের জন্য ‘বাংলাদেশ অফশোর টাকা লিংকড বন্ড’ নামে একটি বন্ড ছাড়তে চায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এই নামে তারা বৈদেশিক মুদ্রায় বন্ড ছেড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করবে। সেখান থেকে পাওয়া অর্থ টাকায় রূপান্তর করে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে। এ ব্যাপারে অনুমোদন চেয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) একটি চিঠি দিয়েছে এডিবি।

সূত্র জানায়, ২৫ মে এ বিষয়ে এডিবি থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয় ইআরডিকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসির কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ২৩ জুন ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বন্ড ছাড়ার বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত উঠে আসে। সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে এসব তথ্য। উল্লিখিত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত হচ্ছে, ২০১৫ সালে সরকার বিদ্যমান আইনকানুন ও বিধিনিষেধ শিথিল করে ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি) বন্ড ছাড়ার অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু তাতে সুফল পাওয়া যায়নি। করোনা মহামারিকালীন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা সুবিধাজনক পর্যায়ে নেই। এডিবি বৈদেশিক মুদ্রায় অফশোর বন্ড ছেড়ে ওই অর্থ টাকায় রূপান্তর করে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে। বৈদেশিক মুদ্রার হার মাথায় রেখে বিবেচনা করলে বন্ডের কুপন রেটের বা সুদ হারের ঝুঁকি বাড়বে। তাছাড়া এখন বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রচুর পরিমাণ তারল্য অলস পড়ে আছে। এই মুহূর্তে অফশোর বন্ডের প্রয়োজন নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, এডিবি বৈদেশিক মুদ্রায় বন্ড ছাড়লে বাংলাদেশের রিজার্ভ বাড়বে। কিন্তু বর্তমানে স্থানীয়ভাবে অনেক অর্থ অলস অবস্থায় পড়ে আছে। এ মুহূর্তে বৈদেশিক মুদ্রা এলে তারল্যের পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এডিবি অফশোর বন্ড বা স্থানীয় মুদ্রায় বন্ড ছাড়লে দেশের জন্য ভালো হবে। এডিবির প্রতি দেশের মানুষের আস্থা আছে। তারা বন্ড ছাড়লে সে বন্ড মানুষ কিনবে। এতে বাংলাদেশের বন্ড মার্কেটেরও উন্নয়ন হবে। এই মুহূর্তে অফশোর বন্ড ভালো হবে না। তাছাড়া বন্ডের কুপন রেট বা সুদহার কত, কী পরিমাণ অর্থের বন্ড ছাড়া হবে বা এই অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করবে, সে বিষয় স্পষ্ট নয়।

বিএসইসি মনে করছে, মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ আয়ের দেশ হতে গেলে অনেক বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন আছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য আছে, ভবিষ্যতে তা না-ও থাকতে পারে। তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এডিবি অফশোর বন্ড ইস্যু করলে রিজার্ভ আরও বাড়বে। এক্ষেত্রে বাংলা বন্ড যেমন বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের নতুন পরিচিতি দিয়েছে, তেমনি এডিবির বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে দেশের পরিচিতি ও ভাবমূর্তি আরও বাড়বে। অবশ্য এডিবির ক্রেডিট রেটিং ভালো থাকায় স্থানীয় মুদ্রায় বন্ড ইস্যু করলেও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়বে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানান, বর্তমানে দেশের প্রচলিত আইনকানুন অনুযায়ী বন্ড ছাড়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই। সেক্ষেত্রে আর্থিক নীতি ও মুদ্রানীতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। যেহেতু বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বড় বড় বিনিয়োগের দিকে যাবে, সেক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতির দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অফশোর বন্ড বৈদেশিক মুদ্রায় ছাড়া হয় বলে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনেরই প্রভাব আছে। ইতিবাচক দিক হলো, এডিবির মতো আন্তর্জাতিক একটি সংস্থা বাংলাদেশের নামে বন্ড ছাড়তে চাচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারে বাংলাদেশের নাম যুক্ত হবে। দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে। নেতিবাচক দিক হচ্ছে, করোনার কারণে এখন সুদের হার ওঠানামা করছে। বন্ডের সুদ বেশি হলে তখন বাংলাদেশের ঝুঁকি বাড়বে। বন্ড ছেড়ে পাওয়া অর্থ বিনিয়োগ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। বন্ডের অনুমোদন দেওয়ার আগে এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত