প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা না আসা পর্যন্ত ১৪ লাখ মানুষকে দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষা করতে হবে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

শাহীন খন্দকার: [২] রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসিঅ্যান্ডএএইচ অপারেশনাল প্ল্যানের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক আরও বলেন, সরকারের কুটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। যে কোন সময়ে টিকা চলে আসবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তবে মিক্স এবং ম্যাচ পদ্ধতিতে টিকা অর্থাৎ প্রথম ডোজ এক কোম্পানির এবং পরের ডোজ আরেক কোম্পানির দেওয়া যাবে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নিয়ে সরকারের টিকা বিষয়ক ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল এক্সপার্ট গ্রুপ বা নাইটেগ-এর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে অধিদপ্তর। তবে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

[৩] এদিকে দেশে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন একশ’র উপরে মানুষ মারা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগে রয়েছেন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার কোভিশিল্ড টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় থাকা ১৪ লাখেরও বেশি মানুষ। কোভিশিল্ডের টিকার সংকট থাকায় এদের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখনও নিশ্চিত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দ্রুত সংক্রমণের কারণে পুরো দুনিয়া একটি বিপজ্জনক সময় পার করছে।

[৪] (ডব্লিউএইচও) সংস্থাটির প্রধান টেড্রোস আধানোম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন, করোনার অতি সংক্রামক এই ভ্যারিয়েন্টটি এরইমধ্যে বিশ্বের শ’খানেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ডব্লিউএইচও প্রধান বলেছেন, ডেল্টার মতো আরও সংক্রামক ভ্যারিয়েন্টগুলো দ্রুত অনেক দেশে প্রভাবশালী স্ট্রেইন হয়ে উঠছে। আমরা এই মহামারির খুব বিপজ্জনক একটি সময়ে রয়েছি।

[৫] রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে বাংলাদেশেও সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। আইইডিসিআর বলছে, দেশে সংক্রমণের ৮০ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে। দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিক সংক্রমণ হয়েছে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণেই প্রথমে সীমান্তবর্তী এলাকা, পরে এসব এলাকার আশেপাশের জেলা এবং এখন সেটা পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অন্যতম পন্থা টিকা নেওয়া। দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি করা কোভিশিল্ড টিকা দিয়ে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। সেরামের সঙ্গে তিন কোটি ডোজের চুক্তি থাকলেও সেখান থেকে দেশে এসেছে মাত্র ৭০ লাখ। ভারত টিকা রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় এই টিকা নিয়ে সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ।

[৬] ভারত সরকারের উপহার দেওয়াসহ দেশে কোভিশিল্ডের মোট টিকা এসেছে ১ কোটি ৩ লাখ ডোজ। সাত ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে এখন পর্যন্ত কোভিশিল্ড টিকা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ১০ হাজার ৯৭৯ জনকে। সে হিসাবে এই টিকার দ্বিতীয় ডোজ পেতে অপেক্ষায় রয়েছেন প্রায় ১৪ লাখের বেশি মানুষ।

[৭] এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক রোবেদ আমিন গত ২৬ জুন বলেন, সারা পৃথিবীতেই মিক্স এবং ম্যাচ পদ্ধতিতে টিকা অর্থাৎ প্রথম ডোজ এক কোম্পানির এবং পরের ডোজ আরেক কোম্পানির দেওয়া হচ্ছে। হয়তো ভবিষ্যতে আমরা এই পদ্ধতিতে এই সমস্যার সমাধান করতে পারবো।

[৮] তবে অধিদপ্তর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অপেক্ষা করছে নাইটেগের সিদ্ধান্তের। ডা. রোবেদ আমিন বলেন, তারা (নাইটেগ) এখনও সিদ্ধান্ত দেয়নি। আর সিদ্ধান্ত না দিলেতো আলটিমেটলি টিকা দেওয়া যাচ্ছে না। সুতরাং আপাতত আমরা বলবো, যারা অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের দ্বিতীয় ডোজও এ টিকাই নিতে হবে, (নাইটেগ) সিদ্ধান্ত না পাওয়াগেলে। সম্পাদনা: মেহেদী হাসান

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত