শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৩ জুলাই, ২০২১, ১০:৩৮ দুপুর
আপডেট : ০৩ জুলাই, ২০২১, ১০:৩৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] য‌শো‌রে ক‌রোনা রোগী‌র বে‌ডের জন্য হাহাকার

র‌হিদুল খান: [২] করোনার হটস্পট এখন যশোর। জেলায় শনাক্তের হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে করোনার ঢেউ। রোগীর চাপে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়েছে প্রায় চারগুণ। সিটের জন্য হাহাকার পড়ে গেছে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেড ও ইয়োলোজোনো। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অধিকাংশ রোগীকে ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

[৩] এদিকে গ্রামাঞ্চলে ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি ও জ্বরের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বর নিয়ে ভীতি থাকলেও করোনা পরীক্ষায় তেমন আগ্রহ নেই।

[৪] সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেড না থাকায় আক্রান্ত রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন প্রতিদিন। হাসপাতাল চত্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হওয়ার চিত্র এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে উঠেছে।

[৫] সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রামের রোগী হাসপাতালে দেরিতে আসছেন। এই রোগের তথ্য গোপন করে তারা বাড়িতে থাকছেন। অবস্থা খুবই খারাপ হলে তখনই হাসপাতালে ছুটছেন। এতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

[৬] সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডজোন ও ইয়োলোজোনে চিকিৎসাধীন আরও ৯জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এবং ৫জন উপসর্গ নিয়ে মারা যান। শুক্রবার যশোর জেলায় নতুন করে ২’শ ২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

[৭] হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আরিফ আহমেদ জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন চারজন। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডজোনে ভর্তি আছেন একশ’ তিনজন। এছাড়া, উপসর্গ নিয়ে ইয়েলোজোনে ভর্তি আছেন আরও ৬১ জন।

[৮] সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য কর্মকর্তা ডাক্তার রেহেনেওয়াজ রনি জানান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে সাতশ’ আটটি নমুনায় দুশ’ ১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছেন একশ’ ১৪ জন। এছাড়া, কেশবপুরে ২০, ঝিকরগাছায় ৩০, অভয়নগরে ১৯, বাঘারপাড়ায় ৬, মণিরামপুরে ৩, শার্শায় ২০ এবং চৌগাছায় ৫ জন রয়েছেন। এ পর্যন্ত জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার সাতশ’ ৫৭ জন। সুস্থ হয়েছেন সাত হাজার চারশ’ ৫৯ জন। মৃত্যু হয়েছে একশ’ ৫৪ জনের।

[৯] মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের মনিরুল ইসলাম জানান, তার স্ত্রীকে মণিরামপুরে কোনো হাসপাতালে ভর্তি করাতে না পেরে যশোর ছুটে এসেছেন। তার স্ত্রীর অক্সিজেন লেভেল ৮৩ থেকে ৮৫’র মধ্যে ওঠানামা করছে। দ্রুত তার চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনা ইউনিটে সিট খালি নেই। তাই ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা চলছে।

[১০] যশোর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের আলেয়া বেগম জানান, তিনি কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। গত ৩০ জুন তার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেয়া হয়। ২ জুলাই তার করোনা নেগেটিভ রেজাল্ট এসেছে। কিন্তু ডাক্তার তাকে হাসপাতালের ইয়োলোজোনো ভর্তি থাকতে বলেছেন। বেড খালি না থাকায় তিনি বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। তার মতো বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা অনেক করোনা রোগী শয্যা খালি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

[১১] যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আখতারুজ্জামান জানান, প্রতিদিন রেড ও ইয়োলোজোনে বেডের তুলনায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। সব থেকে খারাপ অবস্থা ইয়োলোজোনো। প্রতিদিন সেখানে গড়ে ৫০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। কিন্তু সেখানে শয্যা মাত্র ১৯টি। শয্যা বাড়াতে তিনি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে কথা বলেছেন।

[১২] এদিকে, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেন চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় চারগুণ। যারা রেডজোনে ভর্তি হচ্ছেন তারা প্রায় সবাই অক্সিজেনের জন্য হাহাকার করছেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরিফ আহমেদ বলেন, আগে প্রতিদিন দুশ’ ৫০ থেকে চারশ’ লিটার অক্সিজেনের চাহিদা ছিল হাসপাতালে। বর্তমানে তা বেড়ে দিনে আটশ’ থেকে এক হাজার লিটারে উন্নীত হয়েছে। তবে, অক্সিজেনের কোনো সঙ্কট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালে এখনো ৬৪ হাজার ঘনলিটার অক্সিজেন মজুদ রয়েছে।

[১৩] মৈত্রী মানবিক সহায়ক কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু বলেন, যশোরে যারা করোনা আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের মধ্যেও অক্সিজেনের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কমিটির পক্ষ থেকে তারা তিন দিনে ১৫ জনকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়েছেন। এখনো অনেকের চাহিদা রয়েছে। সম্পাদনা: হ্যাপি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়