প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে: উপাচার্য

শরীফ শাওন: [২] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত সমাজের সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্ব তৈরিতে এবং দক্ষ ও প্রকৃত মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ গড়তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শুভানুধ্যায়ীসহ সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে ঢাবি উপাচার্য বলেন, জ্ঞান আহরণ ও বিতরণের গৌরবগাঁথা নিয়ে শতবর্ষ পাড়ি দিয়েছে আমাদের প্রাণপ্রিয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

[৩] বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ঢাবির শতবর্ষপূর্তি উদযাপনে ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি একথা জানান।

[৪] এর আগে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, জাতীয় পতাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন উড্ডয়নের মাধ্যমে দিবসটির প্রতীকী কর্মসূচি শুরু হয়। উপাচার্য, কার্জন হল প্রাঙ্গনে একটি বুদ্ধ নারিকেল গাছের চারা রোপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে শত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন।

[৫] ভার্চুয়াল সভায় বিশিষ্ট ভাষাসৈনিক, কলামিস্ট ও বুদ্ধিজীবী সর্বজন শ্রদ্ধেয় আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গর্বিত ছাত্র। বছর বছর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন মেধা ,নতুন প্রতিভা যুক্ত হয়েছে। রমেশ চন্দ্র মজুমদার, স্যার এ এফ রহমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, মাহমুদ হাসান, অধ্যাপক মাহমুদ হুসেইন, বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী আরো অনেক খ্যাতি সম্পন্ন মানুষ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ছিলেন। বর্তমান ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান নিজে যেমন একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষার মান বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।

[৭] আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী আরও বলেন, গত শতকের পঞ্চাশের দশক ছিল বাংলাদেশের বাঙালির রেনেসাঁর কাল। শিল্পে ও সাহিত্যে, বিজ্ঞান চর্চায় পূর্ববাংলার বাঙালির নব উন্মেষের কাল। এই রেনেসাঁয় নেতৃত্ব দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ওই দশকেই এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়েছেন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তী দশকগুলোতেও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের মধ্যে অন্যতম বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার অনন্য নেতৃত্বে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতির কথা আজ বিশ্বময় নন্দিত।

[৮] এই বুদ্ধিজীবী জানান, প্রায় সাত দশক ধরে একুশের প্রভাত ফেরীতে যে গানটি গাওয়া হয় সেটি কবিতা হিসাবে লিখেছিলাম ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মুক্তিযুদ্ধেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অবিস্মরণীয়। পাকিস্তানি হানাদারেরা ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে এবং ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসে যে অসংখ্য বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয় তারা প্রায় সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা গেরিলা যুদ্ধে যোগদান করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস বিভাগের পুরানো ভবনের ছাদে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয়। একটি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার উদাহরণ সম্ভবত আর কোন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই। ৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণে, ‘যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে’ যে আহ্বান জানিয়ে ছিলেন সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই ঢাকার রাস্তায় প্রতিরোধ ব্যারিকেড তৈরি করে।

[৯] তিনি আরও বলেন, সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসন আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শাসকেরা নানা উৎপাত সৃষ্টি করেছিলেন। ছাত্রদের বিভ্রান্ত করে তাদের মধ্য থেকে সন্ত্রাসীও সৃষ্টি করেছিলেন। হলে ছাত্র ভর্তি এবং শিক্ষক নিয়োগে আগের নিয়ম নীতি অনুসরণ করা হয়নি। ফলে শিক্ষাব্যবস্থাতেও অরাজকতা দেখা দিয়েছিল। দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ফিরে আসার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজকতা দূর করার চেষ্টা শুরু হয়। এটা আমার প্রার্থনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এককালে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে পরিচিত ছিল। সেই নামে এবং গৌরবে সে যেন আবার উন্নীত হয়।

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত