প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খাদেমের পায়ের রগ কাটা মামলায় কিশোর গ্যাংয়ের নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

সুজন কৈরী: ঢাকা জেলার আশুলিয়ায় আলোচিত খাদেম নজরুলের পায়ের রগ কাটা মামলার প্রধান আসামি কিশোর গ্যাং রাকিব গ্রুপের প্রধান রাকিব হোসেন ও তার সহযোগী ইমন হোসেনকে সাভার ও আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন, চাইনিজ কুড়াল, দুটি ফোল্ডিং চাকু, চাপাতি ও ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, সোমবার ভোরে সাভারের হেমায়েতপুর এবং আশুলিয়ার নাল্লাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের হাতে যেসব অস্ত্র আসছে সেগুলো দেশের সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে। অবৈধ এসব অস্ত্রের রুট আমাদের নেই। কিন্তু সীমান্ত দিয়ে দেশে অস্ত্র প্রবেশ করছে। একটা সিন্ডিকেট আছে, সেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব অস্ত্র সংগ্রহ করছে। পরে এসব অস্ত্র দিয়ে অপরাধ করার চেয়ে মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনই বড় একটা কাজ। আবার অনেক সময় এসব অস্ত্র দিয়ে অপরাধও করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৪ মে আশুলিয়ার নাল্লাপাড়া এলাকায় মসজিদের খাদেম নজরুল ইসলামকে কুপিয়ে জখম করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক জানান, মসজিদের খাদেম নজরুল এক নারীর কাছ দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই টাকা দিতে দেরি হওয়ায় দুজনের মধ্যে বিরোধ হয়। এতে খাদেম নজরুলকে ডেকে হুমকি দেয়া হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নজরুল আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগের পর আদালতে মামলা করেন। মামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারী আলিম নামে একজনকে দিয়ে নজরুলকে শায়েস্তা করতে ঠিক করেন। পরে আলিম তার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে নজরুলকে কুপিয়ে জখম করে। এরপর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকদিন ধরে পালিয়েও বেড়িয়েছিল। এলাকাবাসী দোষীদের গ্রেপ্তারে মানববন্ধন করে। সবশেষ সোমবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, গ্রেপ্তার রাকিব ও ইমনের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের কিশোর গ্যাং গ্রুপ সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় ইভটিজিং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, খুনসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছিলো। প্রধান অভিযুক্ত আলিমকে গ্রেপ্তারে র‌্যাবের অভিযান চলছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, কিশোর বয়স থেকেই তারা দুষ্টু ও দুরন্ত। কিশোর গ্যাং বলে দেশে কোনো আইন নেই। কিশোররা জড়িত থাকে বলে আমরা কিশোর গ্যাং বলি। তাদের অনেক সঙ্গী সাথী আছে। তারা কোনো না কোনোভাবে মাদকাসক্ত। কিশোরদের মধ্যে ফিল বেশি কাজ করে, এতে তাদেরকে সহজে মোটিভেট করা যায়। তাই তাদের মাধ্যমে জমি দখল, মাদক ব্যবসা, কাউকে মারধর বা ভাড়াটিয়া মধ্যস্থতাকারী দালাল হিসেবে ব্যবহার করে। এসব কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আমরা কাজ করছি।

এদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে কিশোর গ্যাং অনিক-শাকিব গ্রুপের পাঁচ সদস্যকে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ আটক করেছে র‍্যাব-৩। আটকরা হলো- অনিক, শাকিব, সাব্বির হোসেন, আমল ইসলাম ওরফে সাহিল ও রবিন। তাদের কাছ থেকে ৯৫০ গ্রাম গাঁজা, দুটি সুইচ গিয়ার চাকু, দুটি স্টিলের ব্যাটন, তিনটি মেটাল চেইন ও তিনটি বক্সিং পাঞ্চার জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার র‍্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রাণী দাস বলেন, রোববার যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানিয়েছে, তারা আধিপত্য বিস্তারের জন্য দলবদ্ধভাবে মোটরসাইকেলের মহড়া দিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতো। এছাড়াও তারা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে রিক্সা, ভ্যান, সিএনজি ও বাস যাত্রীদের টার্গেট করে ব্যাগ ও পার্টস ছিনতাই করতো।

সড়কে দলবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মাদক সেবন করে তারা উñৃঙ্খল হয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতো। অর্থ উপার্জনের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করছিলো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত