প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রামেক হাসপাতালে: চলতি মাসে করোনায় শনাক্ত ও উপসর্গ নিয়ে ৩০১ জনের মৃত্যু

মঈন উদ্দীণ: [২] রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।  শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টার মধ্যে বিভিন্ন সময় মারা যাওয়াদের মধ্যে একজনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

[৩] হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, নতুন মারা যাওয়াদের মধ্যে রাজশাহীর চারজন, চাঁপাইনবাগঞ্জের দুইজন ও নাটোরের চার। এদের মধ্যে সাতজন পুরুষ ও তিনজন নারী।

[৪] এ নিয়ে চলতি মাসে (১ জুন সকাল ৬টা থেকে ২৭ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত) এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেলেন ৩০১ জন। এর আগে সবচেয়ে বেশী মারা যায় গত ২৪ জুন ১৮ জন এবং সবচেয়ে কম গত ১২ জুন চারজন।

[৫] পরিচালক বলেন, এ হাসপাতালে কোভিড ইউনিটে মৃত্যুহার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৭, মার্চে ৩১, এপ্রিলে ৭৯ ও মে মাসে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়। আর গত বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল আগস্ট মাসে ২৬ জন।

[৬] এদিকে চলতি মাসে বিভাগজুড়ে করোনায় সংক্রমণে ২৫দিনে ২৩৬ জনের মৃত্যু।

[৭]  বিভাগের আট জেলায় গত ২৫ দিনে ভয়াবহ ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী করোনা। ১ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৬৯৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মারা গেছেন ২৩৬ জন। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৯৯ জন। তবে সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৪৫৯ জন করোনা রোগী। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের দৈনিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এসব তথ্য জানা গেছে।

[৮] স্বাস্থ্য দফতরের সর্বশেষ (২৫ জুন) তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগে করোনা শনাক্ত দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৫৫ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩৬ হাজার ৯৯৪ জন। করোনায় বিভাগের আট জেলায় মারা গেছেন ৮০০ জন। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৫ হাজার ৩০৮ জন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ঈদুল ফিতরের পর ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ করেই বেড়ে যায় করোনা সংক্রমণ। প্রাণহানি পৌঁছায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে। বিভাগে করোনার হটস্পট হয়ে ওঠে পশ্চিমের এই জেলা। নমুনা পরীক্ষায় ২৯ জুন এখানকার সাতজনের শরীরে করোনার দ্রুত সংক্রামক ভারতীয় ধরন শনাক্ত করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)। এরপর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জারি করা হয় জোনভিত্তিক লকডাউন।

[৯] বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের হিসাবে, গত ১ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত রাজশাহীতে মারা গেছে ৫৭ জন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬১ জনের। বগুড়ায় মারা গেছেন ৫১ জন। নওগাঁয় প্রাণ হারিয়েছেন ২৯ জন। নাটোরে করোনায় ২০ জনের প্রাণ গেছে। সিরাজগঞ্জে ২৫ দিনে করোনায় মারা গেছে ৫ জন। পাবনায় মারা গেছে একজন। জয়পুরহাটে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন।

[১০] বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. নাজমা আক্তার জানান, সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ স্বাস্থ্যবিধি না মানা। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে লকডাউন সত্ত্বেও লোকজন অসচেতন হয়ে চলাফেরা করছেন। সংক্রমণ এড়াতে অবশ্যই বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এই অঞ্চলে সংক্রমণ সীমান্ত এলাকা থেকে হয়েছে। বৈধ কিংবা অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পারাপারের পর সংক্রমিত হয়েও বিষয়টি গোপন করেছেন লোকজন। অনেকেই মৃদু সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর গোপনে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ কারণেই  সংক্রমণ বেড়েছে।  সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

 

সর্বাধিক পঠিত