প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুনমুন শারমিন শামস: করোনার চেয়েও ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট অসুস্থ মানসিকতা

মুনমুন শারমিন শামস: মানুষকে শেষ অবদি যৌথ পরিবার কাঠামোতে ফিরে যেতে হতে পারে, নিজের স্বার্থেই, নিজের কল্যাণের প্রয়োজনে। যদি বিবাহ ব্যবস্থা টিকে থাকে অথবা বিবাহ ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে পার্টনারশিপে পরিবার গড়বার ধরণ চালু হয়, তাহলেও মানুষ এমনভাবে পরিবারটা গড়তে চাইবে, যে পরিবারে যৌথ বসবাসের রীতি আছে। করোনার পর আমরা আমাদের স্বাস্থ্য নিয়ে আতংকিত হয়ে পড়েছি। কিন্তু আমরা বুঝতেই পারছি না যে, করোনার চেয়েও ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট আমাদের সামনে ওৎ পেতে আছে। আর সেটা হলো মানসিক স্বাস্থ্য। এই পুঁজিবাদী দুনিয়ার মানুষে মানুষে বিচ্ছিন্নতা, শ্রমদাসত্ব আর অনুভূতিহীনতা আমাদের ভেতরে নানা রকম মানসিক সমস্যা তৈরি করছে। যার অন্যতম ভয়ংকর একটা হলো বিষন্নতা, ডিপ্রেশন। তার উপরে এই করোনা মহামারি, লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন, এসব সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক যোগাযোগহীনতা, আপনজনের স্পর্শহীনতা, স্বাভাবিক জীবন লন্ডভন্ড হবার অভিজ্ঞতা আমাদের এই ডিপ্রেশনকে আরো ভয়াবহ দিকে আগায়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা টেরও পাচ্ছি না। শুধু তাই না, ডিমেনশিয়া, আলঝেইমারর্স, সিজোফ্রেনিয়ার মতো নানান রোগ শোক বাড়ছে। বাড়ছে মাদকাসক্তি। মাদকাসক্তিও এক ধরণের মানসিক সমস্যা, এই সমস্যা মনের ভেতরে গেড়ে বসেছে বলেই মানুষ মাদক নেয়। এর উপরে বয়স বাড়ার সাথে সাথে নানা ধরণের মানসিক রোগ দেখা দিচ্ছে। অল্পবয়সীরাও বাদ পড়ছে না। তো, এই যে মানসিক সমস্যা, রোগ, কষ্ট, এর থেকে মুক্তি মিলবে কীভাবে? শুধু ওষুধ খেয়ে? ডাক্তারের কাছে দৌড়ে? নাকি এরও কোনো টিকা আবিষ্কার হবে? আমি বিশ্বাস করি, মানসিক রোগ থেকে উত্তরণের জন্য চাই, সুস্থ সুন্দর পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামো। চাই মানুষের সঙ্গ। চাই নিজেকে পরস্পরের সাথে যুক্ত সম্পৃক্ত রাখার অবস্থা, পরিস্থিতি ও মানসিকতা। একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত মানুষকে প্রিয়জন ঘিরে রাখলে, সাপোর্ট দিলে তবেই তার পক্ষে সুস্থ হওয়া সম্ভব। শুধু ওষুধ আর থেরাপিতে কোনো কাজ হবে না। আর এর জন্য যৌথ পরিবারের চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না। যৌথ পরিবারেই সম্ভব দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিয়ে প্রতিটা সদস্যের পাশে থাকা। যৌথ পরিবারেই সম্ভব নানাভাবে সময়গুলোকে আনন্দময় করে তোলা। যৌথ পরিবারেই সম্ভব নিজেকে নানাভাবে ব্যস্ত রাখা। যৌথ পরিবারই পারে মানুষকে আরাম দিতে। এখন অনেকেই যৌথ পরিবারের নানা খারাপ দিক তুলে ধরবেন। সেসব বলবার আগে ভেবে দেখুন, দোষগুলো কি পরিবার কাঠামোটির? নাকি যৌথ পরিবারে থাকা স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক, অসৎ কিছু মানুষের? আর এমন মানুষ তো যৌথ পরিবারেই থাকুক আর নিউক্লিয়ার পরিবারেই থাকুক, গোলযোগ বাঁধাবে সমানে। তাহলে সমস্যা তো তৈরি করি আমরা, যারা নিজেরা নষ্ট। অথচ যৌথতার যে নিরাপত্তা, যে নিশ্চিন্তি, যে আরাম, তা অনায়াসে উপভোগ করা সম্ভব যদি আমরা একটু কম্প্রোমাইজিং, একটু উদার, সুন্দর, সুস্থ মানসিকতার চর্চা করতে পারি। আমাদের অনেক ভাবার আছে। অনেক কিছু বদলে ফেলার আছে। সামনে কঠিন দিন। সেই দিনগুলো পাড়ি দিতে হলে নিজেদের বদলাতে হবে। সিস্টেম বদলাতে হবে। সুস্থ শিশু থেকে শুরু করে সুস্থ বৃদ্ধ,সকলের জন্য ভাবতে হবে। এই ভাবনায় মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বড় পরিসরে ভাবা দরকার। ভাবা দরকার কীভাবে এর থেকে উত্তরণ মিলবে। কীভাবে পরস্পরের গায়ে গা ঘেষে থেকে আমরা মনটাকে সুস্থ ফুরফুরে রাখতে পারবো। সুস্থ মন না থাকলে তো সভ্যতার চাকাই থমকে যাবে। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত