প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার হচ্ছে আদালত-পোস্ট অফিসে: ডিবি

মাসুদ আলম: [২] শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হাফিজ আক্তার বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার ভোর পর্যন্ত রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প, কোর্ট ফি ও এসব তৈরির সরঞ্জামসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-চক্রের মূলহোতা আবু ইউসুফ ওরফে পারভেজ ওরফে রানা, আতিয়ার রহমান সবুজ, নাসির উদ্দিন ও নুরুল ইসলাম ওরফে সোহেল।

[৩] তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ২০ কোটি ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা সমপরিমাণের ১৩ লাখ ৪০ হাজারটি জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প, ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ১৯ হাজার ৪৮০টি জাল কোর্ট ফি, জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প বিক্রির নগদ ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ১১৪ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, ৮টি মোবাইল ফোন, একটি পেনড্রাইভ, ডাক বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১১টি সিল, ২টি স্ট্যাম্প পরীক্ষার ইলেকট্রিক মেশিন, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের রশিদের কপি ৩০০ পাতা, একটি বড় প্রেস মেশিন, দুইটি কাটিং মেশিন, একটি ডাই কাটিং মেশিন, একটি পোলার পেপার কাটিং মেশিনসহ ১০০ কোটি টাকা সমপরিমাণের জাল স্ট্যাম্প তৈরির কাগজ, বিভিন্ন ব্যাংকের ১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার ১৮টি চেকের পাতা জব্দ করা হয়।

[৪] হাফিজ আক্তার বলেন, চক্রটি ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত কস্পিউটার এবং কালার প্রিন্টার ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে রেভিনিউ স্ট্যাম্প বিক্রি করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃতরা ২০১৯ সালে মাতুয়াইলের একটি গোপন ছাপাখানা বাসিয়ে বড় পরিসরে ব্যবসাটি শুরু করে। এরা প্রথম পর্যায়ে সুদক্ষ অপারেটর দ্বারা গোপন কোন ছাপাখানায় বিভিন্ন মূল্য মানের জাল রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প ছাপায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ছাপানো রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প গুলো ছাপাখানা থেকে জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে হোলসেলার ভেন্ডারদের কাছে পৌঁছে যায়। তৃতীয় পর্যায়ে হোলসেলারদের মাধ্যমে রিটেইলারদের দ্বারা ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছায়।

[৫] তিনি আরও বলেন, এ চক্রটি বিভিন্ন গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরি,সরকারি-বেসরকারি দপ্তর,বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান,বিভিন্ন পোষ্ট অফিস, আদালত, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ হাসপাতালে এ জাল রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি বিক্রি করে। এ ধরনের জাল স্ট্যাম্পের কারণে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে । জাল স্ট্যাম্প তৈরীর স্টেপ গুলো এতটাই নিখুঁত ছিল যে খালি চোখে এগুলো ধরার কোন সুযোগ ছিল না। কাগজগুলো হুবহু একই রকম। আসল স্ট্যাম্প মেশিনের নীচে ধরলে কালো কালো রেখা দৃশ্যমান হয় কিন্তু জাল স্ট্যাম্পের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত