প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চিকিৎসার আবর্জনাই সবচেয়ে ভয়াবহ বর্জ্য, ৬৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের নেই কোনো ব্যবস্থা

কালের কণ্ঠ: সঠিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা বর্জ্য শোধনের ব্যবস্থা নেই দেশের ৬৯.৮৬ শতাংশ বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা (হাসপাতাল) প্রতিষ্ঠানে। বেসরকারি খাতের দুই হাজার ৪২টি (৪৫.৮৭ শতাংশ) হাসপাতাল তাদের বর্জ্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার নির্ধারিত স্থানে ফেলে। এর বিপরীতে দুই হাজার ৪১০টি (৫৪.১৩ শতাংশ) হাসপাতাল বর্জ্য ফেলে খোলা স্থানে। এ ছাড়া কোনো সতর্কতামূলক ঘোষণা ছাড়াই এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬৪.২৯ শতাংশ আর্বজনা খোলা স্থানে ফেলে দেয়। সংখ্যার হিসাবে এ রকম হাসপাতাল দুই হাজার ৮৬২টি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুর্যের (বিবিএস) করা ‘বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা জরিপ ২০১৯’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব ভীতিকর তথ্য।

করোনার এই দুঃসময়েও সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠছে একের পর এক। এর মধ্যে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার পরিস্থিতি বেশি নাজুক। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স, রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকটও। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, চিকিৎসার আবর্জনাই সবচেয়ে ভয়াবহ বর্জ্য। এই বর্জ্য থেকেই ছড়াতে পারে নানা রকম রোগ। এ ছাড়া এ

বর্জ্য দীর্ঘদিন মাটিতে না পচার কারণে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাঁরা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য মূলত দুই ধরনের—ঝুঁকিমুক্ত ও ঝুঁকিযুক্ত। এ ধরনের বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা উচিত। সে নীতিমালা অনুযায়ী তারা বর্জ্য সংগ্রহ, আলাদাকরণ, শোধন ও অপসারণ করবে।

বিবিএসের জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশে মোট বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান (হাসপাতাল) রয়েছে চার হাজার ৪৫২টি। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক বর্জ্যের পরিমাণ ৬৭ হাজার ১৯৮ মেট্রিক টন। এর মধ্যে হাসপাতালগুলোর বর্জ্যের পরিমাণ ৭১.৬২ শতাংশ। ডায়াগনস্টিক সেন্টারে উৎপাদিত বর্জ্য ২৭.২০ শতাংশ, ক্লিনিকে ৬.৪৫ শতাংশ এবং ডেন্টাল ক্লিনিকের বর্জ্যের পরিমাণ ১.১৯ শতাংশ। এই খাতে শয্যাপ্রতি উৎপাদিত বর্জ্যের পরিমাণ ১.১৪ কেজি। বেসরকারি খাতে মোট শয্যা রয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার ১৮৩টি। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে তরল ও কঠিন বর্জ্য সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনার সুযোগ রয়েছে মাত্র এক হাজার ৩৪১টি প্রতিষ্ঠানের। এই সুবিধা নেই তিন হাজার ১১০টি হাসপাতালে, শতাংশের হিসাবে যা ৬৯.৮৬ শতাংশ।

চিকিৎসা বর্জ্য অপসারণ মূলত ৯টি পদ্ধতিতে করা হয়। পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহজ দহন পদ্ধতি। তবে হতাশার খবর হলো, এই পদ্ধতিতে বর্জ্য দহন করার জন্য যন্ত্র আছে মাত্র ৭৯৩টি বেসরকারি হাসপাতালে। শতাংশের হিসাবে তা ১৭.৮ শতাংশ। এই যন্ত্র নেই তিন হাজার ৬৫৯টি হাসপাতালে, শতাংশের হিসাবে যা ৮২.২ শতাংশ।

সারা দেশে মোট ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ১০ হাজার ২৯১টি। বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে দুই হাজার ৯১৮টি প্রতিষ্ঠান পরিশোধন ছাড়াই তাদের বর্জ্য নর্দমায় ফেলে দেয়। আর বাকি সাত হাজার ৩৭৩টি প্রতিষ্ঠান তাদের বর্জ্য পরিশোধন করে ফেলে দেয়। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে, এর ফলে বেশি দূষিত হয় নদী। কারণ এই জরিপে বলা হয়েছে, ৯ হাজার ৬০৪টি প্রতিষ্ঠান তাদের বর্জ্য ফেলে দেয় নদীতে।

জরিপে আরো বলা হয়, বেসরকারি হাসপাতালে একজন চিকিৎসকের (ডেন্টাল সার্জন বাদ দিয়ে) বিপরীতে মাত্র ০.৮৫ জন সেবিকা রয়েছে। ডেন্টাল সার্জনদের অন্তর্ভুক্ত করলে প্রতি একজন চিকিৎসকের বিপরীতে সেবিকার সংখ্যা দাঁড়ায় ০.৮৩। শয্যা ও সেবিকার অনুপাতে প্রতি ৩.৪৭টি শয্যার জন্য একজন সেবিকা দায়িত্ব পালন করছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত