প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মাদক বহনে অভিনব পন্থা-গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার ইয়াবা আর লরির তেলের ট্যংকে গাঁজা

বিপ্লব বিশ্বাস: [২] চালকুমড়া, বাঁশ,তরমুজ , আমের ঝুড়িসহ অভিনব পন্থায় আনা হচ্ছে মাদক ৷ এই মাদক কারবারীরা প্রতিনিয়তই কৌশল পাল্টিয়ে এবার ট্যাংক লরিতে তেলের বদলে আনছে গাঁজা। আর প্রাইভেট কারের সিলিন্ডারে গ্যাস বের করে তার ভেতরে আনা হচ্ছে হাজার হাজার পিস ইয়াবা৷

[৩] এই মাদক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিনিয়ত অভিনব কায়দা খুঁজছে এই মাদক করবারীরা ৷ এদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসা বাদে জানা যায়, ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বেশ কজন বড় মাদক ব্যবসায়ীর নাম তাদের ধরতেও চলছে অভিযান।

[৪] ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মাদকের চালান আসছে, ঢাকার প্রবেশপথে সতর্ক গোয়েন্দারা। তল্লাশি চলতে থাকে একের পর এক সন্দেহভাজন গাড়িতে। এক পর্যায়ে তেল বহনের ট্যাংক লরিতেও চলে তল্লাশি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজা-খুঁজিতেও মেলে না কিছুই। এক পর্যায়ে ট্যাঙ্কিতে আঘাত করলে ভেসে আসে ফাঁপা আওয়াজ। সন্দেহ বাড়তে থাকে গোয়েন্দাদের। খোলা হয় ট্যাঙ্কির ঢাকনা। নেই একফোঁটা তেল। ভেতরে দেখা যায় সারি সারি বস্তা। উদ্ধার হয় পঞ্চাশ কেজি গাঁজা। গ্রেপ্তার হন তিন জন।

৫৪] ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (গুলশান) উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, “বেশি টাকার লোভে ট্রাইভার, গাড়ির মালিক এবং মাদক ব্যবসায়ীরা সুদূর ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন যায়গায় এই মাদক পরিবহন করে নিয়ে যেত। তারা জানিয়েছে, এর আগে শত শত কেজি গাজা তারা পাচার করেছে।”
ইয়াবার চোরাচালান ধরতে গোয়েন্দা পুলিশের আরেকটি দলও অভিযানে। নিবন্ধন না থাকায় এই প্রাইভেটকারটির আরোহীদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ভেতরে চলতে থাকে তল্লাশি। এক পর্যায়ে গাড়ির পেছনে সিলিন্ডার খুলতেই মেলে ৫০ হাজার ইয়াবা বড়ি। গ্রেপ্তার দু’জন জানিয়েছে, গাড়িটি তেলে চললেও কেবল মাদক পরিবহণের জন্যই সিলিন্ডার লাগানো হয়েছে।

[৬] মশিউর রহমান বলেন, “যে গ্যাস সিলিন্ডার আছে তার ভেতর ২০ হাজার পিছ ইয়াবা বিশেষ কায়দায় ঢুকিয়ে টেকনাফের উখিয়া থেকে গাজীপুরে নিয়ে যাচ্ছিলো। কাদের কাছ থেকে নিয়ে এসেছিল, কাদের কাছে বিক্রি করতো গ্রেপ্তারকৃতরা সেই তথ্য আমাদের দিয়েছে।”

[৭] ইয়াবা ও গাঁজা চোরাচালানে জড়িত পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা বলছেন, বেশ কজন বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীর নাম পাওয়া গেছে। তাদের ধরতেও অভিযান চলছে। পাশাপাশি মাদকসেবীর সংখ্যা কমিয়ে আনতে পরিবার ও সমাজকে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান পুলিশের।

[৮] ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, “সবাই মিলে আমরা আন্তরিক হলে আমরা হয়তো ইফেক্টিভলি মাদক উদ্ধার করতে পারবো। মাদকসেবিদের ব্যপারে পরিবার বা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সচেতন করা নিয়ে সবারই একসাথে কাজ করতে হবে।
ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের ফাঁক-ফোকর বন্ধ করা না গেলে দেশে গাঁজা ও ইয়াবা ব্যবসার রাশ টেনে ধরা কঠিন, বলছেন গোয়েন্দারা৷

সর্বাধিক পঠিত