প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] প্রবাসী নারীদের আইডি হ্যাক করে হাতিয়ে নিতেন অর্থ

সুজন কৈরী: [২] ফিশিং লিংক ব্যবহার করে ফেসবুক হ্যাক করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম- মামুন মিয়া। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১টি মোবাইল উদ্ধার করে সাইবার পুলিশ।

[৩] গত ২১ জুন রাতে সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।

[৪] বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ফেসবুকে প্রবাসী নারীদের টার্গেট করে প্রতারণা করছিলেন মামুন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী নারীদের সঙ্গে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে পরিচিত হতেন। এরপর ফেসবুকের মতো দেখতে হুবহু নকল আরেকটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেই লিংক ইনবক্সে শেয়ার করে বলতেন, তিনি আমেরিকায় একটি ফটো কনটেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন। তার একটি ভোট প্রয়োজন। তাকে ভোট দেয়ার জন্য ওই লিংকে ক্লিক করে প্রবেশ করতে চাইলে নতুন করে ফেসবুকের আইডি ও পাসওয়ার্ড দিতে হতো। আইডি-পাসওয়ার্ড দিলে মামুনের কাছে ওই ফেসবুক একাউন্টের আইডি ও পাসওয়ার্ড চলে যায়। পরে মামুন ওই আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে ফেসবুকে প্রবেশ করে, ভিকটিমের ফেসবুক আইডি পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে। আর এভাবে নারীদের আইডি হ্যাক করে নিতেন ২০ বছর বয়সী মামুন।

[৫] এরপর নারীদের সেই আইডি ব্যবহার করে শুরু করতেন প্রতারণা। একই কায়াদায় নতুন আইডি হ্যাকের পাশাপাশি নারীদের আইডি ব্যবহার করে বাংলাদেশে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে অন্য আত্মীয়ের সহযোগিতার জন্য চাইতেন টাকা। এভাবেই প্রবাসী নারীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন নামের ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হয়ে ফিশিং লিংক ব্যবহার করে প্রবাসী নারীদের সঙ্গে প্রতারণা করতেন মামুন। মামুন টাকার বিনিময়ে ভিকটিমদের ফেসবুক একাউন্ট ফেরত দিতো, অন্যথায় ফেসবুক একাউন্ট তার দখলে রাখতো।

[৬] ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, মামুন মিয়া এসএসসি পাস। এই তরুণ নিজেকে অপ্রতিরোধ্য ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে বিভিন্ন নারীদের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন। স্থানীয় একটি ট্রেনিং সেন্টার থেকে আইটির ওপর একটি কোর্স করে প্রতারণা শেখেন তিনি। অভিনব কায়দায় প্রতারণার পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারীদের বলতেন, তার প্রতারণার কৌশল কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। কেউ তাকে ধরতে পারবে না বলে চ্যালেঞ্জ দিতেন মামুন। তাকে ধরতে পারলে ১ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

[৭] হাফিজ আক্তার বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে এর আগেও ফেসবুক হ্যাকের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছিল। এবার প্রবাসী নারীদের ফেসবুক আইডি হ্যাকের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

[৮] প্রতারণার মাধ্যমে আয় করা টাকা দিয়ে মামুন বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন জানিয়ে হাফিজ আক্তার বলেন, মামুনের বয়স কম হলেও তিনি প্রতারণায় সিদ্ধহস্ত। এরই মধ্যে তিনি বহু নারীদের আইডি হ্যাক করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দেশের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করলেও মামুন ব্যবহার করতেন দামি মোটরসাইকেল এবং আইফোন ম্যাক্স মডেলের মোবাইল ফোন।

[৯] আইডি হ্যাক করার পরে মানুষ ভুক্তভোগী নারীদের ছবি ব্যবহার করে ব্লাকমেইল করতেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। মামুন এখন দুই দিনের রিমান্ডে আছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আর আমরা তার মোবাইলটি ফরেনসিক টেস্ট করতে পাঠিয়েছি। রিপোর্ট এলে বিস্তারিত বলা যাবে।

[১০] ফেসবুক আইডি হ্যাক প্রতিরোধে ডিবির এই কর্মকর্তা সাতটি নির্দেশনার কথা বলেছেন। সেগুলো হলো- যাচাই না করে কোনো ধরনের ইউআরএল লিংক ক্লিক করা থেকে বিরত থাকা। কোন ইউআরএল লিংকে ক্লিক করার পর কোন ফেসবুক পেজে বা অন্য কোথাও রিডাইরেক্ট হলে লগইনের জন্য ফেসবুক আইডি-পাসওয়ার্ড প্রদান করা থেকে বিরত থাকা। ফেসবুক আইডিতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশনের সাথে একটি ই-মেইল এড্রেস যোগ করা। অথোরাইজড লাগইনস অপশন চেক করা। ফেসবুক আইডি বা মেসেঞ্জারে একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য ছবি ভিডিও কথপোকথন রাখা থেকে বিরত থাকা। মোবাইলে আসা নোটিফিকেশনে হ্যা-না ক্লিক করার আগে ভালোভাবে পড়ে নেওয়া। ফেসবুকে তিন থেকে পাঁচ জন ট্রাস্টেড কনটাক্ট যোগ করা।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত