প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাংলাদেশের উন্নতি ভারতের ঈর্ষার নয় স্বস্তির কারণ: যুগশঙ্খের সম্পাদকীয়

মাছুম বিল্লাহ: [২] বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে এক সম্পাদকীয়তে ভারতের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক যুগশঙ্খ এ কথা লিখেছে।

[৩] মঙ্গলবার পত্রিকাটি লিখেছে, প্রতিবেশির সমৃদ্ধি সব সময় ঈর্ষার কারণ হয় না, কখনও কখনও তা আনন্দের বার্তা বয়ে আনে। আর্থিক পরিবৃদ্ধির দিক দিয়ে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে, এ অবশ্যই এক সুসংবাদ। আজ থেকে ৫০ বছর আগে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যখন স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তখনকার পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সবক্ষেত্রেই ছিল চরম বিশৃঙ্খলা। পাকিস্তানিরা সব অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়ে গেছে, অর্থনীতি তলানিতে। বাংলাদেশ তখন বিশে^র সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর অন্যতম। ভবিষ্যত সম্ভাবনাহীন বাংলাদেশ সম্পর্কে তদানীন্তন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার তুলনা করেছিলেন ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র সঙ্গে। ভারত বা সোভিয়েত রাশিয়া যে সাহায্যই দিক না কেন, তা থেকে স্থায়ী ফললাভের কোনও সম্ভাবনা নেই। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, অনুৎপাদন এবং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থার ফলে ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অনাহার, অর্ধহার, অপুষ্টির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের সে যুদ্ধ ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেয়েও কঠিনতর। কিন্তু নবজাতক দেশটি অটুট দেশপ্রেম আর প্রণান্ত পরিশ্রমের ফলেই আজ উঠে দাঁড়িয়েছে।

[৪] পত্রিকাটি লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, উন্নয়ণশীল দেশের তকমা ছাড়িয়ে অচিরেই বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে, ত্রিশের দশকে বাংলাদেশ একটি স্বনির্ভর আর্থিক শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ দেশ পরিণত ২০৩০ সালে হয়ে উঠবে ২৮তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। তা যে অমুলক নয়, ইতিমধ্যেই এর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

[৫] যুগশঙ্খ লিখেছে, বিভিন্ন বিনিয়োগকারী দেশ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপর যে দেশের নির্ভরতা ছিল এখন সেই দেশ অন্যের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কাকে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্যের যে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ, এতে আন্তর্জাতিকমহলের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে এই দেশের প্রতি। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধীনস্থ ন্যাশনাল সিকিউরিটি কলেজের সিনিয়র নিসার্চ ফেলো এবং ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ড, ডেভিড ব্রিউস্টার এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছে যে বাংরাদেশ ক্রমশই এই অঞ্চলের এক প্রভাবশালী রাষ্ট্র হয়ে উঠছে।

[৬] সেখানে লেখা হয়েছে, ১৬০ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশে গত দুই দশক ধরে বার্ষিক ৬ শতাংশ জাতীয় গড় আয়ের মাত্রা অক্ষুণ্ন রেখে চলেছে। গত বছর (২০২০) বিশ^ব্যাপী করোনা অতিমারির আবহেও বাংলাদেশের জিডিপি ৫.২ শতাংশ ছিল। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সমীক্ষা অনুযায়ী ২০২১ সালে বাংলাদেশ গড় আয় ৬.৮ শতাংশ এবং ২০২২ সালে তা ৭.২ হতে পারে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু গড় আয় ছিল ২২২৭ মার্কিন ডলার, যেখানে ভারতের মাথাপিছু আয় ১৯৪৭ ডলার এবং পাকিস্তাওে ১৫৪৩ ডলার। আন্তর্জাতিক এই মন্দার সময়ে বাংলাদেশ কৃর্তৃক প্রতিবেশি শ্রীলঙ্কাকে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্যের ঘোষণা স্বভাবতই দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর জন্যে এক দৃষ্টি আকর্ষণের মতো ঘটনা। শুধু আর্থিক ক্ষেত্রেই নয়, মানব উন্নয়নের অন্যান্য সুচকেও বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্রুত এগিয়ে চলেছে, এবং এসব ক্ষেত্রে ভারত অনেক পিছিয়ে। সামাজিক ক্ষেহেত্র বাংলাদেমের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো।

[৭] পত্রিকাটি লিখেছে, করোনা অতিমারিতে সারা বিশ^ যখন বিপর্যয়ের মুখে, অর্থনীতি সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছে, সেই সময় যে সমস্ত দেশ তাদের আর্থিক পরিবৃদ্ধি জারি রাখতে সক্ষম হয়েছে, তন্মধ্যে বাংলাদেশে স্থান বিশে^ তৃতীয় এবং এশিয়ায় প্রথম। এই অর্জনকে কেউ উপেক্ষা করতে পারেন না। তাই বিশ^বিখ্যাত অর্থ বিষয়ক পত্রিকা ব্লুমবার্গ সাম্প্রতিক সংখ্যায় মন্তব্য করেছে, ‘সাউথ এশিয়া সোল্ড পে অ্যাটেনশন টু ইটস স্ট্যান্ডাউট স্টার বাংলাদেশ’ পত্রিকাটি লিখেছে ভারত ও পাকিস্তানের উচিত বাংলাদেশ থেকে দ্রুত উন্নয়নের পাঠ শিখে নেওয়া। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ছিল বাংলাদেশের চেয়ে ৭০ শতাংশ ধনী দেশ, আর এখন বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি ধনী দেশ।

[৮] বাংলাদেশের সমৃদ্ধি শুধু ভাবগত নয়, বস্তুগত দিক দিয়েও ভারতের জন্য খুব স্বস্তি ও আনন্দের বিষয়। বাংলাদেশ থেকে ভারত অনুপ্রবেশ একটা অন্তহীন সমস্যা। এ থেে সৃষ্টি হয় নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক টনাপোড়েন। অর্থনীতির দিক দিয়ে বাংলাদেশের ক্রমোন্নতি অব্যাহত থাকলে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের হার কমবে। অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজনীতির যে ডামাডোল তা থেকেও নিস্তার পাওয়া যাবে। প্রতিবেশীর সমৃদ্ধিতে ঈর্ষা নয়, ভারতে এই শাম্বত আদর্শের জয় হোক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত