প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাউজানের মাল্টা চাষে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের

কামরুল ইসলাম বাবু: [২] চট্টগ্রামের রাউজানে হচ্ছে মাল্টা চাষ। উপজেলা সদর ইউনিয়ন জয়নগর বড়ুয়া পাড়ার কৃষক প্রেমতোষ বড়ুয়া দুই একর জায়গায় মাল্টা চাষ করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

[৩] রাসায়িক কিটনাশকমুক্ত জৈব সার ব্যবহারে সফলতা পাচ্ছে কৃষকরা। বাগানের প্রতিটি গাছে ঝুলছে দুই থেকে আড়াই’শ মাল্টা। এমন দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য দেখে মাল্টা চাষে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের।

[৪] প্রেমতোষের তিনটি বাগানের মোট গাছের সংখ্যা মাত্র ৬’শ ৩৬টি। তিনি বাগান সৃষ্টি করেন ২০১৭ সালে। গতবছর তার বাগান থেকে ফলন পেতে শুরু করেন। এক’শ টাকা কেজি দরে বিক্রি প্রথমবার বিক্রি করেছেন একটন মাল্টা। এবছর এই কৃষক আশা করছেন ১০ থেকে ১২ টন ফল বিক্রি করবেন।

[৫] প্রেমতোষ জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত একজন কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে মাল্টার কলম সংগ্রহ করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইন্ট্রিটিউট হাটহাজারীর নার্শারী থেকে। তিনি বলেন, অনভিজ্ঞতার কারণে চারা লাগানোর কিছু দিন পর কিছু চারা মারা যাচ্ছিল। কৃষি বিভাগের লোকজনের পরামর্শে ঔষধ ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছিল না। এমন হতাশার মধ্যে সংকট উত্তরণের পাশে দাঁড়ান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাব্বির আহমেদ ও সান্জিব কুমার সুশীল। তাদের পরামর্শ ও নিজের চিন্তায় ইন্টারনেটে প্রবেশ করে মাল্টা চাষের উপর খ্যাতিমান গবেষণা করেন এমন ব্যক্তিদের পেইজে গিয়ে ধারণা নেন। বিশেষ করে ভারতীয় গবেষকদের লেখা পড়ে ধারণা নিয়ে বুঝতে পারেন মাটির গুনগত মানের কারণে চারা মারা যাচ্ছে। এরপর নিজের মেধা ও গবেষকদের নিদেশনা অনুসরণ করে তিনি সব চারা গোড়া থেকে প্রথমে কাঁদা মাটিমুক্ত করেন। পরে নিজের হাতে জমির মাটি পরিণত করেন দোঁআশ মাটিতে। এরপর চারার গোড়ায় দেয়া মাটির উপর গরুর গোবর, মুরগির খামারে সৃষ্ট বিষ্টসহ আরো কিছু উপকরণ দিয়ে তৈরী করেন জৈব সার। নিজের উদ্ভাবিত এই সার ব্যবহার করেন কলমের গোড়াই। এরপর থেকে পেতে থাকেন কাংঙ্খিত সফলতা। প্রেমতোষ বড়ুয়ার জানায়, মাটি পরিবর্তন ও নিজের তৈরী জৈব সারে চারার সতেজতা দেখে বুকে আশা সঞ্চার হয়। তখন থেকে সিদ্ধান্ত নেন বাগানের পরধি বাড়ানোর।

[৬] জানা যায়, এখন প্রেমতোষের তিনটি বাগানে বিনিয়োগ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মতো। তার আশা এবছর তিনি ১২ থেকে ১৫ টন ফল বিক্রি করতে পারবেন। ইতোমধ্যে অনলাইনে মাল্টা কিনতে অনেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

[৭] রাউজানের মাল্টা চাষ নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শার্ব্বির আহমেদ বলেন, প্রেমতোষ বড়ুয়ার বাগানের ফলন দেখে বুঝে নিতে হবে মাল্টা চাষের জন্য রাউজান অত্যন্ত উপযোগী। তবে প্রেমতোষ বড়ুয়ার মতো যারা বাগানের পরিচর্যা করতে পারবেন তারা পাবেন সফলতা। কলম থেকে পর্যায়ক্রমে ১২ বছর ফলন পাওয়া যায়। তবে রাউজানের প্রেমতোষ বড়ুয়ার বাগানের গাছে ফলন পেতে পারে ১৫ বছর পর্যন্ত। কারণ তিনি তার মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, সেই কারণে গাছের ফল দেয়ার আয়ুষ্ককাল বৃদ্ধি পাবে। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বাধিক পঠিত