প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আনু মুহাম্মদ: করোনাকালে জীবন-জীবিকার অসহায়-অনিশ্চিত অবস্থায়, মানুষের কাজের জায়গায় লাত্থি মারায় ক্ষমতাবানদের যেন খুব আনন্দ।

‘আপনারা চাকরির পেছনে দৌড়াবেন না, নিজে কাজ খুঁজে নেন, উদ্যোক্তা হন, ব্যবসা করেন’ এসব কথাবার্তা এরশাদ আমল থেকে শুনে আসছি। গত কিছুদিনে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের মুখে ঘন ঘন শুনলাম। স্কুল কলেজ হাসপাতাল সরকারি সেবাসংস্থাগুলোতে প্রায় ৫ লক্ষ পদ খালি পড়ে আছে। শিক্ষা চিকিৎসা সেবাদানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে লোকবলের অভাবে সংকট তৈরি হলেও এসব পদপূরণে কোনো আগ্রহ নেই সরকারের। অন্যদিকে কেউ যে নিজ উদ্যোগে কিছু করবে তার পথে হাজারো বাধা। সরকারি মাস্তানদের চাঁদা দিতে দিতে হয়রান হন নি এরকম কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। বড় ব্যবসায় ব্যাংক শুদ্ধ লোপাট হলেও ছোট ব্যবসায় ব্যাংক ঋণ দেবে না, ছোট দোকান নিয়ে বসলে পুলিশ সন্ত্রাসীদের লাঠিগুতা চাঁদাবাজী। কোনো কারণে পুঁজি হারালে, বিপদে পড়লে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নাই তার পাশে দাঁড়ানোর। ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি না দিতে পেরে কতোজন এলাকা ছেড়েছে তার হিসাব করা কঠিন।

জীবন-জীবিকার এরকম অসহায়-অনিশ্চিত অবস্থায়, করোনাকালে যখন আরও বিপদ তখন, মানুষের কাজের জায়গায় একের পর এক লাত্থি মারায় ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের যেন খুব আনন্দ। একবছর আগে এক কলমের খোঁচায় পাটকল বন্ধ করা হয়েছে, চিনিকল বন্ধ বা অচল, লক্ষাধিক মানুষ আয়ের পথ হারিয়েছেন। গার্মেন্টস থেকে কাজ হারিয়েছেন তিন লক্ষাধিক মানুষ। করোনকালে বহু কাজ বন্ধ। তারপরও যে লক্ষ লক্ষ মানুষ ব্যাটারী চালিত যান দিয়ে স্বাধীনভাবে চলার চেষ্টা করছিলেন, সেগুলোর সমস্যা বা ঝুঁকি দূর করার উদ্যোগ না দিয়ে, কোনো সময় না দিয়ে কয়েক ঘন্টার নোটিশে, তাদের কাজের পথও বন্ধ করা হয়েছে। এইসব মানুষ এখন কী করবে?

চুরি ডাকাতি তো বড় সাহেবরা করতে পারে, এই মানুষদের কী করার আছে? এইসব মৃত্যু পরওয়ানার সিদ্ধান্ত নিতে সর্বজনের টাকায় বড় বড় ভোম্বা সাইজের গাড়িতে ঘুরে বেড়ানো সাহেবদের কোনো সময় লাগে না।
অধ্যাপক অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত