প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রভাষ আমিন: চিৎকার করো মেয়ে, যতো দূর গলা যায়

প্রভাষ আমিন: ইন্টারনেট আসার পর মেয়েদের নির্যাতনের নতুন নতুন ওপায় বের হয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেলে প্রেমিক তাদের অন্তরঙ্গ সময়ের কোনো ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল করে। তাতে দুর্বিষহ হয়ে যায় মেয়েটির জীবন। কোনো মেয়েকে একবার ধর্ষণ করে তার ভিডিও করে রাখা হয়। তারপর সেই ভিডিও ভাইরাল করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বারবার তাকে ধর্ষণ করা হয়। আসলে যুগ যুগ ধরে সমাজ মনে করে আসছে মেয়েদের সব সম্ভ্রম তার শরীরে। তাই একবার ধর্ষণের শিকার হওয়া মানে মেয়েটি এটো হয়ে যাওয়া, অশুচি হয়ে যাওয়া। তাই ছেলেরা প্রেমে ব্যর্থ হলে মেয়েটিকে ‘নষ্ট’ করে দিতে চায়। এমনকি মেয়েদের অনেকে একই ধারণা পোষণ করে। মনে করে ধর্ষণের খবর ফাঁস হলে তার জীবন শেষ হয়ে যাবে। এ সুযোগটাই নেয় ধর্ষকরা। সময় এসেছে ঘুরে দাঁড়ানোর। প্রথম বুঝতে হবে, নারীর মর্যাদা, সম্ভ্রম তার শরীরে নয়। তার শিক্ষায়, জ্ঞানে, দক্ষতায়। ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধী ধর্ষক, ধর্ষিতার এখানে কোনো দায় নেই। তাই ধর্ষককে ফাঁসির দড়ি পর্যন্ত নিয়ে যেতে ঠাণ্ডা মাথায় আইনি লড়াই চালাতে হবে। কেউ ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দিলে, মুখের ওপর বলতে হবে, দে ভাইরাল করে। তাতে তোর মুখে সবাই থুথু দেবে, তুই ধর্ষক, তুই অপরাধী। আমরা গণমাধ্যমে ধর্ষিতার নাম-পরিচয় গোপন রাখি। কারণ পরিচয় ফাঁস হলে সমাজ তার দিকে বাঁকা চোখে তাকাবে। তাই সমাজের ভাবনাটাও বদলাতে হবে। ধর্ষিতার দিকে বাঁকা চোখে না তাকিয়ে ধর্ষককে ঘৃণার চোখে দেখুন। বিয়ের ব্যবস্থা না করে তাকে ধরিয়ে দিন।

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। ঘটনার চার দিন পর তিনি মুখ খুলেছেন। এই চার দিন তিনি অনেকের দ্বারে দ্বারে গেছেন। কিন্তু বিচারের উদ্যোগ তো কেউ নেয়ইনি। বরং আর দশটা মেয়ের মতো পরীমনির মুখও বন্ধ রাখার চেষ্টা হয়েছে। পরীমনি নিজেই বলেছেন, ‘আমাকে বলা হচ্ছিলো, তুমি নায়িকা, তুমি একথা বললে, ভাবো ইজ্জত কোথায় যাবে! ইজ্জত তো আমার হানি হয়েছে। এটার বিচার চাওয়া কি ইজ্জত যাওয়ার ব্যাপার! আমি তো জানি না। ‘দেখুন এখানে নায়িকা পরীমনি আর অজপাড়াগাঁয়ের নির্যাতিতা মেয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। পরীমনিকে নিয়ে এখন নানামুখী আলোচনা। তার লাইফস্টাইল, তার বিলাসিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন। তার সত্য মিথ্যা জানি না। তবে তিনি যে সাহস করে, ইজ্জতের কথা না ভেবে নিজের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার চেয়েছেন; এজন্য তাকে ধন্যবাদ। আমাদের মেয়েদের সাহসের সঙ্গে মুখ খুলতে হবে। সব ধর্ষকের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। ধর্ষকদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অশ্লীল স্পর্শ করে যেন কেউ পার পা পায়, ধর্ষণ করে যেন কেউ বিয়ের সুযোগ না পায়। একটা জিনিস স্পষ্ট করে মাথায় রাখতে হবে, ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের ঘটনায় নারীর কোনো দায় নেই। সব অপরাধ ধর্ষকের। চিৎকার করে সেই ধর্ষকের নাম সবাইকে জানিয়ে দিতে হবে। বাঁচতে চাইলে, বলতে হবে। মুখ বুজে থাকলে যুগের পর যুগ ধরে চলতে থাকা এ অবিচার চলতেই থাকবে। চিৎকার করো মেয়ে, যতো দূর গলা যায়। লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত