প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডা. অপূর্ব চৌধুরী: কি করে মানুষ চিনবেন?

ডা. অপূর্ব চৌধুরী:  বন্ধু নির্বাচন থেকে সঙ্গী সিলেকশন, কোম্পানি বা কাজের জন্যে লোক নিয়োগ থেকে জীবন চলার পথে কে ভালো, কে পর, কে আপন, কে নির্বোধ, কার মন্দ ভাগ কতটুকু, কার চরিত্র কেমন, এমনসব গুরুত্তপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে বেশিরভাগ মানুষ ভুল মানুষ ঠিক করে, ভুল মানুষকে নির্বাচন করে, ভুল সঙ্গী নিয়ে দুর্ভোগের শিকার হয় জীবনে । এমনসব সিদ্ধান্তগুলো হলো ইনভেস্টমেন্ট । সময়ের ইনভেস্টমেন্ট । অনেকের এমন করে মানুষ চিনতেই জীবন কেটে যায় । যখন চিনে, দেখতে পায় ভুল মানুষের ভরা চারপাশ । ভুলের সে খেসারত সময়ের কারেন্সি দিয়ে শোধ করে । বিনিময়ে নিজেকেই বলে কপাল পোড়া । অথচ নিজেই ভুলগুলো করেছে । নিজেই ভুলগুলো শুধরে নিতে পারে ।
ভালো মন্দ মিলেই মানুষ । কেউ পারফেক্ট নয় । প্রতিটি কাজ, পরিস্থিতি এবং মানসিকতার সাথে মিল খেতে কিছু যোগ্যতার বিচারের দরকার আছে । একজনের মাঝে সব যোগ্যতা বৈশিষ্ট্য খোঁজার দরকার নেই । যে কাজের জন্যে এবং নিজের সাথে যায়, এমন মানুষ হলেই চলে । সে মানুষকে সর্ব গুণে গুণান্বিত হওয়ার দরকার নেই । এটি মনে রাখতে হবে ।
তাহলে কি করে বুঝবেন মানুষটি আপনার জন্যে সঠিক কিনা ।
প্রথম : আপনার নিজেকে চিনতে হবে । আপনি কি চান, কি আপনার ভালো লাগে । যে নিজেকে চিনে, সে অন্যের মাঝে সহজে নিজের চাওয়াটা খুঁজে পায়, সহজে দেখতে পায় । যে নিজের ছায়াকেই দেখতে পায় না, তার কাছে মরীচিকাও বস্তুর মতো লাগে । অন্যকে বুঝতে নিজেকে বোঝা জরুরী ।
দ্বিতীয় : যে কাজটি, যে ধরনটি মানুষ বার বার প্রকাশ করে, সেটি তার স্বভাব । পুরো স্বভাব বোঝার চেয়ে এই রিপিটেটিভ একশন খুঁজে বের করা, লক্ষ্য করা, বোঝা । কোন ধরনটি নিজেকে ভিন্ন করে প্রকাশের জন্যে, আর কোন ধরনটি তার স্বভাবের অংশ হিসাবে পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, দুটোর পার্থক্য বুঝতে তার রিপিটেটিভ প্যাটার্ন গুলো কখন ঘটে, সেগুলো তার টেম্পর্মেন্ট কেমন রাখে, সেটা লক্ষ্য করলেই স্বভাবের নেগেটিভ পজিটিভ বুঝতে পারা যায় ।
তৃতীয় : বেশিরভাগ মানুষ নিজের রেপুটেশন হাই করতে একটি সারফেস ইমেজ দেখায় । এটিতে সিদ্ধান্ত নিলে ভুল সিদ্ধান্ত হবে । এমন সুপারফিসিয়াল কেরেক্টার সবার একটি মাস্ক । এটি মানুষ দশ জনের সাথে চলতে গিয়ে রপ্ত করে । শোভন দেখাতে গিয়ে স্বভাব ধূর্ত করে । এটিকে দোষ ভাবাও ঠিক নয় । এটি কমপ্লেক্স সমাজে কমপ্লেক্স মানুষগুলোর সাথে নিজেকে বাঁচিয়ে চলার ঢাল । কিন্তু আবার এটি পুরো স্বভাবও নয় । তাই তখন মানুষটির ভালো মন্দের তলানি বোঝা দরকার ।
চতুর্থ : অন্যের আবেগ বুঝতে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ জরুরী । অন্যের স্বভাব বুঝতে নিজের স্বভাব বোঝা দরকারি । অন্য কখনো নিজের সবটা দিয়ে ধরা দেবে না । যেটুকু প্রকাশ করে, তার মধ্যেই খুঁড়ে দেখার কৌশলী চোখ তৈরি করতে হবে । এই চোখ তৈরি হবে যখন নিজের ভেতর নিজের চোখটা যাবে । আবেগ চোখ নয়, আবেগ হলো চোখ বেঁধে রাখা । নিজেকে বুঝতে শিখলে একটি যৌক্তিক চোখ তৈরি হবে, যা একইসাথে অন্যের ভালো মন্দ বুঝতে এবং মানবিক হতে সাহায্য করবে ।
পঞ্চম : অধিকাংশ মানুষ জীবনের প্রথম বিশ বছর যা করে, বাকি ষাট বছর সেটারই পুনরাবৃত্তি করে । স্বভাবের ভালো মন্দ জীবনের এই প্রথম অংশেই তৈরি হয় । এই সময়ের নেগেটিভ প্যাটার্ন গুলো অনেকদিন তার পিছু পিছু থাকে । বেশিরভাগের জীবনে প্রথম অংশেই বড়ো ভুল গুলো হয়, ভুল শিখে । বয়স বাড়তে বাড়তে কিছু পজিটিভ গুণ আয়ত্ত করে, কিন্তু জীবনের বেশিরভাগ পরিশ্রম যায় এই নেগেটিভ প্যাটার্ন গুলো লুকোতে, সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে । মানুষ বুঝতে মানুষের এই নেগেটিভ অংশ ঘষা মজা করে কতটুকু নিয়ে চলছে তাকে বুঝতে হবে । তার পারফেক্ট কন্ডিশন জরুরী না । তার এই বেরিয়ে আসার চেষ্টাটি জরুরী । সংশোধনের সাথে সংশোধনের তাগাতাকে পজিটিভ দেখতে হবে । আর যার সেটাও নেই, সে বাতিলের দলে ।
ষষ্ঠ : কারো একটি গুণ স্ট্রং থাকে, কারো তার বিপরীতে তিনটি দোষ থাকে । তার গুণটি যদি সে কাজের উপযুক্ত হয়, তার গুণটি যদি বাকি তিনটি মন্দকে ছাপিয়ে যেতে পারে, তাহলে তার ক্যারেক্টারের স্ট্রেংথটাকে পজিটিভ ভাবতে হবে । ছুরির কাজ কাটা, কতো ভালো কাটতে পারে, সোনার বাট নাকি লোহার বাট দিয়ে বাঁধা, সেটা জরুরী না ।
সপ্তম : এটি মোটা দাগে বলি । ট্র্যাডিশনাল যে কথা গুলোই বেশিভাগ মানুষ বলে এবং লিখে: সিচুয়েশন হ্যান্ডেল, এডাপটিভ পাওয়ার, টিম ওয়ার্ক মেন্টালিটি কেমন, ধৈর্য্যের সীমা কতটুকু, এই কমন গুলো দেখতে হবে ।
চিকিৎসক এবং লেখক । জন্ম বাংলাদেশ, বসবাস ইংল্যান্ড ।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত