প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় অর্থনীতিতে সমৃদ্ধির ভিত্তি সোপান : রেজাউল করিম

মো. শহিদুল ইসলাম : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর পৃথিবীর প্রাচীনতম প্রাকৃতিক বন্দর এবং এই বন্দরে প্রাচ্য, প্রতীচ্য ও পাশ্চাত্য থেকে সুদূর অতীত কাল থেকে বণিক ও ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক সূত্রে আগমন ঘটেছে। তাই সামগ্রিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে আঞ্চলিক ও বৈশি^ক সংযোগের সূত্রধর। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় অর্থনীতিতে সমৃদ্ধির ভিত্তি সোপান। চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের সহায়ক শক্তি। তিনি আজ রোববার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ শাহজাহানের সাথে বন্দর ভবনে সাক্ষাৎকালে একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি সেবামূলক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। নিজস্ব আয়বর্দ্ধক প্রকল্প ও নগরীবাসীর প্রদত্ত কর এই প্রতিষ্ঠানের একমাত্র আয়ের উৎস। এই নগরীর সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মককান্ড পরিচালনা ও সেবার পরিধি সম্প্রসারণে যে আর্থিক সক্ষমতা প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে যথেষ্ট অপ্রতুলতা রয়েছে। চসিকের আয়ের বড় সূত্র ছিলো বন্দর হতে অকট্রয় থেকে প্রাপ্ত আর্থিক যোগান। কিš‘ অনেক দিন থেকেই অকট্রয় আদায়ের উৎসটি বন্ধ রয়েছে। ফলে চসিকের আর্থিক সক্ষমতায় বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

তিনি এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রামের উন্নয়নে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকা প্রয়োজন। শুধু চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি নগরীর উন্নয়নের সামঞ্জস্যতার বিষয়টি অত্যন্ত প্রনিধান যোগ্য। চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন না হলে বন্দরের গুরুত্বও থাকে না। এই বিষয়টি ভাবতে হবে এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ব্যাক আপ দিতে হবে। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে ট্যানেল নির্মাণ সম্পন্ন হলে দক্ষিণ তীরে নগরায়ন ও শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে এবং একের মধ্যে দু’টি নগরীর সৃষ্টি হবে। এর ফলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে। তাই দু’টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের পরিধি বাড়াতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বৃহত্তর স্বার্থে চট্টগ্রামের উন্নয়নে সহায়ক ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ শাহজাহান মেয়রের সাথে সহমত পোষণ করে বলেন, চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন একা চসিকের পক্ষে সম্ভব নয়। এই নগরীর সাথে জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের যোগসূত্রতা রয়েছে। তাই আমাদের একে অপরের সাথে সম্বন্বয় সাধন করে নগরকে আলোকিত করতে হবে এবং সমগ্র দেশকে পজিটিভ ব্যাক আপ দিতে হবে।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, এষ্টেট অফিসার মো. জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক্ষের সদস্য প্রশাসন ও পরিকল্পনা জাফর আলম, সদস্য প্রকৌশল নিয়ামুল আমিন, ডেপুটি কনজারবেটর ক্যাপ্টেন ফরিদ, সচিব ওমর ফারুক, প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেন খান, এষ্টেট অফিসার জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

 

সর্বাধিক পঠিত