প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিটকয়েন ক্রয়-বিক্রয় চক্রের অন্যতম হোতা হামিমসহ ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

সুজন কৈরী : [২]  রাজধানীর দারুস সালাম থানাধীন এলাকা হতে অবৈধ বিটকয়েন, ভার্চুয়াল মুদ্রা, ক্রিপ্টো কারেন্সি ক্রয়-বিক্রয় চক্রের অন্যতম হোতা হামিমসহ ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চক্রের হোতা হামিম প্রিন্স খাঁন (৩২), রাহুল সরকার (২১), সঞ্জিব দে ওরফে তিতাস (২৮) ও সোহেল খান (২০)।

[৩] রোববার ভোরে দারুস সালাম থানাধীন মাজার রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২টি ল্যাপটপ, ৫টি মোবাইল ফোনসেট ও ২টি ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

[৪] রোববার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সম্প্রতি র‌্যাবের গোয়েন্দা দল জানতে পারে, একটি চক্র অবৈধ ভার্চুয়াল মুদ্রা, ক্রিপ্টো কারেন্সি, বিটকয়েন লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। চক্রটি ডার্ক সাইট থেকে ভার্চুয়াল মুদ্রা, ক্রিপ্টো কারেন্সি, বিটকয়েন ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি কেনাবেচার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৪ এর অভিযানে চক্রের অন্যতম হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

[৫] তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা ভার্চুয়াল জগতে বা ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইট থেকে অ্যাকাউন্ট করে ভার্চুয়াল মুদ্রা, ক্রিপ্টো কারেন্সি, বিটকয়েন ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে। তারা মোবাইল ব্যাংকিং বা ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে বাংলাদেশি বেশকিছু অসাধু ডোমেইন হোল্ডার ও ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে অর্থ লেনদেন করে। তারা ভার্চুয়াল জগতে অবৈধ ডার্ক পর্নোসাইট থেকে পর্নোগ্রাফি ক্রয় করে। এরপর পর্নোগ্রাফিগুলো বেশি অর্থের বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে দেয়।

[৬] কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, চক্রটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে ভার্চুয়াল মুদ্রা, ক্রিপ্টো কারেন্সি, বিট কয়েন অত্যন্ত লাভজনক বলে প্রচারণা চালিয়ে যুবক-যুবতীদের অবৈধ লেনদেনে প্রলুব্ধ করতো। আগ্রহীদের তারা অর্থের বিনিময়ে ক্রিপ্টো কারেন্সি প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত।

[৭] এছাড়া তারা বেশকিছু আগ্রহীদেরকে প্রলুব্ধ করে। তারা তাদের কাছ থেকে নেওয়া কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গ্রুপের সাথে জড়িত, যেখানে বিটকয়েন ব্যবসায় আগ্রহীরা যুক্ত রয়েছে। গ্রুপের কয়েক হাজার সদস্য রয়েছে। তারা প্রতি মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা লেনদেন করে বলে জানা যায়। চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার হামিম। বাকীরা তার সহযোগি।

[৮] র‌্যাবের কর্মকর্তা বলেন, চক্রের অন্যতম হোতা হামিম ২০১৩ সালে ফরিদপুরের একটি কলেজ থেকে ইংরেজীতে বি.এ. (সম্মান) পাশ করেন। পরে তিনি ইউটিউবে ভিডিও দেখে কম্পিউটারের উপর পারদর্শীতা লাভ করে। এরপর ২০১৩ একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কম্পিউটারের উপর দক্ষতা লাভ করে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। পরে তিনি ক্রিপ্টো কারেন্সির উপর দক্ষতা লাভ করে প্রায় ৫০ এর বেশি জনকে বিটকয়েন লেনদেনের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। বিট কয়েন ছাড়াও হামিম লিটকয়েন, ডগকয়েন, ইথারিয়াম, ব্রাস্ট, ন্যানো ইত্যাদি লেনদেনের সাথে জড়িত। হামিম মূলত যুক্তরাষ্ট, যুক্তরাজ্য এবং কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ কার্যক্রম চালিয়ে দেশের বিপুল পরিমান অর্থ পাচার করছিলেন। তার বিরুদ্ধে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে অন্যের ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করে বিটকয়েন ক্রয় করে এই অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। ভার্চুয়াল জগতে তার ১৫ থেকে ১৬টি ওয়ালেট রয়েছে।

[৯] গ্রেপ্তার রাহুল একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে অধ্যয়নরত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার হামিমের সাথে পরিচয় হয়। পরে হামিমের মাধ্যমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে ২০২০ সালের শেষের দিকে সে বিট কয়েন লেনদেনের সাথে জড়িত হয়। তার বিনান্সসহ বেশ কয়েকটি ওয়ালেট রয়েছে।

[১০] গ্রেপ্তার সঞ্জিব ফরিদপুরের স্থানীয় একটি কলেজে অধ্যয়নরত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের পর থেকেই হামিম তাকে লাভবান হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিটকয়েন লেনদেনে উদ্ধুদ্ব করে। সে হামিমের কথায় উদ্ধুদ্ব হয়ে নিজের নামে বিটকয়েনে ক্লোনিক্স ও বেটরেক্স ওয়ালেট নামে একাউন্ট খোলে অর্থ লেনদেন করছিল।

[১১] গ্রেপ্তার সোহেল মূলত সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েভ ডেভেলপিং ও গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে অল্প কিছু অর্থ উপার্জন করতো। পরে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে চটকাদার বিজ্ঞাপনে লোভে পরে হামিমের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর বিটকয়েনে নিজের নামে ওয়ালেট খোলে এই অবৈধ লেনদেন করছিল। অনলাইনে তার বিনান্সসহ বেশ কয়েকটি ওয়ালেট রয়েছে।

[১২] কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বিটকয়েনের অনেক দেশে বৈধতা রয়েছে। মাইলেক্স ওয়ালেটের সাইটে গিয়ে যে কেউ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। সেখানে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা দিয়ে বিটকয়েন করে। সেই বিটকয়েন হামিম বা অন্যরা মাদক, রেপ্লিকা অস্ত্রসহ অন্যান্য জিনিস কেনাকাটা করতেন। সম্প্রতি ভয়ঙ্কর মাদক আইস কেনাবেচায় এই বিট কয়েন ব্যবহার করা হয়েছে। যারা এসব ভার্চুয়াল ওয়ালেটে বিটকয়েন অ্যাকাউন্ট করছে- তারা নকল ডকুমেন্ট, নকল এনআইডি, নকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত