শিরোনাম

প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২১, ১১:৩০ দুপুর
আপডেট : ২০ জুন, ২০২১, ১১:৩০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] ৮০ টাকায় কলা বিক্রি করে ২০ টাকা খাজনা!

আমিনুল জুয়েল: [২] বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম হাটে ৮০ টাকায় তরকারি কলা বিক্রি করে ২০ টাকা আর ৫ হাজার টাকার খাট কিনে ৫’শ টাকা খাজনা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই হাট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এর আগে বেশি টাকা খাজনা নেওয়ার অভিযোগে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই হাট থেকে কাঁচামাল কিনতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে হাট কর্তৃপক্ষ সাতদিন আগে মাইকিং করে এই হাটে কাঁচামাল আর বিক্রি হবে না বলে ঘোষণা দেন। এতে বিপাকে পরে হাটে কাঁচামাল নিয়ে আসা কৃষকরা। ঐতিহ্যবাহী এই হাটে ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দারা ছাড়াও পাশের নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলা থেকেও লোকজন আসেন বাজার করতে।

[৩] জানা গেছে, শুক্রবার ও সোমবার এই দু’দিন বসে ছাতিয়ানগ্রাম হাট। অতিরিক্ত খাজনা ধার্য করে তা উঠাতে না পারায় হঠাৎ মাইকিং করে হাটে বেচা-কেনা বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ। এতে বিপাকে পরে সাধারণ লোকজন, ব্যবসায়ী, কৃষক ও ক্রেতা-বিক্রেতারা। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ পেলে হাট কর্তৃপক্ষ তাঁদের হটকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। শনিবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় হাট কর্তৃপক্ষ পুনরায় মাইকিং করে প্রতিদিন বাজারে বেচা-কেনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। এতে করে কৃষকরা তাঁদের পণ্য প্রতিদিন বাজারে বিক্রি করতে পারবে। এ হাটে বাহির এলাকার বড় বড় পাইকারদের আসার রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। কারন অল্প পণ্য কিনতে পাইকাররা ডেইলি মার্কেটে আসবে না। এতে, ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবে এই এলাকার কৃষকরা।

[৪] ভুক্তভোগীরা বলছেন, উপজেলার অন্যান্য হাটের চেয়ে এই হাটের খাজনা বেশি তোলা হচ্ছে। সাধারণত অন্যান্য হাটে একমণ কাঁচামাল কিনলে খাজনা দিতে হয় ৪০ টাকা। কিন্তু হাট কর্তৃপক্ষ প্রতি মণে ৭০-৮০ টাকা দাবি করে পাইকরাদের কাছে। অন্যদিকে, সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিমণ কাঁচামাল বিক্রি করতে খাজনা ধরা হয় ৪০ টাকা। অর্থাৎ, এক মণ পণ্য কৃষকরা বিক্রি করলে দিবে ৪০ টাকা খাজনা। আর ওই পণ্যই একজন পাইকার কিনলে দিতে হবে ৮০ টাকা খাজনা। এই হাটে পাইকরারা অতিরিক্ত খাজনা দিয়ে আর কাঁচামাল কিনবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন।

[৫] কৃষকরা জানান, আমাদের উৎপাদিত পণ্য পাশের ছাতিয়াগ্রাম হাটে বিক্রি করি। হাট কাছে, তাই পরিবহণ খরচ কম। কিন্তু হাটে পাইকার না আসলে আমাদের পণ্য কোথায় বিক্রি করবো। কে কিনবে আমাদের এসব পণ্য। কাঁচামাল সাধারণত একদিন বা দু’দিন সতেজ থাকে। এজন্য সেগুলো বেশিক্ষণ আমরা বাড়িতেও রাখতে পারবো না। অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, রিজাদদারদের (হাট কর্তৃপক্ষ) খারাপ আচরণ এবং খাজনা বেশি তোলায় পাইকাররা এ হাটে মাল কিনতে আসতে চাইছে না।

[৬] ব্যবসায়ীরা জানান, অতিরিক্ত খাজনা উঠানোর জন্য আমরা ছাতিয়ানগ্রাম হাটে আসতে চাই না। হাট কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত খাজনার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। এজন্য, হাটটি পাইকারি ব্যবসায়ীদের হারচ্ছে। আর পাইকাররা মাল কিনতে হাটে না আসলে কৃষকরাও তাঁদের পণ্য আনবে না। ফলে হাটটিতে মালামাল বেঁচা-কেনা বন্ধ হবে। এতে উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বিড়ম্বনায় পরবে আশে-পাশের কৃষকরা। হাটের সাথে সংশ্লিষ্ট দু’শ মানুষের রুটি-রুজির পথও বন্ধ হবে।

[৭] হাটের খাজনা বৃদ্ধির বিষয়টি গুজবমাত্র উল্লেখ করে ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের সদস্য ও হাট ইজারাগ্রহণকারী প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খাজনা বেশি নেওয়া হলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে পারতো পাইকাররা। কিন্তু কোনো আলোচনা ছাড়াই কিছু পাইকার হাটে আসবেন না বলে ঘোষণা দেন। মূলত তিলকপুর কাঁচাবাজরের সোবহান সিন্ডিকেট ছাতিয়ানগ্রাম হাটের কাঁচামাল পাইকারদের উস্কে তোলে। এতে পাইকাররা হঠাৎই খাজনা বেশি তোলার অভিযোগে হাটে আসা থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেয়। বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল (সোমবার) বসে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ঐতিহ্যবাহী এই হাটকে যেকোন মূল্যে সচল করা হবে বলেও জানান তিনি। সম্পাদনা: হ্যাপি

  • সর্বশেষ