প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রবিউল আলম: ভারত কি সোভিয়েত ইউনিয়নের পরিণতি বরণ করতে চলছে!

রবিউল আলম: পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শাসনতন্ত্র নিয়ে গঠিত হয়েছিলো সোভিয়েত ইউনিয়ন, সুদীর্ঘকাল চলার পরে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টুকরো টুকরো হয়ে যেতে হয়েছে। বড় ঘর, বড় সংসার, বড় দেশ টিকিয়ে রাখার জন্য বড় মনের প্রয়োজন। বড় পদ-পদবির জন্য নিজেকে গঠন করতে হয় উদার মনে। ভারতের বিজেপি সরকার যেভাবে শুরু করেছেন, গরু খাবেন না, মসজিদ রাখবেন না, মুসলিম হলে নাগরিকত্ব দিবেন না, কাশ্মীরের অধিকার থাকবে না। গো-হত্যা মহাপাপ হলেও পাঠা বলীর বাঁধা নেই, হাজার হাজার গরু-মহিষ হত্যা করে বিদেশে পাচার করলে পাপ মোচন হবে। একই দেশে দ্বৈতনীতির কারণে মোদিজীর শাসন নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। সীমান্তে বাংলাদেশ ছাড়া বন্ধুহীন হয়ে পরেছে ভারত। অর্থনীতির অবস্থা প্রতিনিয়ত নিম্নমুখী, চীনের গর্জন মোকাবেলা ব্যয়বহুল।

জাতীয় ঐক্য ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশের সাফল্য আসেনি, ভারত এখনো পরিপূর্ণ শৌচাগার বানাতে পারেনি, তার ওপর সাধু-সন্ন্যাসীদের উৎপাতে করোনার ভয়াবহতায় দিশেহারা ভারত। মুসলিম ঐক্য বিনষ্ট হলে কতটা মুল্য দিতে হবে ভারতকে? মোদিজী কল্পনাও করতে পারছেন না। অমিত শাহ কুয়ার ব্যাঙ, এত বড় ভারতের কুলকিনারও খুঁজে পাবেন না, তার পরামর্শে বিজেপির উগ্রতা ভারতকে কতোটা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সফলতা ও বহিঃবিশ্বের বন্ধু গ্রহণ করতে পারবে? বিজেপির জয়যাত্রার পথ আবিষ্কার করেছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী, ভারতের অহিংস রাজনৈতিক গুরু মাহাত্মা গান্ধী। মুসলিমরা পাকিস্তানের চাইতে ভারতকে নিরাপদ মনে করার জন্যই ভারত এতোটা বড় হতে পেরেছে। কাশ্মীর ও ত্রিপুরার ঐক্যের কারণ অনুসন্ধানে তাই বলে। মোদি কি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করতে পেরেছেন?

একটি ধর্ম নিয়ে এই পৃথিবী চলতে পারে না। শুধু হিন্দুত্ব বাদ নিয়ে ভারতীয় ঐক্য টিকে থাকতে পারবে না। বিজেপির ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে, ভারতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বহিঃবিশ্বের বন্ধুত্ব পুনর্জাগরণের জন্য বিজেপিকে পরিবর্তন হতেই হবে। না হয় ভারত একদিন সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো টুকরো টুকরো হয়ে পড়বে। ভারতের মতো বৃহৎ বন্ধু রাষ্ট্রকে হারাতে চাই না বলেই আজকে লেখা, আমাদের স্বাধীনতা ও আমার জন্মস্থান বলেই ভারতের জন্য এতো ব্যথা অনুভব করি।

লেখক : মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত