প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বন্যহাতির আতঙ্কে সীমান্ত এলাকায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন গ্রামবাসী

ডেস্ক নিউজ: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বন্যহাতির আনাগোনা বেড়ে গেছে।

গেল ২৮ মে হালুয়াঘাট নালিতাবাড়ি সীমান্তের নালিতাবাড়ী উপজেলার ফেকামারী পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির আছাড়ে ও পা দিয়ে পিষে হালুয়াঘাট উপজেলার কুমুরিয়া গ্রামের সুখেন ঘাগরার ছেলে অপূর্ব চাম্বু গং (৪৫) নিহত হন।

এছাড়াও হালুয়াঘাট সীমান্তে ২০০৭ সালে হাতির আক্রমণে অন্তঃসত্ত্বা মা ও মেয়ে নিহতের ঘটনা মনে হলে এখনো আঁৎকে ওঠে এই এলাকার মানুষ।

গত কদিনে সীমান্তে বন্যহাতির তাণ্ডবে ফসল ও সম্পদহানি বেড়েই চলেছে। গেল ১৩ জুন রবিবার মধ্যরাতে সীমান্তবর্তী কড়ইতলী গ্রামের মোহর উদ্দিনের বাড়িতে তাণ্ডব চালায় বন্যহাতির দল। এতে তার টিনশেডের গোয়ালঘর ভেঙে যায়। শুধু তাই নয়, কড়ইতলী পার্কের লোহার নেট দিয়ে করা সীমানা প্রাচীরেরও ক্ষতি করে বন্যহাতি।

হাতিরা প্রায় প্রতিদিন দল বেঁধে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড় থেকে নেমে আসে এবং মানুষের বাড়িঘর ও ফলবাগান তছনছ করে দেয়। বর্তমানে আম, কাঁঠাল, কলাসহ বিভিন্ন ফলের মৌসুম হওয়ায় হাতির আক্রমণ বেড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের কড়ইতলী, ধোপাজুরি, চিরিঙ্গিপাড়া, কোঁচপাড়া, রঙ্গমপাড়া, গোবরাকুড়া এলাকায় হাতির আক্রমণ সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী নালিতাবাড়ির উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামেও হাতির দল প্রতিনিয়ই তাণ্ডব চালাচ্ছে।

ভারতের চেরেঙ্গপাড়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় হাতির দল খাবার খুঁজতে বাংলাদেশের এসব এলাকায় ঢুকে প্রতিনিয়ত হানা দিচ্ছে। এখানকার মানুষের রাত কাঁটছে নির্ঘুম।

ভূবনকুড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম সুরুজ মিয়া বলেন, আগে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কেরোসিন দিয়ে মশাল জ্বালিয়ে ফটকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কিছু যুবক রাতে পালাক্রমে পাহারা দিয়ে আসছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম। তাছাড়া এসব এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগ নেই। আমি একাধিকবার সৌর বিদ্যুতের স্ট্রিট লাইট দেয়ার জন্যও বলেছি। এটি পাওয়া গেলে অন্তত অন্ধকার থাকত না এবং হাতির দল এসব এলাকায় আসত না। এমতাবস্থায় প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ভারতীয় বন্যহাতির দল প্রতি বছরই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। তবে এ বছর হাতির প্রবেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি। গত এক মাস ধরে হাতির পাল তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভারতীয় বন্য হাতীর দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার বিষয়টি উপজেলা ও জেলা প্রশাসন অবগত আছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সূত্র: কালের কণ্ঠ, জাগো নিউজ

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত