শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৪ জুন, ২০২১, ০৬:৫০ বিকাল
আপডেট : ১৪ জুন, ২০২১, ০৬:৫০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] ' বিকাশ' এর নাম ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

রাজু চৌধুরী : [২] বিকাশসহ মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের অ্যাপকে প্রতারণার ফাঁদ বানিয়ে নানা পদ্ধতিতে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। এই রকম প্রতারক চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিএমপি মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগ।

[৩] তারা হলেন, মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার দারিয়াপুর ইউনিয়নের গোয়ালদাহ এলাকার শিশির কুমার বালার ছেলে মিঠুন কুমার বালা (২৬) ও একই থানার নাকোল ইউনিয়নের রায়নগর এলাকার মৃত আলীম মোল্লার ছেলে হামিদুল মোল্লা (২২)।

[৪] সোমবার ( ১৪ জুন) সিএমপি মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মাদ সালাম কবির জানান,
কোনো ব্যক্তি বিকাশে টাকা পাঠালে সঙ্গে সঙ্গে টাকার পরিমাণ, প্রেরক ও প্রাপকের মোবাইল নম্বর ভিডিও করে নিয়ে দ্রুত চক্রের অন্য সদস্যের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেয় তারা।

[৫] গ্রাহকের কাছে ফোন করে তথ্য হালনাগাদ, প্রলোভন ও অসুবিধার কথা বলে পিন, সিকিউরিটি বা ভেরিফিকেশন সংগ্রহ করে তারা। এরপর গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে থাকা সব টাকা নিজেদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করছে প্রতারকরা। সেই টাকাগুলো দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্যাশ করে প্রতারকরা।

[৬] এমনভাবে ফাঁদ পাতে যে, গ্রাহক কিছু বুঝে ওঠার আগেই অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। অনেক সময় 'এসএমএস' দিয়ে ব্যালান্স যোগ হওয়াসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে সরাসরি টাকা চাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি 'হেল্পলাইন' থেকে ফোন করে অ্যাকাউন্ট হালনাগাদ, নতুন অফার চালুসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহককে দিয়ে কয়েকটি 'বাটন' চাপিয়ে কৌশলে টাকা স্থানান্তর করে নেওয়া হচ্ছে অন্য অ্যাকাউন্টে। গ্রাহককে দিয়ে কিছু নম্বর চেপে মোবাইল ফোনের সিম ডাইভার্ট করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। প্রতারণার আরও নানা কৌশল অবলম্বন করে প্রতারকচক্র।

[৭] উপ-কমিশনার মোহাম্মাদ সালাম কবির আরও জানান, গ্রেফতারকৃত দুইজন অপরাপর ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বিভিন্ন কৌশলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। ​ চক্রের সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন বিকাশের দোকানে টাকা বিকাশ করার কথা বলে অবস্থান নেয়।

[৮] প্রতারক চক্রের সদস্যরা স্মার্টফোনের ক্যামেরা অন করে বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের দোকানে গিয়ে সুকৌশলে লেনদেন বইয়ের ভিডিও ধারণ করে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। একপর্যায়ে বিকাশের খাতার ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপে চক্রের সদস্যদের কাছে এলাকা উল্লেখ করে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ভিডিও দেখে বিভিন্ন গ্রাহকদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বিকাশ কর্মকর্তা সেজে সেসব নাম্বারে ফোন করে কৌশলে পিন নম্বর সংগ্রহ করে বিকাশ অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ আত্মসাৎ ও খুব কৌশলে তারা প্রতারণা করে থাকে।

[৯] এভাবে হাতিয়ে নেওয়া টাকা বিভিন্ন হাতবদল করে ক্যাশ আউট করে, ফলে প্রতারকদের অবস্থান শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে এজেন্টদের দোকান ঘুরে হামিদুল মোল্লা নম্বর সংগ্রহ করেছিল। নম্বর ভিডিও করে তিনি মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় আরেক সদস্যের কাছে পাঠিয়ে দেন। পরে মোবাইল ব্যাংকিং কর্মকর্তার পরিচয়ে ফোন করে ভেরিফিকেশন কোড চেয়ে নেওয়া হয়।

[১০] ওই কোড দিয়েই অ্যাপে ঢুকে পিন নম্বর পরিবর্তনের আবেদন জানায় প্রতারকচক্র। নতুন পিন নম্বর সৃষ্টি করে অ্যাকাউন্টের সব টাকা সরিয়ে নেয় তারা। হামিদকে একটি ভিডিওর জন্য ১০০ টাকা করে দিত চক্রটি। চক্রটির টাকা ক্যাশও করতেন হামিদ।

[১১] হামিদ মাগুরা জেলা থেকে কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী ও গত ছয় দিন চট্টগ্রামে অবস্থান করে বিভিন্ন স্থানে এজেন্টদের দোকান ঘুরে নম্বর সংগ্রহ করেছিল। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ফাঁদ পেতে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় একাধিক প্রতারক চক্র রয়েছে। প্রতারক চক্রের ১৩৫ জনের মতো সদস্য হবে। তারা কোনো কাজ কর্ম না করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ফাঁদ পেতে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কাজ করে। দৈনিক একাধিক মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে টাকা হাতানোর চেষ্টায় থাকেন।

  • সর্বশেষ