প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্বাসী ঋণ দেওয়ার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিউজ ডেস্ক: লোন এগেইনস্ট ট্রাস্ট রিসিপ্ট (এলটিআর) বা বিশ্বাসী ঋণ দেওয়ার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ৯০ দিনের বেশি এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের বেশি মেয়াদে এই ঋণ দেওয়া যাবে না। কোনো কারণে গ্রাহক নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে এক দফার বেশি মেয়াদ বাড়ানো যাবে না। একই সঙ্গে এই ঋণের নাম পরিবর্তন করে ‘আমদানি-পরবর্তী অর্থায়ন’ বা ‘পোস্ট ইম্পোর্ট ফিন্যান্সিং’ (পিআইএফ) নামে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আমদানি-পরবর্তী অর্থায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এই প্রথমবারের মতো একটি নীতিমালা করেছে। ওই নীতিমালায় এসব বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নীতিমালাটি রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সার্কুলারের মাধ্যমে জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, ভোগ্যপণ্য বা শিল্পে কাঁচামাল আমদানির নামে এলটিআর নিয়ে পরিশোধ না করা, পরে সেগুলোকে মেয়াদি ঋণে রূপান্তর করা এবং এসব অর্থ বিদেশে পাচারের অনেক নজির রয়েছে। এসব নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক তদন্তে জালিয়াতির ঘটনা উঠে এসেছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে এলটিআর খেলাপি হওয়ার ঘটনা। এসব জালিয়াতি বন্ধে এবং এলটিআর বা পিআইএফের ঋণের অপব্যবহার রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই কঠোর নীতিমালা করেছে। আগে এ ধরনের ঋণ দিতে তেমন কোনো কাগজপত্রের প্রয়োজন হতো না। জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের তাৎক্ষনিণভাবে এই ঋণ দিয়ে দিত। ফলে এর ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়, এলটিআর ঋণকে আগে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হতো। এখন থেকে এ ঋণকে পিআইএফ নামে অভিহিত করতে হবে। আগের কোনো এলটিআর মেয়াদি ঋণে রূপান্তরিত হয়ে থাকলে সেগুলোকে এখন পিআইএফ নামে চিহ্নিত করতে হবে।

আগে এলটিআরের মেয়াদ ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত হতো। এখন থেকে এর মেয়াদ কোনোক্রমেই ভোগ্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ৯০ দিন বা তিন মাস এবং শিল্পের কাঁচামালের ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের বা ছয় মাসের বেশি হবে না। কোনো কারণে পিআইএফ পুনর্গঠন বা পুনঃতফসিল করতে হলে এর যথার্থতা যাচাই করে নিতে হবে। একবারের বেশি কোনোক্রমেই তা নবায়ন করা যাবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ দিন বা এক মাস এবং শিল্পের যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে ৬০ দিন বা দুই মাস মেয়াদ বাড়ানো যাবে না। এই মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যাংককে সরেজমিন পণ্যের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। গ্রাহক পণ্যের অবৈধ মজুত সৃষ্টি করতে কৃত্রিমভাবে বাজারে পণ্যের সংকট সৃষ্টি করছে কিনা সেটিও নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, পিআইএফ বিতরণ করতে প্রতিটি ব্যাংককে একটি নীতিমালা করতে হবে। এটি পর্যদ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। পিআইএফ এবং এলসি দুটিই অনুমোদন করে দিতে হবে। পিআইএফের ক্ষেত্রে কোন কর্মকর্তা কী পরিমাণে ঋণ অনুমোদন করতে পারবে সে ব্যাপারে ক্ষমতার বিভাজন থাকতে হবে নীতিমালায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এর বেশি ঋণ দিতে পারবে না। এই নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ঋণঝুঁকি পদ্ধতি নিরূপণ এবং ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী পিআইএফ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট জামানত নিতে হবে। আগে এ ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জামানত নেওয়ার কোনো বিধান ছিল না। গ্রাহক পিআইএফের সদ্ব্যবহার করছে কিনা সেটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আমদানির দেনা শোধে কোনো ফোর্সলোন সৃষ্টি করা হলে তাকেও পিআইএফ সীমার আওতায় নিতে হবে। কোনো গ্রাহকের পিআইএফ বকেয়া থাকলে নতুন করে এ ঋণ দেওয়া যাবে না। তবে নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে বকেয়া হলে নতুন পিআইএফ সুবিধা দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণের মধ্যে বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আন্তর্জাতিক মন্দা-এসব কারণ যেগুলোতে গ্রাহকের কোনো হাত নেই। এসব ঋণ খেলাপি হলে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নবায়ন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে পিআইএফকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হবে। জামানত নিয়ে পুরো ঋণ ঝুঁকিমুক্ত করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, পিআইএফ ঋণখেলাপি হলে গ্রাহককে আর কোনো ঋণ দেওয়া যাবে না। একই গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ আমদানির ক্ষেত্রে পিআইএফ সুবিধা দেওয়া যাবে না।

পিআইএফ আদায় কার্যক্রম তদারকির জন্য প্রতিটি ব্যাংকে একটি করে ‘পিআইএফ মনিটরিং ইউনিট’ গঠন করতে হবে। এতে অর্থঋণ, ব্যাংকিং আইন কানুন ও বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পর্কে জানাশোনা আছে এমন সব কর্মকর্তাদের নিয়োগ করতে হবে। এর কার্যক্রম তদারকির জন্য একজন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দায়িত্ব দিতে হবে। প্রতিটি ঋণকে ইউনিট থেকে আলাদাভাবে তদারকি করতে হবে।

সূত্র : যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত