প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মহামারীতে এশিয়া জুড়ে বেড়েছে মাদক ব্যবসা

লিহান লিমা: [২] জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে মহামারীর সুযোগ নিয়ে মাদকব্যবসায়ীরা কয়েক’শ বিলিয়ন ডলারের সিনথেটিক মাদকদ্রব্য বাজারজাত করেছে। ২০১৯ সালের তুলনায় পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় মেথামফেটামিনের বিক্রি ১৯ভাগ বেড়েছে। সংস্থাটি ২০২০ সালে এই মাদকের বাজার মূল্য পরিমাপ না করলেও ধারণা করা হয় ২০১৯ সালে এর মূল্য ছিলো ৩০ বিলিয়ন থেকে ৬১ বিলিয়ন ডলার। সিএনএন

[৩]দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ইউএনওডিসির আঞ্চলিক প্রতিনিধি জেরেমি ডগলাস বলেন, ‘মহামারী যখন বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিকে থামিয়ে দিয়েছে তখন এই অঞ্চলে অপরাধী সিন্ডিকেটগুলো আধিপত্য বিস্তার জোরদার করেছে। তারা বাজার ও চাহিদা তৈরির নিরবিচ্ছিন্ন প্রয়াস করে যাচ্ছে।’

[৪]সংস্থাটির প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, এই মাদক সিন্ডিকেটগুলো অবৈধ ঔষধ তৈরি করতে কম নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক ব্যবহার করে। উৎপাদনের নতুন স্থান, পণ্য সরবরাহে নিত্য নতুন রুটসহ তারা নতুন ক্রেতাও খুঁজে বের করে যার ফলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে তাদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। মাদকপাচারকারী এই সিন্ডিকেট সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছেকম্বোডিয়া, লাওস , ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারে।

[৫]আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ যখন মহামারী ও জনস্বাস্থ্য সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তার সুযোগ নিচ্ছে সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠিগুলো। সবেেয় বেশি সরবরাহ বেড়েছে সস্তা মেথের। দাম কম রেখে ব্যবসায়ীরা এই অঞ্চলে এর চাহিদা ও ব্যবহার বাড়াচ্ছেন।

[৬]ইউএনওডিসির তদন্তে দেখা গিয়েছে, সবচেয়ে বেশি মিথ উৎপাদন হচ্ছে কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারের শান রাজ্যে। সেনাবাহিনী বেষ্টিত এই রাজ্যে মাদকব্যবসায়ীরা সেনাদের অর্থ যোগাচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। পাচারকারীদের ব্যবহৃত নিত্যনতুন রুটের একটি লাওস। মাদক পাচারের হাব হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে হংকংকে। ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালে হংকংয়ে মাদক জব্দের হার ১০গুণ বেড়েছে। মেক্সিকো থেকে আসা ৫’শ কিলোগ্রামের একটি চালান অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর সময় ধরা পড়েছে। মিয়ানমারের মেকং ও শান রাজ্যে রাসায়নিক সরবরাহ অক্ষুণ্ন রেখে উৎপাদন অব্যাহত রাখছেন ব্যবসায়ীরা।

[৭]জেরেমি ডগলাস বলেন, ‘মাদক পাচারকারীরা মিয়ানমারের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থার সুযোগ নিতে পারে। যখন অর্থনীতি ভেঙ্গে যায় তখন অবৈধ অর্থনীতি মাথাচাড়া দেয় ও আরো শক্তিশালী হয়েওঠে। আমরা সেই আশঙ্কা করছি।’

সর্বাধিক পঠিত