শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২১, ০৩:২৫ দুপুর
আপডেট : ১৩ জুন, ২০২১, ০৪:৫৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জি সেভেন নেতাদের চীনের হুঁশিয়ারি, দল বেঁধে দুনিয়া চালানোর দিন শেষ

রাশিদ রিয়াজ : তথাকথিত ধনী দেশগুলি দল বেঁধে দুনিয়া শাসন করবে এমন দিন চলে গেছে। তারা আর আগামী পৃথিবীর হর্তা-কর্তা-বিধাতা নয়। চলতি জি-৭ সম্মেলন নিয়ে এমনই সাফ কথা বলেছে চীন। শুক্রবার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে উন্নত দেশগুলির সামিটে যোগ দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাঁক্রো, জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি। এছাড়া জি-৭ গোষ্ঠীর সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভার্চুয়ালি নিজের বক্তব্য পেশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

জি সেভেন বৈঠকের পর জেনেভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৈঠকে বসবেন পুতিনের সঙ্গে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন তার দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে পৌঁছে গেছে। সেই তলানি থেকে বাইডেন তার দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে পারবেন কী না তা ভবিষ্যত বলবে। তবে বাইডেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মত চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতিতে উল্টো রথেই চলতে শুরু করেছেন। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়নি বেইজিং। জি সেভেন সামিটে চীনের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি নিয়ে সরাসরি সমালোচনার জবাবে পাল্টা আক্রমণের রাস্তা বেছে নিয়েছে বেইজিং। রোববার লন্ডনে চীন দূতাবাসের এক মুখপাত্র জি সেভেন সম্মেলনের নাম না করেই বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন আন্তর্জাতিক যে কোনও সিদ্ধান্ত বিশ্বের গুটিকয়েক দেশ ছোটখাট দল তৈরি করে নিয়ে ফেলত। সে দিন অনেক আগেই চলে গেছে।’

পরে সুর নরম করে তিনি যোগ করেন, ‘আমরা মনে করি দুনিয়ার সমস্ত দেশ ছোট হোক বা বড়, শক্তিশালী হোক বা দুর্বল, ধনী হোক বা গরিব সবাই সমান। তাই যে কোনও সিদ্ধান্তই সকলের সঙ্গে আলোচনার পর নেওয়া উচিত।’ চীনের এই হুঁশিয়ারির পর জি সেভেন সামিটের শেষ দিন কোনও হুমকি পাল্টা জবাবের অপেক্ষা আছে মিডিয়া।

ব্রিটেনে জি সেভেন সামিটে যোগ দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন পৌঁছে বলেন মহামারী থেকে বিশ^কে রক্ষা, বাণিজ্য ও গণতন্ত্রকে সুরক্ষার মত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপোষ করবে না। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র দেশ হলেও সেসব দেশে বছরের পর বছর নামমাত্র গণতন্ত্র না থাকলেও মার্কিন নেতারা কখনো উচ্চবাচ্য করেন না। বরং এসব দেশে প্রচুর অস্ত্র বিক্রি, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অভাব সত্তে¦ও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আরব দেশগুলোর এক অন্যরকম সম্পর্ক দেখা যায়। মানবাধিকার লঙ্ঘন, বাক স্বাধীনতা হরণ, ভিন্ন মতালম্বীদের বছরের পর বছর কারাগারে আটক রাখলেও জি সেভেন গ্রুপের কোনো দেশই এ নিয়ে কোনো কথা বলেন না। অথচ জি সেভেন সম্মেলনে করোনা মোকাবিলা, প্রাকৃতিক সুরক্ষার মতো বিষয়কে ঢাল করা হলেও নেপথ্যে চীন-বিরোধিতার আভাস সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বেইজিংয়ের বিআরআই বা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ-এর পাল্টা জমি বানানোর প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ২০১৩ সালে উন্নয়নশীল বা মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে সাহায্যের নামে এই প্রকল্প চালুর ঘোষণা করে চীন। তা ২০১৭ সালে সেদেশের সংবিধানেও যুক্ত হয়। এখনও পর্যন্ত ১০০টির বেশি দেশ এর সঙ্গে যুক্ত। সড়ক, রেলওয়ে, বন্দর নির্মাণের বিনিময়ে চুক্তির শর্তমাফিক বেইজিং অবাধ বাণিজ্যের বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকে। আপাতত এই মৌরসিপাট্টাকেই খতম করতে চাইছে জি-৭ ভুক্ত সাতটি দেশ। ইতিমধ্যে অনুন্নত দেশগুলির পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিআরআই-এর বিকল্প ও তার চেয়েও লোভনীয় প্রস্তাব আনার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। এমনকী শি জিনপিং সরকার যেভাবে চীনা নাগরিকদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে খাটতে বাধ্য করে, সে বিষয়টিও সামিটে উঠে এসেছে।

 

  • সর্বশেষ