প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] নতুন প্রজন্মকে স্বপ্নিল ভবিষ্যতে না পৌছে অন্ধকার জীবনে বন্দি করায় সার্বিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে: বিশেষজ্ঞ অভিমত

আব্দুল্লাহ মামুন: [২] শিক্ষাবিদ যতীন সরকার বলেন, করোনার মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থা স্থবির হয়ে আছে। এই অবস্থা পরিবর্তনে কি করা যেতে পারে বা সধারণভাবে ক্লাস করা যায় কিনা এটি নীতিনির্ধার করা অবশ্যই ভাববেন।

[৩] তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, তা সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া সঠিক ভাবে ক্লাস, পরীক্ষা হবে কিন্তু ইচ্ছে মতো বা পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তি ক্লাসে দেওয়া যাবে না।

[৪] মনোবিদ অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম বলেন, শিশু-কিশোর বা যুবসমাজের জন্য একটি সুস্থ ও গঠনমূলক কর্মময় জীবন দরকার, তবে এখন করোনাকালে এসবের প্রায় সবই বন্ধ। অর্থাৎ শারীরিক-মানসিক ও সামাজিক বিকাশ ঘটার পথ রুদ্ধ।

[৫] বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের সৃজনশীল ও কর্মময় কাজে যুক্ত না থাকলে মেধাবিকাশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। যার ফলে ভবিষ্যত প্রজম্ম পঙ্গু হওয়ার পথে। একই সঙ্গে তার মন-মানসিকতা, সামাজিক স্বাস্থ্যেরও অবনতি হচ্ছে এবং তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিষাদগ্রস্থ হচ্ছে। একাকিত্ব, বিরক্তি, রাগ এবং অনেকে সরাসরি হতাশায় ভুগছে। এসব কারণেই কিশোর-কিশোরীদের মাঝে আত্মহত্যা ও বিভিন্ন অপারধমূলক কাজে জড়িয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।

[৬] ভবিষ্যত প্রজন্মকে আমরা আশার আলো দেখাবো ও সৃজনশীল স্বপনের রূপরেখায় পৌঁছে দেবো তার পরিবর্তে অন্ধকার, বদ্ধ-আবদ্ধ জীবনে তাদের বন্দি করে ফেলছি যার ফলে শারিরীক, মানসিক ও সামাজিক সব ধরনের বিকাশ ব্যহত হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা অস্থিরতা, আতংঙ্ক, হতাশাগ্রস্থ হচ্ছে যার ফলেই আত্মহত্যা, বিষন্নতা বা অপরাধমূলক কাজে যুক্ত হচ্ছে।

[৭] অপরাধ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, করোনার প্রভাবে সারাবিশ্বে স্থবির একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমরা সামাজিক জীব হিসেবে প্রতিদিন সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকি এটিই স্বাভাবিক। এ ধরনের সামাজিক কার্যক্রম এখন বন্ধ, ফলে আমাদের মূল জায়গা বা ভিত্তি তৈরি হচ্ছে না, যেটি আমাদের ক্ষতি করছে। এই পরিস্থিতিতে চার দেওয়ালের মাঝে বন্দি হয়ে আছি, যার ফলে আমাদের মনস্তাত্বিক এবং একই সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা, চাপ, ও বিষন্নতা তৈরি হচ্ছে।

[৮] বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম বলেন, সমাজে বা ব্যাক্তির মধ্যে সংহতি না থাকে তাহলে সে শেষ পর্যন্ত আত্ম-হননের পথে ধাবিত হবে, এটি সর্বোচ্চ পর্যায়। এছাড়া সাধারণত যদি পারিবারিক বন্ধন, সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় না থাকে, চাপ অনুভব হয় তাহলে এই চাপটি ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ করতে এবং অপরাধমূলক কাজ উৎসাহিত করবে।

[৯] এছাড়া সাধারণত করোনার মধ্যে নানা কারণে হতাশা তৈরি হতে পারে। ভবিষ্যত জীবনের অনিশ্চয়তা, যেমন; কী করবো, অনেকের চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কা, টিউশন না থাকা, উপার্জন বন্ধ হওয়া ইত্যাদি। অনেকের দরিদ্রতার জন্যে একধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, সবকিছু মিলে এই একাকিত্ব, বিচ্ছন্নতা, হতাশা মানুষকে অপরাধমূলক কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। সম্পাদনা: মেহেদী হাসান

সর্বাধিক পঠিত