প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অমি রহমান পিয়াল : জিহাদের লোভ দেখিয়ে কিশোর এবং তরুণদের ভুলিয়ে-ভালিয়ে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

অমি রহমান পিয়াল : যৌনকর্মীদের নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের তথ্য অনুযায়ী এসব মেয়ের সিংহভাগই আসলে বিশ্বাসের ভিকটিম। ভালোবেসে প্রেমিককে বিশ্বাস করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করেছে এক অন্ধকার গুহায়। যেখানে হিংস্র দাঁত নোখ আর খিদে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে মানুষের মতো দেখতে পশুরা। বেঙ্গালুরুতে যে মেয়েটা টিকটক হৃদয়ের পাশবিকতার শিকার হলো, সেও এভাবেই প্রলুব্ধ হয়েছে। ভালোবাসা, বিয়ে। যদিও এইখানে বড় ভূমিকা আসলে ফেম সিকিংয়ের। এটেনশনের। টিকটক বা লাইকি যারা ব্যবহার করে তাদের বড় অংশই আসলে এই একসেপটেন্স খোজে।

বড় লোকের মেয়েরা মজা করতে অনেক কিছুই করে, মধ্যবিত্ত কিংবা বিত্তকমে ওইসব করা যায় না। কিন্তু বিকল্প থাকে। কোনো বুটিকের কিংবা ব্র্যান্ডের দোকানের ট্রায়ালরুমে দামি কাপড় পরে সেলফি দেওয়া যায়। দামি গাড়ির সামনে পোজ দেওয়া, বান্ধবীর ঈদের জামাটা ধার এনে ভিডিও বানানো। এডিটিং লাইট বাড়িয়ে মুখটা ঠোটটা সরু করে উষ্ণতা বাড়ানো ছবি ভিডিওর নেপথ্য সেই লাইক, ফলো, কমেন্ট। এই অ্যাপসগুলা টাকাও দেয়, হিটের ওপর। এখন মোবাইল হাতে হাতে, টিকটকার হওয়াটাও ট্রেন্ড। বেশি কিছু না, গানের সঙ্গে ঠোট মেলানো, কোমর দোলানো।

এরপর সাবস্ক্রাইবার বাড়াতে অন্য পথ। বিগো, ট্যাংগো প্রাইভেট শো। নিঃসঙ্গ যারা তারা এর বড় শিকার। বাবা-মা বিজি, ভাইবোন হয়তো নেই, বন্ধুও তেমন নেই, তারা অনেকে ফেমাস হওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় দেয় এবং ফেমাস হয়ে গেলে তাদের ভাবচক্কর অন্যরকম হয়ে যায়। নোয়াখালীর নাপিত অপু কিংবা তার মতো অন্যদের আসলে বেশি কিছু করতে হয় না। ১০-২০ হাজার টাকা খরচ করলেই এসব অ্যাপে বট দিয়ে লাইকার পাওয়া যায় হাজার হাজার। কারো ৫০ হাজার লাইকার দেখলে ১০ হাজার পোলাপান এমনিতেই চলে আসে। ২০ সেকেন্ডের নায়ক নায়িকারা তারপর সুপারহিট। এরপর শুরু হয় দলগড়া, একাট্টা হওয়া, হ্যাংআউট।

এর খারাপ দিক হলো এসব হ্যাংআউটের পরিণতি। সেটা বেঙ্গালুরুর ঘটনায় দেখা গেছে। অসংখ্য মেয়ে নিয়ে গেছে ওরা বিদেশে। ভিডিও আসছে একটা, তাও সেটা নাকি শিক্ষা দিতে! যারা পালাতে পারছে তারা দেশে নিরাপদে ফিরলো কিনা তা আমরা জানি না। তবে হিরো আলম যেখানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব সেখানে বাবু অপুরা তো অনেক হ্যান্ডসাম। সেই হিসেবে বেশি গ্রহণযোগ্য। হ্যাংআউটের নামে পুল পার্টি, ড্রাগস, তারপর কিশোর গ্যাং, ধারাবাহিক উচ্ছন্নতা। আশার কথা পুলিশ এই অ্যাপসগুলার দিকে নজর দিয়েছে। ৫০০ টিকটকারকে তারা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

বিপদ শুধু মেয়েদেরই না। ছেলেদেরও কম না। হানিট্র্যাপ শুধু লাইকি টিকটকে না, ভাব আদান প্রদানের সব অ্যাপসেই আছে। নতুন যে বিপদটা আসলো তার নাম জিহাদী ট্র্যাপ। জিহাদের লোভ দেখিয়ে কিশোর এবং তরুণদের ভুলিয়ে-ভালিয়ে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া। তারপর তাদেরও ঠাই হয় মাংসের বাজারে। মাংস হয়ে। চোখ, হার্ট, কিডনি, লিভার তো বটেই, শরীরের প্রতিবিন্দু রক্তও পণ্য হয়ে যায় তাদের। হাড়গোড় ঠাই পাবে কোনো এনাটমি ছাত্রের রুমে! মানবতার সেবায় এভাবে নিজেকে উৎসর্গ করার বাসনায় যদিও ঘর ছেড়ে বেরোয়নি তারা। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত