প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: কারামুক্তি দিবস এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বমহিমায় উজ্জ্বল শেখ হাসিনা

দীপক চৌধুরী: আওয়ামী লীগের সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনার আজকের অবস্থান তৈরি হয়েছে অনেক কাঠখড় পোড়ে। নানান ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত রোধ করে বাংলার মানুষের প্রাণের টানে দেশে ফিরে আসার পর দীর্ঘ অনেকগুলো বছর গেছে তাঁর মৃত্যুঝুঁকির ভেতর। তবে এখনো ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে নেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হারানো স্বপ্ন ও সোনার বাংলা বাস্তবায়িত হচ্ছে তাঁর সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে। এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় পিতার ন্যায় আপসহীন মনোভাব নিয়েই জাতীয় রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার যাত্রা শুরু হয়। জনগণের মুক্তি আন্দোলনে শেখ হাসিনাকে সহ্য করতে হয়েছে অনেক জেল-জুলুম ও অত্যাচার-নির্যাতন। অসংখ্যবার মৃত্যুর সম্মুখীন হতে হয়েছে। জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসায় সকল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে দেশকে এগিয়ে নিতে অকুতোভয় নির্ভীক সেনানীর মতো নিরবচ্ছিন্নভাবে পথ চলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। সকল বাধা-বিপত্তি জয় করে আজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বমহিমায় উজ্জ্বল এদেশের জনগণের প্রাণপ্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ। দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। সেনাসমর্থিত ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্ম ছিল এটি। জরুরি অবস্থার মধ্যেই নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ও প্রতিবাদের মুখে এবং উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে আট সপ্তাহের জামিনে মুক্তি দেয়া হয় তাকে। মুক্তি পেয়েই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই তার অস্থায়ী জামিনের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। ২০০৮ সালের ৬ নভেম্বর দেশে ফিরলে স্থায়ী জামিন দেয়া হয় তাকে।

আমরা জানি, রাজনীতির কঠিন ময়দানে জাতির জনকের এই কন্যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সময়ের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কারণেই আজ টেকসই উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সাড়ে বারো বছর ধরে দুঃসাহসী নেতৃত্ব দিয়ে দেশের জনগণকে যেমন আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছেন ঠিক তেমনি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এক বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করতে সমর্থ হয়েছেন। ইতিমধ্যেই ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি এবং তা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই, গরিব শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, পদ্মা সেতু নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী-রাজাকার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার (হয়েছে ও হচ্ছে), বিশ্ব অটিজম আন্দোলনসহ শতাধিক বিষয়ে নেতৃত্বে বাংলাদেশ। এসব ইস্যু একসময় ছিল অচিন্তনীয়।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগসহ মহাজোট সরকার গঠিত হয়। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনাও টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থ বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ধারাবাহিকভাবে গত সাড়ে ১২ বছরে উন্নয়ন-অগ্রগতির সকল সূচকে যুগান্তকারী মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব সভায় উন্নয়নের রোল মডেল। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা, দৃঢ়তা, সাহসিকতা, সততা ও কর্মনিষ্ঠা আজ বিশ্বনন্দিত। ধনী-গরিব, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবার অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন পরিশ্রমী নেত্রী শেখ হাসিনা। ন্যায়ের পথে অবিচল তিনি।

জঙ্গী ও সন্ত্রাস দমনে সফলতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষিতে সফলতা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অনলাইন- মোবাইল ও ইন্টারনেটে বিপ্লব, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, ছিটমহল সমস্যার সমাধানসহ সহস্রাধিক ইস্যুতে সরকারের ইতিহাস সৃষ্টি মানুষকে আকৃষ্ট করে আছে। ছিটমহল নিয়ে এরশাদ-বিএনপি-জামায়াত অর্থাৎ আওয়ামী লীগ বিরোধী সকল শক্তি একজোট হয়েছিল। সেসব দল প্রচার করত-এটি নাকি গোলামি চুক্তি। যদিও তারা ক্ষমতায় থেকেও এর কিনার করতে পারেনি। কিন্তু ৬৮ বছর পর এক ঐতিহাসিক বিজয় নিয়ে এলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। ছিটমহল বিনিময় প্রকৃতপক্ষে এক ঐতিহাসিক অর্জন।

গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের কাছে মনে হয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার, ‘দুর্নীতির প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।’ সুতরাং মানুষের এখন প্রথম কথাই হচ্ছে, দুর্নীতিবাজদের বর্জন করতে হবে।
ইতিহাস থেকে আমরা পাই, বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের পরপরই মুক্তিযুদ্ধোত্তর নানান সংকটের কঠিন দিনগুলোতে বাঙালি জাতীয়তাবোধের গভীরতা থেকেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। এদেশের সকল শ্রেণির মানুষের প্রিয় ছিলেন তিনি। ২০২১-এ আমরা যেন, এই প্রতিজ্ঞা করি যে, মুজিববর্ষ হোক অগ্রগতির, সব বর্ণের ও ধর্মের মানুষের।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত