প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সৌদি আরবে আমের বাম্পার ফলন, কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার স্বপ্ন

ওয়ালিউল্লাহ সিরাজ: [২] দেশটির কুনফুদাহ ও উমজুজ শহরসহ বিভিন্ন শহরেই এখন দেখা যায় বিস্তীর্ণ আম বাগান। এই শহরগুলোতে অন্যান্য শহরের তুলনায় বৃষ্টি হয় অনেক বেশি। মাটির উর্বরতা অনেক বেশি। এই শহরগুলোতে গড়ে উঠছে আম বাগানসহ অনেক অর্গানিক খামার। আরব নিউজ

[৩] কুনফুদাহ শহরে আমের চাষ শুরু হয় ৫০ বছর আগে। ২০১০ সালে ১০ জন আম বাগানের মালিক মিলে একটি আম উৎসবের আয়োজন করে। এর পরই সবার কাছে আমের শহর হিসেবে পরিচিতি লাভ করে কুনফুদাহ শহর। শহরটিতে বর্তমানে ২৭০০ টিরও বেশি আমের বাগান আছে। এই আম বাগান থেকে বার্ষিক ফলন প্রায় ৪০ হাজার টন। সৌদিতে এই ফলের মাস শুরু হয় মে থেকে। চলে জুন মাস পর্যন্ত।

[৪] পরিবেশ, পানি ও কৃষিমন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখার মহাপরিচালক সাঈদ বিন জারাল্লাহ বলেন, আমাদের শাখা কৃষি পণ্যের গুণগত মান ও কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য লাভের জন্য কাজ করছে। আমরা কৃষকদের প্রযুক্তগত সহায়তা দিচ্ছি। যাতে করে তারা বেশি উৎপাদন করতে পারেন। আমরা আশা করছি কৃষকরা যেন গ্রীষ্মকালীন এই ফল উৎপাদনে বেশি দৃষ্টি দিতে পারেন। এছাড়াও এই ফল উৎপাদনে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাসহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শাখা গ্রীষ্মকালীন ফল উৎপাদনে আমাদের সহায়তা করবে।

[৫] কুনফুদাহ শহরের আল-জওহর আম বাগানের মালিক আলী আল-আবদালি বলেন, কৃষি পণ্য চাষ করাই আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবন চালানোর উৎস ছিলো। সরকার কৃষি ক্ষেত্রে সহায়তার হাত পাড়ানোর পর আমরা জানতে পারি অন্যান্য কৃষি পণ্যের মত আমাদের দেশে সুমিষ্ট এই আমের চাষও হতে পারে। আমার কাছে অবাক লাগে,সরকার আমাদের সহায়তা করার আগে একবারও ভাবতে পারেনি আমাদের দেশে আমের উৎপাদন হতে পারে। আল-আহসা উপত্যকার ৩২ লাখ বর্গমিটার জমিতে ৩০ হাজারের বেশি আম গাছ আছে আমার।

[৬] আল-আবদালি বলেন, আম চাষ করে আমি সফল। আমার বাগানে হদুল, লালসহ বিভিন্ন প্রকারের আম আছে। আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে এই সব আমের চাড়া সংগ্রহ করেছি। এই এসব গাছ থেকে আমি ফল পাচ্ছি। আমার আম রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা, তায়েফ ও মদিনাসহ সৌদির সব শহরেই যাচ্ছে। সব জায়গাতেই আমার বাগানে উৎপাদিত আম পাওয়া যাচ্ছে।

[৭] সৌদি আরবের অর্গানিক খামারের সংখ্যা গত এক বছরে ২৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩১২টি। ২০১৯ সালের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার ২৭.৭ শতাংশ। যেখানে ২০১৮ সালে মোট অর্গানিক কৃষি অঞ্চল ছিল ২৪৫১৭.৮৯ হেক্টর। ২০২০ সালে তার পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৬৬৩২.৪৮ হেক্টর। কৃষি অঞ্চল বৃদ্ধির হার ৮.৮ শতাংশ। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন ২০১৯ সালে জৈব সারের উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬১৪৪১.৪৫ টন। ২০২০ সালে উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮৫৫৮.৮১ টন। শতাংশ হিসেবে উৎপাদনের হার প্রায় ৬০%।

[৮] সৌদি ভিশন ২০৩০ সফল করতে সৌদি সরকার অর্গানিক ও নিরাপদ খাবারের প্রতি জোড় দিচ্ছে। কৃষিতে সয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। গালফ নিউজ
সম্পাদান: রাশিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত