প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এফবিআই যেভাবে ফাঁদ পাতে

নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই অপারেশনের পেছনে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ডলারেরও বেশি। সাজা কমিয়ে দেয়ার চুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করতে হয়েছে দুর্ধর্ষ অপরাধীকে। এরপর তিন বছর বসে এই অপারেশনের খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। তদন্তে যোগ দেন বিশ্বের ১৭টি রাষ্ট্রের অন্তত ৯ হাজার আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তা। অতঃপর সফল হয়েছে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া অবিশ্বাস্য এই অঅপারেশন। এটি নাড়িয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের ভিত। বলছি অপারেশন ট্রোজান শিল্ডের কথা। দুর্ধর্ষ অপরাধীদের আন্তর্জাতিক চক্রের ভেতরে ঢুকে ধসিয়ে দেয়া হয়েছে এই অপরাধ নেটওয়ার্ককে।

বিশ্বের অন্তত দেড় ডজন দেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮ শতাধিক অপরাধীকে। তারা ব্যবহার করে আসছিল একটি এনক্রিপ্টেড তথ্য আদান-প্রদানের অ্যাপ। ফলে কোনো দেশের পুলিশের পক্ষেই এই বার্তা উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে তিন বছরের চেষ্টায় সফল হয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। উদ্ধার করেছে ২৭ মিলিয়ন মেসেজ। এরপর শনাক্ত করা হয় ১২ হাজারেরও বেশি ডিভাইস। এগুলোর সূত্র ধরেই সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করা হয়। এগুলো সক্রিয় রয়েছে শতাধিক দেশে। বিশ্বজুড়ে রয়েছে অন্তত ৩ শতাধিক সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল। এই পুরো চক্রটিকেই ধসিয়ে দেয়া হয়েছে। একযোগে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শত শত অপরাধীকে। ইউরোপীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইউরোপোলের এক বিবৃতি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, ওই অভিযান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৮ টন কোকেন, ২২ টন গাঁজা, ২ টন সিনথেটিক মাদক, ২৫০টি বন্দুক, ৫৫টি দামি গাড়ি এবং প্রায় অর্ধশত মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ। এখনো অভিযান চলছে। আরো গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ইউরোপোল।
এই অভিযানের শুরুতেই প্রয়োজন পড়ে অপরাধীদের নিজেদের মধ্যে পাঠানো বার্তা ডিকোড করা। তারা নিজেদের মধ্যে এনক্রিপ্টেড তথ্য আদানপ্রদান করতো। ২০১৮ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফ্যান্টম সিকিউর এনক্রিপটেড স্মার্টফোন নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে এর প্রধান নির্বাহীকে গ্রেপ্তার করে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার কারাগারে আটক ছিলেন। তাকে শাস্তি কমিয়ে দেয়ার লোভ দেখানোর পর তিনি এই এনক্রিপ্টেড মেসেজ ভাঙতে সাহায্যে রাজি হন। তিনি বর্তমানে মুক্ত জীবনযাপন করছেন। যদিও পুলিশের আশঙ্কা অপরাধীদের অন্যতম টার্গেটে পরিণত হয়েছেন তিনি। তাই তাকে পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা উচিত বলে মনে করে পুলিশ।

যাই হোক, এই ব্যক্তিই তৈরি করেছিলেন সন্ত্রাসীদের ওই নেটওয়ার্কটি। এটি এক দশকের বেশি সময় ধরে অপরাধী চক্রগুলোর গোপন ও আস্থার যোগাযোগ মাধ্যম ছিল। পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে যোগাযোগ করা ছাড়াও, বিরোধীদের ওপর হামলা, মাদক বেচাকেনা ও অর্থের লেনদেনের জন্য ওই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হতো। ফ্যান্টম নেটওয়ার্কের অন্যতম সুবিধা ছিল, ফোনসেট বেহাত হলেও অবস্থান গোপন রেখে যেকোনো জায়গা থেকে ওই ফোনের তথ্য মুছে ফেলা যেত।

পুলিশ ওই নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দেয়ার পর সেই জায়গা দখল করতে আরও বেশকিছু স্মার্টফোন নেটওয়ার্ক তৈরি হয় অপরাধীদের ‘নিরাপদ’ যোগাযোগের সুবিধা দেয়ার জন্য। সেই সুযোগটিই নেয় এফবিআই। তারাই এবার নিজেদের নেটওয়ার্ক তৈরি করে যা ব্যবহার করতে শুরু করে অপরাধীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা ওইসব ফোনসেটের মাধ্যমে ছড়ানো প্রতিটি বার্তা দেখতে পেতেন। আস্তে আস্তে এই একই প্ল্যাটফরমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অপরাধীরা যুক্ত হতে শুরু করেন। এফবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে পর্যবেক্ষণ শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীও। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে লেনদেন হওয়া বার্তা ও ছবি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। পুরো অপারেশনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একধাপ এগিয়েই ছিল। অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যে কয়েকশ’ অপরাধী গ্রেপ্তার ও কয়েক টন মাদক উদ্ধার ছাড়াও তারা ২১টি হত্যা পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে। এরমধ্যে একটি গণহত্যাও নস্যাৎ করা হয়েছে।

এফবিআই এবং অন্যান্য দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী আবিষ্কার করে, ইতালির মাফিয়া চক্র, এশিয়ার সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠী, বাইকার গ্যাং ও বহুজাতিক মাদক চক্র- সবাই এফবিআইয়ের এই ডিভাইস ও অ্যাপ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছে। আদালতের নথি এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের বক্তব্যে জানা গেছে, অপরাধীরা রাখঢাক না রেখেই ওই ফোনসেট ব্যবহার করতো। প্রায়ই তারা কোড ব্যবহার করতো না এবং বিশাল মাদক চালানের ছবি ও কীভাবে তা পরিবহন করা হবে সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণও অ্যাপে পাঠিয়ে দিতো। সূত্র- মানবজমিন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত