প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভুট্টো পরিবারের কান্না: অস্বাভাবিক মৃত্যুর সারি…

আবু রুশদ : `Songs of Blood and Sword’- জুলফিকার আলী ভুট্টোর ছেলে মরহুম মর্তুজা ভুট্টোর মেয়ে ফাতিমা ভুট্টোর আত্মজীবনী। এই বইটিকে কি ‘রক্ত ও তরবারীর গান’ বলা যাবে? হয়তো, হয়তো না! সূত্র: ফেসবুক

জেড এ ভুট্টোর নাতনী ফাতিমা লন্ডনে বসবাস করেন। ভুট্টোর একমাত্র জীবিত মেয়ে সানাম ভুট্টোও সেখানে। এরা পাকিস্তানে আসেন না। ভুট্টো পরিবারের প্রায় সবাই অস্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করায় অনেকটা অনিশ্চয়তা ও ভয়ে তারা দেশের বাইরে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ফাতিমা ভুট্টোর এই বইটি আমি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সাইদ বুক স্টোর থেকে কিনেছিলাম। ভুট্টো পরিবারের অনেক অজানা তথ্যই এতে সন্নিবেশিত রয়েছে।

জুলফিকার আলী ভুট্টোর সন্তানদের পরিণতি:
১। ছেলে শাহনওয়াজ ভুট্টো: ভুট্টোকে ফাঁসিতে ঝুলানোর পর শাহনওয়াজ তার ভাই মুর্তজা ভুট্টোর সাথে আফগানিস্তানে পালিয়ে যান ও সেখানকার গুপ্তচর সংস্থার তত্বাবধানে আশ্রয় নেন। অভিযোগ আছে যে সেখানে তাদের সাথে ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা-‘র’- এর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। আফগান ও ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা মিলে আল জুলফিকার নামে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন দাঁড় করায়। এই সংগঠনে নেয়া হয় ভুট্টোর প্রতি অতি বিশ্বস্ত কর্মীদের। মূলত: বাম ঘরাণার এইসব কর্মীকে প্রশিক্ষন দেয় উপরোক্ত গুপ্তচর সংস্থাগুলো।

তারা পাকিস্তানে সন্ত্রাসী তৎপরতা শুরু করে ও আফগানিস্তানের সোভিয়েত আগ্রাসনের পর যখন পাকিস্তান মুজাহিদদের সহায়তা করছিল তখন আল জুলফিকার আগ্রাসী সোভিয়েত বাহিনীর অনুগত হিসাবে কাজ করে। কিন্তু ১৯৮৫ সালের ১৮ জুলাই শাহনওয়াজ ফ্রান্সের এক হোটেলে অবস্থানকালীন রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়। রুমে তার লাশ পাওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইকে দায়ী করা হয় বিষ প্রয়োগে হ্ত্যার। কিন্তু কোনদিনও এর কারন জানা যায়নি ও কেউ আর টু শব্দটি করেনি।
২। মুর্তজা ভুট্টো: মুর্তজা ভুট্টো মূলত: আফগান গুপ্তচর সংস্থার সাথে সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করে ব্যাপকাকারে সন্ত্রাসী তৎপরতা শুরু করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। ১৯৮১ সালের মার্চে সে ও তার সহযোগিরা পিআইএ’র একটি বিমান ছিনতাই করে কাবুল নিয়ে যায়। ওতে একজন পাক সেনা অফিসার ছিল যাকে সে সোভিযেত ও আফগান গুপ্চচরদের হাতে তুলে দেয় এবং একপর্য়ায়ে হত্যা করে। কাবুল থেকে বিমানটি সিরিয়ার দামেস্কে নিয়ে যাওয়া হয়।

পাক সরকার কোন পথ করতে না পেরে মুর্তজা ভুট্টোর দাবী মেনে পিপিপি ও আল জুলফিকারের বন্দী অনেক কর্মীকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে লিবিয়া পাঠাতে বাধ্য হয়। মজার ব্যাপার হলো মুর্তজা ভুট্টোর বোন বেনজীর ভুট্টো জারদারী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ১৯৯৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর করাচীতে ক্লিফটন বীচে ভুট্টোর বিখ্যাত বাড়ির ঠিক সামনে তাকে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা গুলি করে হত্যা করে। টেলিভিশনে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী বেনজীর তার ভাইয়ের লাশের পাশে বসে অসহায়ভাবে কাঁদছেন! এই ঘটনাতেও পিপিপি পাক গুপ্চচর সংস্থার প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করে। কিন্তু কোনদিন এই রহস্যজনক হত্যার রহস্য জানা জায়নি!

৩। বেনজীর ভুট্টো: ব্যাপক জনপ্রিয়তার মধ্যদিয়ে বেনজীর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও এস্টাবলিশমেন্ট, বিশেষ করে সশস্ত্রবাহিনী কখনো তাকে বিশ্বাস করেনি ও আস্থায় নেয়নি। আমেরিকান লেখক উইলিয়াম ইরোরোজ তার দি ক্রিটিকাল মাস বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে বেনজীর অতি গোপনে সিআইএ’র কাছে পাকিস্তানের পারমানবিক বোমার তথ্য হস্তান্তর করেন। তিনি ভারতের কাছেও খালিস্তান আন্দোলনের গোপনীয়তা ফাস করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এটা আঁচ করতে পেরে প্রেসিডেন্ট গোলাম ইসহাক খান তাকে বরখাস্ত করেন। যাহোক, ২০০৭ সালে তিনিও রহস্যজনক বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন।

৪। সানাম ভুট্টো: জুলফিকার আলী ভুট্টোর একমাত্র জীবিত মেয়ে সানাম লন্ডনে থাকেন।বেনজীরের মৃত্যুর পর পিপিপি’র পক্ষ থেকে তাকে দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু সানাম ভুট্টো ‘সঙ্গতকারনেই’ রাজনীতিতো বটেই পাকিস্তানের ধারেকাছেও আসেননি! তিনি নীরবে দিন যাপন করেন প্রবাসে।

মুর্তজা ভু্ট্টোর মেয়ে ফাতিমা ভুট্টো যতো না পাকিস্তানী, তারচেয়ে বেশি পাশ্চাত্য ধারায় জীবনযাপনে অভ্যস্ত। অথচ তার দাদা ভুট্টো নিজে মাত্রারিক্ত মদখোর হলেও পাকিস্তানে সকল বার, নাইট ক্লাব ও মদ নিষিদ্ধ করেছিলেন!

সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষনা করে মোল্লাদের প্রিয়পাত্র হতে চেয়েছিলেন! রয়েল স্যালুটের মতো অত্যন্ত দামী হুইস্কি ছিল ভুট্টোর প্রিয়। তার সকল সন্তান পাশ্চাত্য ধারায় চলতে অভ্যস্ত। নাতনী ফাতিমাও তার ব্যতিক্রম নয়। তিনি পাকিস্তানে বলতে গেলে আসেন না। রাজনীতি তো দূরের কথা। লন্ডনেই কাটছে তার জীবন… ১৯৭১ এর পর্দার আড়ালের সবচেয়ে বড় খলনায়ক ও বাঙ্গালি হত্যায় উস্কানিদাতা জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ও তার প্রতিষ্ঠিত পিপিপিকে পাকিস্তানে মুসলিম লীগ, পিটিআইসহ বেশিরভাগ দল অপছন্দ করে, ঘৃণা করে। তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো প্রগতিশীল বলে পরিচিত বাম ঘরাণার সবাই পিপিপিকে ভালোবাসে!!!

 

সর্বাধিক পঠিত