প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বর্ধিত মেয়াদেও তীর রক্ষার ৩৫ ভাগ কাজ অসমাপ্ত: বরিশালের উলানিয়া-গোবিন্দপুর মেঘনার ভাঙনে ছোট হচ্ছে

নিউজ ডেস্ক: বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ১০টিই নদী ভাঙন কবলিত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে উলানিয়া ও গোবিন্দপুর ইউনিয়ন। মেঘনা, কালাবদর, গজারিয়া, ইলিশা, মাছকাটা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর এসব ইউনিয়নের অনেক স্থাপনা বিলীন হচ্ছে। মেঘনার ভাঙনে গোবিন্দপুরের বেশির ভাগ এলাকা আরো আগেই বিলীন হয়ে গেছে। উলানিয়ায় রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিঘেরা একটি ঐতিহাসিক ভবন। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের সময় ১৯৫৪ সালে ঐ ভবনেই জাতির জনক অবস্থান নিয়েছিলেন। উলানিয়া হাইস্কুল মাঠে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

উলানিয়া ও গোবিন্দপুর ইউনিয়নে মেঘনার ভাঙন রোধে ২০১৮ সালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। একনেকে পাশ হওয়া দুই বছর মেয়াদি ঐ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৩৮৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ১৭টি প্যাকেজের মাধ্যমে ভাঙনকবলিত তিন কিলোমিটার এলাকায় সিসি ব্লক ও জিয়ো ব্যাগ ফেলার কথা।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে চলতি জুন পর্যন্ত নতুন সময় ধার্য করা হয়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেও ৩৫ ভাগ কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে।

এই অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়িয়ে আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত সময় চেয়ে চার মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরিশাল কার্যালয় থেকে বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করা হয়। সূত্র জানায়, প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। চলতি মাসেই এসংক্রান্ত অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, উলানিয়া ও গোবিন্দপুরে মেঘনার ভাঙন রোধ প্রকল্পে তিন কিলোমিটার জুড়ে যে সাড়ে ৯ লাখ জিয়ো ব্যাগ ফেলার কথা ছিল, তার মধ্যে ইতিমধ্যে ৯ লাখ জিয়ো ব্যাগ ফেলা হয়েছে। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী জিয়ো ব্যাগের পাশাপাশি মোট ৩১ লাখ সিসি ব্লক ফেলার কথা। ইতিমধ্যে ২০ লাখ ব্লক তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ লাখ ডাম্পিং করা হয়েছে এবং বাকি ৫ লাখ ব্লক শিগিগর ডাম্পিং করা হবে।

এদিকে নিম্নমানের ব্লক তৈরির অভিযোগে উলানিয়া লঞ্চঘাটের ৪ নম্বর প্যাকেজের কাজ গত মাসে বন্ধ করে দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নালিশ করে এলাকাবাসী। স্থানীয় আশা গ্রামের বাসিন্দা সজল ও জসিম উদ্দিন জানান, এলাকাবাসীর নালিশের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড, বরিশালের কর্মকর্তারা এসে নিম্নমানের ঐ ব্লকে চিহ্ন দিয়ে তা বাতিল করেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পারিসা কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী ইমন আফরোজ স্বীকার করেছেন, তাদের সরবরাহকৃত কিছু ব্লক পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বাতিল করেছেন। তিনি জানান, বাতিলকৃত ব্লকসমূহ তারা তাত্ক্ষণিকভাবে সরিয়ে নিয়েছেন।

উলানিয়া অংশের অপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিজে জিয়ো টেক্সটাইল লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. মনির হোসেন জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি প্যাকেজের মধ্যে চারটির কাজ আগামী দুই মাসের মধ্যে শেষ হবে। তিনি জানান, বর্তমানে তিনটি মেশিনের মাধ্যমে ব্লক তৈরির কাজ চলছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় কাজ কিছুটা ধীরগতিতে হচ্ছে। তাছাড়া তাদের প্রতিষ্ঠানের ৩০ কোটি টাকার বিল বকেয়া পড়ে আছে। এই টাকা পাওয়া গেলে কাজে আরো গতি আসবে বলে তিনি দাবি করেন। একইভাবে অপর ৯টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানেরও আরো ৩০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম সরকার জানান, বর্ষা ও জোয়ারের প্রভাবসহ নানা কারণে উলানিয়া ও গোবিন্দপুরে মেঘনার ভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। অতি সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ও পূর্ণিমার জোয়ারের কারণে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে কাজের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, সর্বশেষ গত ৬ জুন তিনি সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।

নিম্নমানের ব্লক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্লক তৈরির পর টাস্কফোর্সের সদস্যরা তা পরীক্ষা করে অনুমোদন দিলে ডাম্পিং করা হয়। টাস্কফোর্সের অনুমতি ছাড়া ব্লক ডাম্পিং করা হয় না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, কিছু টাকা বকেয়া পড়েছে। আগামী আগস্টে ২৫ ভাগ বরাদ্দ এলেই ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

উলানিয়ার ভাঙন ঠেকাতে এই এলাকার সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিউর রহমান পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদনসহ নানা তত্পরতা চালিয়েছেন। মেহেন্দীগঞ্জের ভাঙন নিয়ে ইতিপূর্বে একাধিক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্র: ইত্তেফাক

সর্বাধিক পঠিত