প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিজানুর রহমান: জলজট থেকে ঢাকা শহরকে বাঁচাতে একগুচ্ছ প্রস্তাব!

মিজানুর রহমান: ঢাকা শহরের চারদিকে বুড়িগঙ্গা,শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু নদী, টঙ্গীখাল ও ধলেশ্বরী নদী। শহরের ভেতর প্রবাহমান অসংখ্য খালই ছিলো পানি চলাচলের মাধ্যম। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ভূমিদস্যুতায় অধিকাংশ খালই অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। কিছু খাল নর্দমা ও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। তার ওপর অপচনশীল প্লাস্টিকবর্জ্য সকল খালকে হত্যা করে এবং দখলদারদের হাতে তুলে দেয়। এই অবস্থায় মাঝারি ধরনের বৃষ্টিতেই শহর পানির নীচে তলিয়ে যাচ্ছে। পানি সরতে অনেক সময় লাগছে, বৃষ্টির পানি রাস্তা ডুবিয়ে আশপাশের দোকান বাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনা তলিয়ে দিয়ে নিদারুণ দুর্ভোগে ফেলছে জনগণকে। খাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা ওয়াসা এই অবস্থা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে ব্যর্থ হলে ঢাকা সিটি করপোরেশন এই দায়িত্ব বুঝে নেয়। এছাড়াও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৭১৫ কিলোমিটার এবং উত্তর সিটি করপোরেশন ১২০০ কিলোমিটার নর্দমা পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ চালু রাখার কাজ করে। সিটি করপোরেশন দায়িত্ব নিয়ে জরুরিভাবে খাল দখল মুক্ত করে তার নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রকল্প গ্রহণ করে। বাস্তবত এখন পর্যন্ত এই কাজে আশানুরূপ ফল মেলেনি।

৬ জুন সকাল-বিকেল দুই বারে মিলে ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে শহরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আকারের জলজটের সৃষ্টি হয়। সড়কের অনেক জায়গা ও অলিগলিতে এতোটা পানি জমে যে পথশিশুরা সাঁতার কেটে হৈ-হুল্লোড় করতে থাকে  আর কাজে বেরুনো মানুষ দুঃখ কষ্টে অতিষ্ঠ হয়ে চরম বিরক্ত ও ক্ষোভ প্রকাশ করে। সারা বছর বিভিন্ন সেবা সংস্থা তাদের কাজ করতে এসে নানা ধরনের খানা-খন্দের সৃষ্টি করে। তলিয়ে যাওয়া এসব খানা-খন্দে নারী শিশু, পথচারী লোকজন ও নানাধরনের যানবাহন মারাত্মক দুর্ঘটনায় পড়ে। যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে যানজট সৃষ্টি করে শহরে স্থবিরতা সৃষ্টি করে। আমাদের নগরপিতাগণ এর থেকে পরিত্রাণের কথা বললেও নগরবাসী কিছুতেই আস্থা রাখতে চায় না। এই সংকট থেকে বাঁচতে হলে দ্রুত কাজ করে খালগুলো পূর্ণ প্রবাহে ফিরিয়ে এনে পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে হবে।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ পথ নাটক পরিষদ

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত