প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] নিদ্রাহীনতায় ক্যামোমাইল চা

হ্যাপি আক্তার: [২] করোনাভাইরাসের মহামারীতে বিষন্নতা, নিদ্রাহীনতা খুবই সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিসের কাজের চাপে অনেকেরই রাতে ঘুমোতে বেশ দেরি হয়ে যায়। ঘুমের সময় পার হয়ে গেলে কিছুতেই ঘুম আসতে চায় না। শুধু তাই নয় দেখা দেয় আরও নানা শারীরিক সমস্যা। চোখের তলায় কালি পড়ে, স্কিন খসখসে হয়ে যাওয়া এসব নানাবিধ সমস্যা থেকে যায়।তাই স্নায়বিক উত্তেজনা কমিয়ে রাতে ভালো ঘুম আর শরীরকে সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞরা ক্যামোমাইল চা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এই সময়

[৩] রাতে শুতে যাওয়ার আগে এই চা পান করলে স্নায়ুর আরাম হয়। দ্রুত ঘুম এসে যায় কিন্তু এর বাইরে ক্যামোমাইল চায়ের আরো গুণ আছে। ত্বকের অনেক সমস্যার সমাধানও করতে পারে এই পানীয়। ত্বক কুঁচকে যাওয়া আটকাতে পারে, নমনীয় এবং উজ্জ্বল করতে পারে।

[৪] ভেষজ চা-এর মধ্যে অন্যতম হল এই ক্যামোমাইল টি। তবে একরকম ফুল থেকে তৈরি হয় এই চা। যার ফলে এই চায়ের মধ্যে ক্ষতিকর ক্যাফেন থাকে না। আর তাই এই চা খেলে স্নায়ুর উত্তেজনা কম থাকে। ঘুম ভালো হয়। মূলত দুরকমের ক্যামোমাইল চা ব্যবহার করা হয়- রোমান ও জার্মান। প্রাচীন আ৪য়ুবেদ শাস্ত্রেও উল্লেখ রয়েছে এি চায়ের। তবে যাঁরা গর্ভবতী, তাঁদের এই চা এড়িয়ে চলারই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

[৫] কীভাবে বানাবেন ক্যামোমাইল চা: ক্যামোমাইল যেহেতু ফুল থেকে তৈরি তাই এই চা খুব ভালো করে সংরক্ষণ করতে হবে। কাঁচের জারে রাখতে হবে এই চা। সেই সঙ্গে দেখা প্রয়োজন যেন সূর্যালোক না লাগে। ঠান্ডা পরিবেশে রাখতে হবে এই চা।

২ চামচ চা
২ কাপ পানি
২ চামচ মধু ( প্রয়োজনে নাও দিতে পারেন)
আপেলের টুকরো সামান্য

[৬] যেভাবে বানাবেন- প্রথমে জল ভালো করে গরম করকে নিন। এবার ওর মধ্যে আপেলের টুকরো অথবা আপেলের টুকরোর মিশ্রণ বানিয়ে তা ঢেলে দিন। এবার ওর মধ্যে ক্যামোমাইল চা দিন। তিন মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখার পর ছেঁকে নিন। প্রয়োজনে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। কিন্তু চিনি একদম দেবেন না। এতে এই চায়ের উপকারিতা নষ্ট হয়ে যাবে।

[৭] উপকারিতা: ক্যামোমাইলের সুন্দর গন্ধকই স্নায়ুকে অনেক রিল্যাক্স করে দেয়। এতে যেমন ভালো ঘুম হয় তেমনই মনও শান্ত থাকে। স্নায়ুর চাপ কমে।

ক্যামোমাইলের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিস্প্যাসমোডিক ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি প্রপার্টিজ। যা পেটের ও অন্ত্রের ক্র্যাম্পস সারাতে খুবই কার্যকর। পেটের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস, পেট ফোলা কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ক্যামোমাইল। তাই দিনে অন্তত ২ বার করে ক্যামোমাইল চা খেলে এই সব সমস্যা দূরে পালাবে।

পিরিয়ডসের সময় ক্র্যাম্পস প্রায় সব মেয়েরই হয়। তারও সমাধান এই ক্যামোমাইল টি। এটি ইউটেরাসের পেশিকে শিথিল করে এবং গ্লাইসিন লেভেল বাড়িয়ে দেয়। যা ক্র্যাম্পস দূর করতে সাহায্য করে।

যে কোনও রকম স্টোনের সমস্যায় উপকার পাওয়া যায় ক্যামোমাইল চায়ে। যদি স্টোন হয়ে থাকে তাহলে এই চা দিনের মধ্যে দুবার খান। উপকার পাবেন।

মাইগ্রেনের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন? তা হলে খেয়ে নিন এক কাপ গরম গরম ক্যামোমাইল টি। আসলে মাইগ্রেনের একটা অন্যতম কারণ হচ্ছে, টেনশন। ক্যামোমাইল টি সেটা দূর করে আপনাকে মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়।

ছোট ছোট প্যাকেটে ক্যামোমাইল চা নিন। অথবা আইস ট্রে-র মধ্যে ক্যামোমাইল টি নিয়ে বরফ আকারে জমিয়ে নিতে হবে। এ বার ওই প্যাকেটের বা আইসকিউবের ক্যামোমাইল টি আপনার চোখের তলায় ঘষতে থাকুন। পাঁচ মিনিট পরে ঠান্ডা জল দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন। যা আপনার ডার্ক সার্কলস দূর করবে অনায়াসেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত