প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাঙালির মুক্তির সনদ বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে: উপাচার্য বিএসএমএমইউ

শাহীন খন্দকার: [২] ঐতিহাসিক ৬ দফা বাংলাদেশের স্বাধীনতার রোডম্যাপ বললেন, অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল

[৩] বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ দফা দিবসে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ রচিত ‘নির্বাচিত কলাম’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

[৪] সোমবার ৭ জুন ২০২১ইং তারিখ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে শহীদ ডা. মিল্টন হলে অনুষ্ঠিত সভায় অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বলেন,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬ দফার মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশের জন্মের গঠনের মূলে রয়েছে ৬ দফা। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু মুক্তি সংগ্রামের আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষকে একাত্ম করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেছেন, ‘দফা তো দিলাম ছয়টা, আসলে দফা দিলাম একটা’। এই ১ দফা মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বাহাত্তরের বাংলাদেশের সংবিধানের মূল ভিত্তিও ছিল এই ৬ দফা।

[৫] বলেন, তিনি বলেন, বিশ্ব নেতা বঙ্গবন্ধু ধাপে ধাপে বাঙালি জাতিকে তৈরি করেছেন, কর্মসূচী দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শুধু দুই লক্ষ নয়, বর্তমান গবেষকরা বলেছেন, পাঁচ লক্ষ মা-বোন তাঁদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের কয়েক মাসের মধ্যেই ৬ লক্ষ শিশু মারা গিয়েছিল। তখন এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। তাঁদের অনেকেই ওই সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। ৩০ লক্ষ শহীদদের মধ্যে এই মৃত্যুর সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত ছিল কিনা তা খুঁজে বের করা দরকার। এরপরও যখন কোনো রাজনৈতিক নেতা নেত্রী মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা মূলত দেশের স্বাধীনতাকে নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না।

[৬] সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাঙালির মুক্তির সনদ বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে। ৭ই জুন এই ঐতিহাসিক দিনটি বাঙালির স্বাধীনতা, স্বাধিকার ও মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসের অন্যতম মাইলফলক, অবিস্মরণীয় একটি দিন।

[৭] তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে যেসব আন্দোলন বাঙালির মনে স্বাধীনতার চেতনা ও স্পৃহাকে ক্রমাগত জাগিয়ে তুলেছিল ৬ দফা আন্দোলন তারই ধারাবাহিকতার ফসল। এরই ধারাবাহিকতায় উনসত্তরের গণ অভ্যুত্থান সত্তরের নির্বাচনে বাঙালির অবিস্মরণীয় বিজয়, একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চের গণহত্যা এবং ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পথ ধরে দেশ স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যায়। ১৬ ডিসেম্বর ৯ মাসের মুক্তি যুদ্ধের চুড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

[৮]উপাচার্য বলেন, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ৬ দফা দাবির সাথে যেমন এদেশের মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করেছিল। ঠিক যেমনি দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদেশের মানুষ ঐক্যবন্ধভাবে কাজ করছে। যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণ-যেখানে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস। ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

[৯] আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতার স্বাস্থ্য ভাবনা এবং বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও সেবা সম্পর্কিত কার্যক্রম, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও অগ্রগতি, চক্ষু রোগ সমূহের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ, করোনা ভাইরাস নিয়ে বিভিন্ন সচেতনা মূলক প্রবন্ধ-নিবন্ধ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ এর রচিত ‘নির্বাচিত কলাম’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

[১০] বইটি প্রকাশ করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডা. শেখ সাইফুল ইসলাম শাহীন। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক ডা. মোঃ হারিসুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সূচনা বক্তব্য রাখেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান (দুলাল)। সম্পাদনা: মেহেদী হাসান

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত