প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বানিয়ারচর কাথলিক চার্চে বোমা হামলা ও সুনীল গমেজ হত্যার বিচার দাবি

ভিকটর রোজারিও :[২] বানিয়ারচর কাথলিক চার্চে বোমা হামলা ও সুনীল গমেজের হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে ভার্চুয়াল স্মরণ ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গত শনিবার।

[৩] ২০ বছর ধরে বানিয়ারচর গির্জায় বোমা হামলায় নিহত ১০ জন শহীদ ও ২৬ জন হতাহতের ঘটনার কোনো সুরাহা হয়নি। এখন পর্যন্ত চার্জশিটই দাখিল হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ‘বাংলাদেশ খ্রীষ্টান অ্যাসোসিয়েশন’সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠন এ বোমা হামলার বিচার দাবি করে আসছে।

[৪] বাংলাদেশ খ্রীষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিওর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি’ ক্রুজ ওএমআই, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মহাসচিব রানা দাশগুপ্ত, ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং এমপি, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, ঢাকা ক্রেডিটের প্রেসিডেন্ট পংকজ গিলবার্ট কস্তা প্রমুখ।

[৫] হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘২০০১ সালে এবং ২০১৬ সালে হত্যাযজ্ঞ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে মৌলবাদী নৃশংসতা দেখেছি। হলি আর্টিসান ঘটনার পূর্বে এসব মৌলবাদী ঘটনা ঘটার পর আমরা সরকারের নজরে আনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সরকার নিস্ক্রিয় ছিল। সরকারকেই এ মৌলবাদের মূল উপরে ফেলতে হবে।’

[৬] নির্মল রোজারিও বলেন, ‘২০০১ সালের ৩ জুন বানিয়ারচর বোমা হামলা ও ২০১৬ সালের ৫ জুন সুনীল হত্যা দুটিই করেছে জঙ্গিরা। জঙ্গিরা আন্তর্জাতিক মহলে তাদের শক্তির জানান দিতেই এ হত্যাকান্ডসহ নানা ধরনের জঙ্গি হামলা চালিয়েছে। যদিও সুনীল গমেজের হত্যাকারীরা অন্য একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। কিন্তু ২০ বছর পরও বারবার দাবি জানানোর পরও আমরা বানিয়ারচর বোমা হামলার কোনো বিচার পাইনি।’

[৭] তিনি বলেন, ‘এখনো বানিয়ারচর বোমা হামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়নি। জঙ্গিদের এসব অপরাধের বিচার না হলে অপরাধ অব্যাহতই থাকবে। এত বছর পরও বানিয়ারচর বোমা হামলার বিচারের জন্য আন্দোলন করতে হয়।’

[৮] অনুষ্ঠানে আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি’ ক্রুজ বলেন, ‘২০০১ সালে বোমা হামলা করে বানিয়ারচরের নিরীহ ১০ জন খ্রিষ্টভক্তকে মেরে ফেলা হয়েছে। ২৬ জন মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছেন। ২০১৬ সালে সুনীল গমেজকে হত্যা করা হয়েছে। একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্র বানানোর পায়তারা এটি। সরকারকে সাম্প্রদায়িক অধিকার সংক্ষণ করতে হবে।’

[৯] বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, আমরা দায়মুক্তির সংস্কৃতির কথা বলি নানা ধরনের হত্যা সম্পর্কে, কিন্তু বানিয়ারচর হামলা নিয়ে কিছুই বলা হয়নি, তাই আজও বানিয়ারচর হামলা নিয়ে দাবি জানাতে হয়। বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল হয়নি। জঙ্গিরা বাংলাদেশকে মৌলবাদী রাষ্ট্র বানাতে চায়। এমনকি মুক্তিযুদ্ধে অবদানকারী দল সরকার গঠনের পরও হামলা হয়েছে।’

[১০] মেনন বলেন, ‘মৌলবাদ সমর্থন না পেলে হেফাজতের মতো দল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের উপর বা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমন উপলক্ষে তান্ডব চালাতে পারতো না।’

[১১] বক্তব্য রাখেন জুয়েল আরেং এমপি, গ্লোারিয়া ঝর্ণা সরকার এমপি, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মহাসচিব রানা দাশগুপ্ত, ঢাকা ক্রেডিটের প্রেসিডেন্ট পংকজ গিলবার্ট কস্তা, আমেরিকার বিসিএ প্রেসিডেন্ট দিলীপ গমেজ, মানবাধিকার কর্মী সঞ্জিব দ্রং, বিসিএ’র যুগ্ম মহাসচিব জেমস সুব্রত হাজরা, বনপাড়ার বিসিএ শাখার জেনারেল সেক্রেটারি জেমস রোজারিও, বাংলাদেশ বুড্ডিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দা প্রিয় মহাথের প্রমুখ।

[১২] উল্লেখ্য, ২০০১ সালে গোপালগঞ্জ জেলার মোকসুদপুর থানাধীন বানিয়ারচর ক্যাথলিক চার্চে রবিবাসরীয় খ্রিস্টযাগ চলাকালীন জঙ্গিদের নৃশংস বোমা হামলায় ১০ জন নিরীহ খ্রিস্টভক্ত নিহত ও ২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছিল।

[১৩] গত ৫ জুন ২০১৬ সালে আততায়ীর হাতে নিহত হন নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ার সুনীল গমেজ। নিজ বাড়ির সামনে তার মুদি দোকানে এসে তিনজন মোটর সাইকেলধারী সুনীলকে নিষ্ঠুরভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

 

 

সর্বাধিক পঠিত