প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জলাবদ্ধতা নিরসনে সার্বিক পরিকল্পনা জনগণকে অবহিত করে বরাদ্দ বাড়াতে হবে: ইকবাল হাবিব

আব্দুল্লাহ মামুন: [২] নগরপরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি ইকবাল হাবিব আরও বলেন, ৯০ দশক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নগরের পুরো কার্যক্রমের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেমন; ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ধরা হয়েছে, ৪৫- ৫০ শতাংশ রান অফ ওয়াটার হবে বাকি পানি মাটির নিচে চলে যাবে। তবে গত ৩০ বছরে ঢাকা নগরের সর্বত্রই অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। ২-৩ কাঠার প্লটে যেমন পুরো ঢাকা তেমনি ২০-২৫ কাঠার প্লটেও ৯০-১০০ ভাগ ঢাকা, রাস্তা ঘাটে গাছ নেই অর্থাৎ সবুজের আচ্ছাদন নেই বললেই চলে।

[৩] গত ২০ বছরে নগরীতে সবুজের আচ্ছাদন ৩৭ শতাংশ কমেছে, সবকিছু মিলিয়ে রান অফ ওয়াটার আগের তুলনায় বেড়ে ৭০ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ আমরা যে পরিকল্পনায় এগুচ্ছি বা এগিয়েছি এটি যদি শত ভাগ বাস্তবায়ন হতো তবুও জলজট থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই।

[৪] পুরো ব্যবস্থাটা খন্ডিত করে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, পনি উন্নয়ন বোর্ড এবং কোনো কোনো অংশের মালিক ভূমি মন্ত্রণালয় অধীনে থাকার কারণে এর সমন্বয় হচ্ছে না। এ বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর হচ্ছে খালগুলো এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গাগুলো হস্তান্তর প্রক্রিয়াই এখনও শেষ হয়নি। যার ফলে পুরো হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ করে একটি পরিকল্পিত উন্নয়ণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

[৫] এছাড়া পুরো ঢাকা জুড়ে মাত্র ১৭ শতাংশ ওয়াসার পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থার নেটওয়ার্ক আছে, মাত্র পাঁচটি শোধনাগার তৈরির বদলে একটি শোধানাগর তৈরি সম্পন্ন হওয়ার পথে। যারফলে ওয়াসার প্রতিশ্রুত নেটওয়ার্ক এবং শত ভাগ পয়:ব্যবস্থাপনার ২০ শতাংশও এগোয়নি। ফলে আমাদের পানি ও পয়:নিসৃত পানি মিশে বৃষ্টির পানির যে স্থল ড্রেনেজ সিস্টেম সেটি সম্পূর্ণ দূষিত হচ্ছে। ফলে আমাদের খালগুলোতে পচা গন্ধ, কটু গন্ধযুক্ত কালো পানিতে ভওে যাচ্ছে। সেই পানির প্রতি মানুষের কোনো সম্পৃক্ততা তৈরি হয় না বরং হাতের ময়লাটাও ওখানে ফেলে দেয়।

[৬] এই পুরো বিষয়ে জনসম্পৃক্ততার ক্ষেত্রেও আমাদের অসহায়ত্ব রয়েছে। এই মিক্সড সুয়েজ আমাদের পুরো ব্যবস্থাটাকে ভেঙে ফেলছে। গত পাঁচ বছরে এই কর্মসূচি গুলো এগোয়নি কেন তা তদন্ত করতে হবে। অন্যদিকে ওয়াসারও কোনো জবাবদিহিতা নেই।

[৭] সবকিছু মিলে আমাদের সত্যিকারের অর্জন হওয়ার সুযোগ অনেক সীমিত। অনেক প্রতিবন্ধকতা এখনও দূর করা যায়নি। তবে এ সময় স্থানিয় সরকার মন্ত্রীর নেতৃত্বে দুই সিটি কর্পোরেশন যতোটুকু পেরেছেন ততোটুকু সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। অর্থাৎ এবারই প্রথম ড্রেন, খালগুলোর আর্বজনা সরিয়ে তার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এরফলে পানি চুয়ে চুয়ে হলেও কয়েক ঘন্টা পর নেমে যাচ্ছে।

[৮] এটি একটি উন্নয়ন অর্থাৎ সমস্যাগুলো আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি এটি সত্য। কিন্তু খালগুলোর সক্ষমতা বাড়ালে হবে না নদী পর্যন্ত পানি পৌছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থাৎ পূর্বদিকে নদী পর্যন্ত পৌছাতে হবে ও পশ্চিম দিকে জলাধার পর্যন্ত পৌছে পাম্প মেশিন দিয়ে দ্রুত ফেলে দিতে হবে।

[৯] পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প লাগবে ২৫টি অথচ পাম্প কার্যকর আছে ৫ টি। ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পানি যাচ্ছে না অর্থাৎ এর দ্রুত সমাধান করতে হবে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে, এটি বিশাল একটি অর্জন। তবে সরকার কঠোর ভাবে এই জলাধার গুলোর প্রতিবন্ধকতা নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত।

[১০] এ ক্ষেত্রে আমাদের দাবি হচ্ছে, [ক] নদী কমিশন কর্তৃক ৬৫টি খালই উদ্ধার করতে হবে, ২৬ টা বা ৪২ টা নয়। [খ] এই সার্বিক পরিকল্পনা জনগণকে অবিহিত করে জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিতে বিনিয়োগ করতে হবে। [গ] নদী উচ্ছেদ অভিযানগুলোর রাজনৈতিক দৃঢ়তা নিশ্চিত করতে হবে কোনো বাঁধাকেই আমলে নেয়া যাবে না।

[১১] আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে কারণ রান অব ওয়াটারের পরিমাণ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি সবুজ আচ্ছন্ন জায়গার পরিমান বাড়ানোর জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় সংশোধন এনে একটি সার্বিক ইকো সিস্টেম পরিকল্পনা করতে হবে। তবে আমরা আগামী দুই তিন বছরে বড় কোনো উত্তরণে যেতে পারবো। সম্পাদনা: মেহেদী হাসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত