প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] য‌শো‌রের লেবুতলার বিষমুক্ত সব‌জি যা‌চ্ছে মধ‌্যপ্রা‌চ্যে

র‌হিদুল খান : [২] যশোরের লেবুতলায় উৎপাদিত নিরাপদ সবজি যাচ্ছে ব্রুনাইসহ মধ্যপ্রাচ্যে। বিষমুক্ত এই সবজির মধ্যে রয়েছে করলা, পটল ও বেগুন। তবে, বিদেশে যাচ্ছে শুধুমাত্র করলা। লেবুতলা এলাকার ৫শ’ কৃষক ৩শ’ ২০ বিঘা (৪০ হেক্টর) জমিতে এই বিষমুক্ত সবজি চাষ করছেন। পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্প-আইপিএমের আওতায় যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা এলাকায় এসব সবজি চাষ হচ্ছে।

[৩] সদর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আইপিএম প্রকল্পের আওতায় লেবুতলায় ২শ’ ৫৬ বিঘা জমিতে করলা, ৩২ বিঘা জমিতে পটল ও ৩২ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ হয়েছে। এখানে উৎপাদিত করলা দেশের বাইরে যাওয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ১শ’ কেজি করলা পাঠানো হয়েছে ব্রুনাইয়ে। মধ্যপ্রাচ্যে গেছে আরও ৪০ কেজি। পর্যায়ক্রমে বিদেশে আরও পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

[৪] বিদেশে যাওয়ার পাশাপাশি দেশি বাজারে বিক্রি হচ্ছে লেবুতলায় উৎপাদিত এই নিরাপদ সবজি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিমধ্যে আনুমানিক ৫০ মেট্রিকটন করলা সরবরাহ করেছেন প্রকল্পভুক্ত চাষিরা। একইসাথে পটল ও বেগুন যশোরের স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে, নিরাপদ এই সবজি বিক্রির যুতসই কোনো বাজার নেই। যে কারণে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।

[৫] কৃষি অফিসের নিবিড় তদারকির মাধ্যমে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছেন প্রশিক্ষিত চাষিরা। বিভিন্ন সময় কৃষি কর্মকর্তারা আইপিএমভুক্ত সবজি চাষ পরিদর্শন করছেন। তারই অংশ হিসেবে শনিবার সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে নিরাপদ সবজি উৎপাদন পরিদর্শন করা হয়। এ সময় তার সাথে ছিলেন উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব হোসেন, জনাব আলী ও আরিফ হোসেন। তারা করলা খেত পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় প্রকল্পের অধীন শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।

[৬] আইপিএম প্রকল্পভুক্ত চাষিরা জানান, তারা কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মেনে বিষমুক্ত সবজি চাষ করছেন। কিন্তু সেইভাবে বাজারজাত করতে পারছেন না। তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন চাষিরা। তাদের বক্তব্য, বিশেষ বাজারের ব্যবস্থা থাকলে অন্যান্য সবজির তুলনায় তাদের নিরাপদ সবজি বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব। আর এটি হলে চাষি তুলনামূলক লাভবান হবেন।

[৭] এ বিষয়ে যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘নিরাপদ সবজি উৎপাদনে তারা নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন। যেহেতু এখানে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে যাচ্ছে এ কারণে কোনোরকম কীটনাশক যাতে ব্যবহার না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে কৃষি বিভাগ। কোনোভাবেই যশোর তথা দেশের সুনাম যেন নষ্ট না হয় সেবিষয়ে কৃষককে বারবার তাগাদা দেয়া হচ্ছে।’ কৃষি অফিসার বলেন, বড় বড় শপিংমলগুলো বিষমুক্ত সবজি বিক্রির ব্যবস্থা করলে অনেক ভালো হতো। উৎসাহিত হতো চাষি। ভবিষ্যতে এদিকেও গুরুত্ব দেয়া হবে। সম্পাদনা: সাদেক আলী

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত