প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের আশংকায় নেয়া হয়েছে পূর্ব প্রস্তুতি

চৌধুরী হারুনুর রশীদ: [২] অবিরাম বৃষ্টিপাত হলেই রাঙামাটিতে জনমনে তৈরি হয় পাহাড়ধসের শঙ্কা। পাহাড় ধসের জেলা প্রশাসন দূর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতি বিষয়ে জরুরী সভার আয়োজন করা হয়েছে।

[৩] রোববার (৬ জুন্য) সকাল ১১ ঘটিকা হতে দুপুর সাড়ে ১২ ঘটিকায় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

[৪] আসন্ন বর্ষা ইতোমধ্যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তাই পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ লোকজন। ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বারবার সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে তাদেরকে। বৃষ্টি হলেই পূর্ব সতর্কবার্তা জারি করে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। রোববার রাত থেকে হালকা-মাঝারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় সোমবারও মাইকিংয়ে সকর্তবার্তা প্রচার করা হয়েছে শহরে।

[৫] জেলা প্রশাসন জানায়, রাঙামাটিতে এখনও যারা পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে, তাদেরকে নিরাপদে সরে যেতে বলা হচ্ছে। পাহাড় ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু এরপরও যদি নির্দেশ অমান্য করে কেউ ঝুঁকিতে বসবাস করে তাদেরকে নিরাপদে যেতে বাধ্য করা হবে।

[৬] চম্পক নগর এলাকায় ঝুকিপূর্ণ ব্রীক ওয়াল ওপর ছালের বৃষ্ট্রির পানিতে যে কোনো মুর্হূতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটানোর আশংকা করা হচ্ছে । এই বিষয়ে রাঙামাটি পৌরসভার প্রকৌশলী ও শহর পরিকল্পনাবিদ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়াল সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ প্রদান করেন। একই এলাকায় ১৩ জুন ২০১৭ সালে পরিবার পরিকল্পনা নতুন ভবনের আরসিসি ওয়াল বৃষ্টির পানি পড়ে ধসে ভেঙ্গে যায়। তার আগে একই এলাকায় মরহুম গাজী মোঃ ডা. মহসিন কাচা ঘরে পাশে মাটি ধসে ১ মহিলার মৃত্যু হয়।

[৭] সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, বর্তমানে শহরসহ আনাচে-কানাচে ১০ হাজারের অধিক পরিবারের মানুষ বসবাস করছে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে। এসব এলাকায় প্রবল বর্ষণে যে কোনো মুহূর্তে ২০১৭ সালের ১৩ জুনের ভয়াল পাহাড় ধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। শহরের শিমুলতলী, ভেদভেদি মুসলিমপাড়া, চম্পক নগর, রুপ নগর, টেলিভিশন সেন্টার এলাকা, রেডিও ষ্টেশন, যুব উন্নয়ন এলাকা, রাঙাপানি, তবলছড়ি ও মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকাসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশনা দিয়ে আসছে জেলা প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসে বিধিনিষেধ জারি করে সাইনবোর্ড স্থাপন ও লিফলেট বিতরণসহ সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু তবু নিরাপদে সরছে না মানুষ। সদরের বাইরে জেলার কাপ্তাই, কাউখালী, বাঘাইছড়ি ও নানিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে বহু পরিবারের মানুষ।

[৮] দেখা গেছে, প্রতি বছর বর্ষণে যেসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পাহাড় ধসের দুর্যোগ ঘটে, সেসব এলাকায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লোকজন বসবাস করে আসছে। আবার অনেক জায়গায় ধসে যাওয়া পাহাড়ি ভূমি বিক্রিও হচ্ছে। এসব জায়গা কিনে মেরামত করে তৈরি করা হচ্ছে স্থাপনা। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠছে জনবসতি। চম্পক নগর এলাকায় বৃষ্টির পানিতে রাঙামাটি পরিবার পরিকল্পনা অফিসের নতুন ভবনের বিশাল আর সিসি ওয়াল ধসে পড়েছিল। বর্তমান একই এলাকায় বিশাল বিশাল ব্যক্তিগত ব্রীক ওয়াল ওপর বাড়ীর বৃষ্টি পানিতে ঝুকিপুর্ণ বিদায় ধসে পড়ার আশংকা রয়েছে ।

[৯] জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে বসবাসের নিষিদ্ধ করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেছি, সর্তক করা হয়েছে। তারপরেও যে কেউ যদি ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘর ছেড়ে সরে না যায়, তাদেরকে নিরাপদে সরে যেতে বাধ্য করা হবে। আমরা পাহাড়ধসে আর কোনো প্রাণহানি দেখতে চাই না। সামনে বর্ষা আসন্ন। যে কোনো সময়ে প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে। তাই আগেভাগে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে সচেতন হতে হবে। সচেতন হলে জানমাল রক্ষা সম্ভব হবে। বিকাল সাড়ে ৩ ঘটিকার পর সরেজমিনে পরিদর্শনে যাবেন জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান।

[১০] উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের দুর্যোগে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। পরবর্তী ২০১৮ সালের জুনে জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসে ২ শিশুসহ ১১ জন এবং ২০১৯ সালের জুনে জেলার কাপ্তাইয়ে তিন জনের প্রাণহানি ঘটে। প্রতি বর্ষায় পাহাড়ধসের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়ে পড়ের সেখানকার বহু মানুষ। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত