প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাউজানে মৃৎশিল্প বাচানোর চেষ্টা মন্টুর

কামরুল ইসলাম: [২] আধুনিকতার চাপে হারিয়ে যেতে বসা অনেক নিত্য ব্যবহায্য বস্তুর মধ্যে মাটি তৈরি জিনিষপত্র অন্যতম। স্বাশ্বত বাংলার মৃৎশিল্প হিসাবে খ্যাত এই শিল্পকে যারা এখনো ঠিকিয়ে রাখার মরণপন চেষ্টা করছেন তাদের মধ্যে একজন রাউজানের মন্টু রুদ্র পাল। তিনি এখনো চেষ্টা করে আসছেন পূর্বপুরুষদের কর্মকে হাতিয়ার করে যুগে যুগে বেঁচে থাকতে। এমন স্বপ্ন ও সাধনায় দীর্ঘ ২৫বছর ধরে কাজ করছেন মন্টু রুদ্র পাল।

[৩] এই মৃৎশিল্পি বাপদাদার বিদ্যাকে রপ্ত করে বংশপরম্পরায় নিজেদের এই শিল্পকর্ম যুগে যুগে ঠিকিয়ে থাকুক তার মনের মধ্যে এমন আকুতি প্রকাশ পেলেও, হতাশ কন্ঠে জানালেন আধুনিকতার জোয়ারে মৃৎশিল্পকে যেভাবে ভেসে নিয়ে ধংস করে দিয়েছে। তাতে এই শিল্পের আর ভবিষৎ দেখছেন না। তার মতে বাপ দাদার সাধনাকে হাতেকড়ি করে যারা এখনো এই শিল্পকে ঠিকিয়ে রেখেছেন তারা চলে গেলে এই প্রজন্মের কোনো সন্তান এই কাজে উৎসাহিত হবে না।

[৪] সম্প্রতি রাউজান সদর ইউনিয়নের কেউটিয়া গ্রামের কুলাল পাড়ায় গিয়ে দেখা যায় মৃৎশিল্পী মন্টু রুদ্রপালের জীবন যুদ্ধ। এই পাড়ার অনেকেই আগে পেশা ছেড়ে ভিন্ন ভিন্ন পেশায় চলে গেলেও মন্টুদের মতো কেউ কেউ আছেন এখনো বাপ দাদার পেশা আঁকড়ে ধরে।

[৫] জানা যায়, মৃৎশিল্পী মন্টুর দাদা অভয়াচরণ পাল, বাবা গোপাল পাল ছিলেন এই পাড়ার খ্যতিমান মৃৎশিল্পি। তাদের হাতে তৈরি মাটি জিনিষপত্রের কদর ছিলো গোট চট্টগ্রাম জুড়ে। মন্টু রুদ্রও তাদের উত্তরসুরী হিসাবে কাজ করছে এখনো ঠিকে আছেন মৃৎশিল্পের বাজারে। মন্টুর তৈরি মাটির বাসন, হাড়ি, পালিত, কলসি, ফুলের টব, সনাতন ধর্মাবলম্বিদের পূজায় ব্যবহৃত মাটির উপকরণ বেশ চাহিদা রয়েছে। এসব বিক্রি করে এখন তার জীবন চলে।

[৬] মৃৎশিল্পিী জীবনযুদ্ধের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সারাদিন এই কাজের মধ্যে ডুবে থেকে যতোটুকু আয় হয়, সেটুকু দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। বাড়তি সন্তুষ্টি শুধু একটাই এই কাজে থেকে নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলতে পাচ্ছি। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত